ফের কংগ্রেসের সঙ্গে সন্ধির ইঙ্গিত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। প্রথমে তৃণমূল অফিসে দলীয় বৈঠকে কংগ্রেস সম্পর্কে আক্রমণাত্মক না হওয়ার বার্তা গোটা দলকে। তার পর বিধানসভায় কংগ্রেসের আসনের দিকে এগিয়ে গিয়ে বিরোধী দলনেতা আবদুল মান্নানের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেওয়া। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শুক্রবার স্পষ্ট বুঝিয়ে দিলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কংগ্রেসের কাছাকাছি আসার যে পথ তিনি ধরেছেন, তা শুধু জাতীয় রাজনীতিতে সীমাবদ্ধ থাকছে না, রাজ্য রাজনীতিতেও তিনি একই সমীকরণ গড়তে উৎসাহী। বিজেপি এবং সিপিএম-এর বিরুদ্ধে কিন্তু লড়াই আরও জোরদার করতে দলকে নির্দেশ দিয়েছেন মমতা।

শুক্রবার তৃণমূলের গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক বৈঠক ছিল। বৈঠকে দলের কোর কমিটির সদস্যরা তো ছিলেনই। মন্ত্রী, সাংসদ, বিধায়ক, জেলা পরিষদের সভাধিপতি, পুরসভার চেয়ারম্যান-সহ বিভিন্ন স্তরের জনপ্রতিনিধিরাও আমন্ত্রিত ছিলেন। ছিলেন দলের বিভিন্ন শাখা সংগঠনের শীর্ষ নেতারাও। বৈঠকে দলনেত্রীর স্পষ্ট নির্দেশ, বিজেপি এবং সিপিএমের বিরুদ্ধে আক্রমণের ঝাঁঝ আরও বাড়াতে হবে। মাঠে-ময়দানে শুধু নয়, সোশ্যাল মিডিয়াতেও তৃণমূলের বিরুদ্ধে প্রচার তীব্র করেছে বিরোধীরা। সব আক্রমণের জবাব দিতে হবে দলকে, নির্দেশ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের।

বিজেপি এবং সিপিএম-এর বিরুদ্ধে দলকে সব স্তরে সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দিলেও, কংগ্রেসের বিরুদ্ধে সুর চড়ানোর কথা কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেননি। বরং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্পষ্ট বার্তা— কংগ্রেসের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক হওয়ার প্রয়োজন নেই, কংগ্রেসের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টা তাঁর উপরেই ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তৃণমূলনেত্রী।

কংগ্রেসকে আর আক্রমণ নয়, সর্বাত্মক লড়াই শুরু হোক বাম-বিজেপির বিরুদ্ধে। দলীয় বৈঠকে শুক্রবার এমনই বার্তা মমতার। ছবি: পিটিআই।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই রাজনৈতিক বার্তা কিন্তু শুধুমাত্র দলীয় বৈঠকে সীমাবদ্ধ থাকেনি। বিধানসভাতেও এ দিন একই ছবি দেখা গিয়েছে। এ দিন সভা বসার পর শোক প্রস্তাব পাঠ শেষ হতেই মুখ্যমন্ত্রী নিজের আসন ছেড়ে এগিয়ে যান কংগ্রেসের আসনের দিকে। বিরোধী দলনেতা আবদুল মান্নানের কাছে গিয়ে তাঁর শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন। কংগ্রেসের অন্য বিধায়কদের সঙ্গেও কথাবার্তা বলেন। মুর্শিদাবাদের বড়ঞার কংগ্রেস বিধায়ক প্রতিমা রজক এ দিন সভায় না থাকায়, তাঁর বিয়ের উপহারও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তুলে দেন কংগ্রেস বিধায়কদের হাতেই। বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রীর এই ভূমিকায় বেশ অবাক কংগ্রেস বিধায়কদের অনেকেই। তবে রাজনৈতিক শিবির বলছে, মমতার এই পদক্ষেপ মোটেই কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। সনিয়া গাঁধীর সঙ্গে বৈঠক করে ফেরার পর থেকে এ রাজ্যে কংগ্রেসকে আবার বন্ধুত্বের বার্তাই দিতে চাইছেন তৃণমূলনেত্রী। দলীয় বৈঠকে সে বার্তা স্পষ্ট করেই দিয়েছেন। আর বিধানসভায় নিজের আচরণে বুঝিয়ে দিতে চেয়েছেন।

আরও পড়ুন: প্রভাবশালী তত্ত্ব খারিজ, শর্তাধীন জামিন সুদীপের

একাধিক তৃণমূল নেতা বিভিন্ন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার নজরে রয়েছেন। সে প্রসঙ্গেও এ দিন নিজের বার্তা খুব স্পষ্ট করেই দলের সামনে রেখেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুধু তৃণমূল নেতাদের নয়, কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলিকে সব বিরোধী দলের নেতাদেরই হয়রান করার চেষ্টা চলছে, মন্তব্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সনিয়া গাঁধী, রাহুল গাঁধী, মনমোহন সিংহ, পি চিদম্বরম, মায়াবতী— কার নাম নেই সে তালিকায়? প্রশ্ন তোলেন তৃণমূলনেত্রী। যে হেতু সব বিরোধী দলকেই হয়রান করার চেষ্টা চলছে, সে হেতু তৃণণূল কর্মী-সমর্থকদের ভয় পাওয়ার কোনও কারণ নেই— বার্তা নেত্রীর। বিভিন্ন দলকে সঙ্গে নিয়েই যে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই তীব্র করা হবে, সে ইঙ্গিত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ দিন ফের দিয়েছেন।