তিনি গুরুতর অসুস্থ। তাই কোনও ভাবেই কলকাতায় এসে হাজিরা দিতে পারবেন না বলে কলকাতা পুলিশকে জানিয়ে দিলেন নারদ কর্তা ম্যাথু স্যামুয়েল। মুচিপাড়া থানা থেকে একটি মামলায় তাঁকে সমন পাঠানো হয়েছিল। বুধবার ওই জবাব এসেছে তদন্তকারী অফিসারের ই-মেলে।

ম্যাথুর ঘনিষ্ঠ সূত্রে খবর, চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী তিনি দু’মাসের সম্পূর্ণ বিশ্রামে রয়েছেন। সমস্ত মেডিক্যাল রিপোর্টও তিনি ই-মেলে পাঠিয়ে দিয়েছেন। দিল্লি হাইকোর্টেও কয়েকটি মামলায় তিনি সাক্ষ্য দিচ্ছেন। ওই সব মামলার সমনের জবাবেও সময় চেয়ে শারীরিক অসুস্থতার রিপোর্ট পেশ করেছেন নারদ কর্তা।

ম্যাথুর পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, মাস দুয়েক আগে তাঁর দু’বার অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। তিনি ডায়াবেটিস-এ আক্রান্ত। ম্যাথুর স্নায়ু সংক্রান্ত জটিল সমস্যাও রয়েছে। তিনি প্রায় শয্যাশায়ী। ঠিক মতো চলাফেরা করতে পারেন না। হাঁটার সময়ে দু’পাশ থেকে ধরে থাকতে হয়। দিনের বেলাতেও অন্তত ঘণ্টা ছ’য়েক ঘুমোনোর পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকেরা।

সপ্তাহ খানেক আগে সিবিআইয়ের সদর দফতরে টানা পাঁচ ঘণ্টা ম্যাথুকে জেরা করা হয়। সিবিআইয়ের এক অফিসার জানিয়েছেন, ওই দিন তিনি আধশোয়া অবস্থায় বালিশে মাথা রেখে তদন্তকারীদের প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন।

আরও পড়ুন...
নারদ তদন্তে এ বার পরীক্ষা গলার স্বরের

ম্যাথুর তোলা গোপন ভিডিও নিয়ে উত্তাল রাজ্য রাজনীতি। মন্ত্রী-সাংসদদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছে সিবিআই। বদলা নিতে তাঁকে কলকাতা পুলিশ বিভিন্ন মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছেন ম্যাথু। মাস দু’য়েক আগে কলকাতার একটি হোটেলে অভিযান চালায় কলকাতা পুলিশ। তার পরে অভিযোগ করে, বিহারের এক প্রাক্তন সাংসদকে হুমকি দিয়ে টাকা তোলার চেষ্টা করা হচ্ছিল কলকাতার ওই হোটেল থেকে। ওই মামলাতে ম্যাথুকেও জড়ায় পুলিশ। এর মাঝে ম্যাথুর গাড়িচালককে কলকাতায় ডেকে এনে জেরা করে পুলিশ। ডাকা হয়েছিল ম্যাথুকেও। শুক্রবার তাঁর মুচিপাড়া থানায় হাজিরা দেওয়ার কথা ছিল। 

সেই মামলার তদন্তকারী অফিসারকে পাঠানো ই-মেলে আরও মাস দু’য়েক সময় চেয়েছেন ম্যাথু। বৃহস্পতিবার ম্যাথুর সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘‘আমার শরীর খুবই খারাপ। এক জন সাংবাদিক হিসেবে আমি স্টিং-অপারেশন করেছিলাম। কিন্তু রাজ্য সরকার একের পর এক মিথ্যা মামলা সাজিয়ে আমাকে হয়রান করার চেষ্টা করছে।’’ ম্যাথু জানান— শুধু তিনি নন, তাঁর এক সহকর্মীকেও সমন পাঠিয়েছে কলকাতা পুলিশ।