দলের প্রতিষ্ঠা দিবসে নিজের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার কাজ অনেকটাই সেরে ফেললেন বিনয় তামাঙ্গ। শনিবার দিনভর দার্জিলিং, কালিম্পং ও কার্শিয়াঙের ছবি অন্তত তেমনটাই বলছে। দার্জিলিঙের মোটর স্ট্যান্ডে বিনয়ের সভায় উপচে পড়া ভি়ড়ে হাজির ছিলেন গুরুঙ্গ ঘনিষ্ঠ যুব নেতা সতীশ পোখরেল, দীনেশ গুরুঙ্গ। কার্শিয়াঙে অনীত থাপার পাশে দেখা গেল গুরুঙ্গ ঘনিষ্ঠ মোর্চা বিধায়ক রোহিত  শর্মাকে। কালিম্পঙে দলের অফিস থেকে বিমল গুরুঙ্গের ঢাউস ছবি নেতা-কর্মীরা মিলে সরিয়ে দিলেন। তারই মধ্যে প্রশ্নটা ঘুরে ফিরেই উঠেছে, পাহাড়ের রাজনীতিতে কি তবে একেবারেই অপ্রাসঙ্গিক হয়ে গেলেন বিমল গুরুঙ্গ?

আরও পড়ুন: পুলিশি পাহারায় দিলীপের নামচি সফর নির্বিঘ্নেই

এ দিন দার্জিলিঙের মোটর স্ট্যান্ডে বিনয় বললেন, ‘‘পাহাড়ে আর কোনও বন্‌ধ হবে না। বাসিন্দাদের অসুবিধা করে আর কোনও আন্দোলন হবে না। কেউ যদি হুমকি দেয়, ভয় দেখায় তাতেও ঘাবড়াবেন না। আমি আপনাদের পাশে আছি।’’ তবে একই সঙ্গে  গোর্খাল্যান্ডের দাবিই যে তাঁর কাছে প্রধান তাও বুঝিয়ে দিয়েছেন। গুরুঙ্গের সঙ্গে তাঁর পার্থক্য বোঝাতে বিনয় বলেন, ‘‘গোর্খাল্যান্ড আমার স্বপ্ন। তবে পাহাড়ের কেউ কষ্টে থাকুক তা চাই না। তাই উন্নয়নও প্রয়োজন। তাই জিটিএ-র দায়িত্ব নিয়েছি।’’

বিনয়ের এই বক্তৃতা যখন চলছে, তখন পাতলেবাস এলাকায় মাইক নিয়ে পুলিশকে বারবার ঘোষণা করে, ‘‘আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে, তাই বিমল গুরুঙ্গ যত দ্রুত সম্ভব আত্মসমর্পণ করুন।’ শনিবার থেকেই গুরুঙ্গকে আত্মসমর্পণ করার জন্য প্রকাশ্যে ঘোষণা শুরু করেছে পুলিশ। নেতা অন্তরালে। তাই গুরুঙ্গ অনুগামীরা যে যাঁর এলাকায় এক রকম নিঃশব্দেই পালন করেন দলের প্রতিষ্ঠা দিবস।

গুরুঙ্গের এই কোণঠাসা অবস্থাতে অবশ্য ফের তাঁর পাশে দাঁড়ালেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। রায়গঞ্জে তিনি বলেন, ‘‘গুরুঙ্গ এখনও প্রাসঙ্গিক। তাঁকে ছাড়া পাহাড় নিয়ে আলোচনা হতে পারে না।’’ তিনি প্রশ্ন তুলেছেন গত তিন মাসে পাহাড়ে নানা ঘটনায় অভিযুক্ত হলেও কেন বিনয়-অনীতদের ধরা হচ্ছে না? তাঁর বক্তব্য, ‘‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার গুরুঙ্গ-সহ পাহাড়ের আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দেশদ্রোহিতা, সরকারি সম্পত্তি নষ্টের মামলা দায়ের করেছে। অথচ একই অপরাধে বিনয় ও অনীতকে গ্রেফতার না করে তাঁদের সঙ্গে পাহাড় নিয়ে বৈঠক করছে। বিভেদ ছড়িয়ে পাহাড় দখল করাটাই তৃণমূলের লক্ষ্য।’’

গুরুঙ্গ এখনও প্রাসঙ্গিক কি না সেই প্রশ্নে পর্যটনমন্ত্রী গৌতম দেবের মন্তব্য, ‘‘অনেক দিন পাহাড়ে ভয়ভীতির রাজনীতি হয়েছে। তা আর চলবে না। যাঁরা শান্তিকামী তাঁদের সঙ্গেই তো আলোচনা হয়।’’

এরই মধ্যে গোর্খাল্যান্ডের দায় কৌশলে বিনয় চাপিয়ে দিয়েছেন কেন্দ্রের ওপরেই। তিনি জানিয়েছেন, সংসদের শীতকালীন অধিবেশনে গোর্খাল্যান্ডের বিল পেশ না হলে দিল্লি গিয়ে আন্দোলন করবেন। দলের রাশ হাতে নেওয়ার পর বিমলের থেকে গোর্খাল্যান্ডের আন্দোলনের পতাকা কেড়ে নিতেই বিনয়ের এই ‘লাইন’ বলে মনে করছেন পাহাড়ের নেতারা।