অসমে বৈধ নাগরিক পঞ্জি (এনআরসি)-র প্রথম খসড়া প্রকাশের পরেই দুশ্চিন্তায় পশ্চিমবঙ্গ সরকার। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘনিষ্ঠ মহলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, এর পরে অসমে বসবাসকারী বাঙালিদের উপরে আক্রমণের ঘটনা ঘটতে পারে। এবং সে ক্ষেত্রে সে রাজ্য থেকে বহু বাঙালি ভয় পেয়ে এ রাজ্যে চলে আসতে পারেন। এই পরিস্থিতিতে আজ, বুধবার সংসদে তৃণমূল সাংসদদের সরব হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। প্রয়োজনে বিষয়টি নিয়ে আন্দোলনেও নামবে দল।

এনআরসি নিয়ে মমতার আক্রমণের লক্ষ্য বিজেপি। এর আগে ব্যাঙ্কিং বিলের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে তৃণমূল। মেডিক্যাল কমিশন বিল নিয়েও কেন্দ্রের শাসক দলের বিরুদ্ধে সরব তারা। কিন্তু তাৎক্ষণিক তিন তালাক বিলের বিষয়ে তৃণমূল মুখে কুলুপ এঁটে ছিল। কেন তৃণমূল এই বিলের বিরোধিতা করল না, তা নিয়ে সংখ্যালঘুদের একাংশ প্রশ্নও তুলেছে। এই পরিস্থিতিতে এনআরসি-র বিরোধিতা করে মমতা আসলে সংখ্যালঘুদেরই বার্তা দিতে চাইছেন বলে অনেকের ধারণা। যদিও তা মানতে নারাজ তৃণমূলের একাংশ।

এনআরসি-র প্রথম খসড়ায় অসমবাসী এক কোটিরও বেশি মানুষের নাম নেই। এঁদের একটা বড় অংশই সংখ্যালঘু। তাঁরা বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী বলেই দাবি বিজেপির। ফলে নাগরিকত্ব যাচাইয়ের প্রক্রিয়া এখনও অনেক বাকি বলে প্রশাসনের তরফে জানানো হলেও নাম-না-থাকাদের উদ্বেগ কাটছে না। মুখ্যমন্ত্রী ঘনিষ্ঠ মহলে জানিয়েছেন, ১৯৭১ সালের পর এ দেশে আসা মানুষদের এ ভাবে হয়রান করার কোনও মানে হয় না। অসমে যা শুরু হয়েছে, তার প্রতিক্রিয়া অন্য রাজ্যেও হতে পারে বলে মমতার আশঙ্কা। যাতে বাঙালিরাই বিপদে পড়বেন। বাঙালিদের বিপদে ফেলা হলে তার বিরোধিতা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

তৃণমূল সূত্রে বলা হচ্ছে, অসমের পরিস্থিতি নিয়ে আশঙ্কার কথা বলে মমতা আসলে এ রাজ্যের বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী আট জেলার মানুষদের নিরাপত্তার বার্তা দিতে চান। ১৯৭১ সালের পরে এ দেশে আসা মানুষের বড় অংশ এই সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে বসবাস করছেন। তাঁদের অধিকাংশই সংখ্যালঘু। ঘটনাচক্রে তাঁরা তৃণমূলের পোক্ত ভোটারও। তাঁদের কাছে এই বার্তা স্বস্তির বলে মনে করছেন অনেকে। যখন উলুবেড়িয়া, নোয়াপাড়ার উপনির্বাচন এবং পঞ্চায়েত ভোট শিয়রে, তখন মুখ্যমন্ত্রীর এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে আসলে পাকা মাথার চাল বলে মনে করা হচ্ছে।