যাত্রাপথ বদল করায় খরচ বাড়ল এক হাজার কোটি! কিন্তু শেষ পর্যন্ত মূল উদ্দেশ্যই ধাক্কা খেতে চলেছে ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রোর।

নতুন রুটে মাটির উপরে ঘিঞ্জি বসতি এলাকা থাকায় শিয়ালদহ থেকে এসপ্ল্যানেড পর্যন্ত কম-বেশি তিন কিলোমিটার রাস্তায় কোনও স্টেশন তৈরি করতে পারছে না মেট্রো। ফলে ওই বিরাট অঞ্চলের মানুষ এই মেট্রো পরিষেবার সুবিধা আদৌ পাবেন কি না, তা নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে। ইস্ট-ওয়েস্ট ও রেলের কর্তাদের একাংশ মনে করেন, এই বিষয়টি নকশা তৈরির সময়েই ভাবা উচিত ছিল।

বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে এই প্রকল্পের অন্যতম অর্থ লগ্নিকারী সংস্থা জাইকা-ও। মেট্রো রেল কর্তাদের একাংশের বক্তব্য, শহরাঞ্চলে এই ধরনের ভূগর্ভস্থ পরিবহণের ক্ষেত্রে দুই স্টেশনের মধ্যবর্তী দূরত্ব ৮০০ মিটার থেকে ১.২ কিলোমিটারের মধ্যে হওয়াটাই কাম্য। সেটাই আন্তর্জাতিক স্তরে স্বীকৃত। সেখানে দাঁড়িয়ে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে শিয়ালদহ থেকে এসপ্ল্যানেড পর্যন্ত তিন কিলোমিটার দূরত্বে ইস্ট-ওয়েস্টের কোনও স্টেশন না থাকাটা যাত্রীদের পক্ষে খুবই অসুবিধাজনক হবে বলে মনে করেন তাঁরা।

ইস্ট-ওয়েস্ট কর্তৃপক্ষ আগে সুবোধ মল্লিক স্কোয়ারে একটি স্টেশন তৈরির পরিকল্পনা করেছিলেন। কিন্তু সূত্রের খবর, জায়গার অভাবে এখন ওই পরিকল্পনাও ভেস্তে গিয়েছে। সেই জায়গায় এখন সুড়ঙ্গে বাতাস ঢোকানোর জন্য একটি ‘ভেন্ট’ তৈরি করা হচ্ছে। ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রো প্রকল্পের
কর্তারা কেউ কেউ বলছেন, ওই পথে প্রয়োজনে আপৎকালীন সময়ে যাত্রীদের বার করারও সুযোগ থাকছে।

রেলকর্তারা বলছেন, এত দিন ধরে জমি নিয়ে টানাপড়েন আর মামলায় কাজ আটকে ছিল। তার পরে যখন রাজ্য সরকারের প্রস্তাবিত নতুন রুটে কাজ শুরুর কথা হল, তখনই বিষয়টি ভাবা উচিত ছিল ইস্ট-ওয়েস্ট কর্তাদের। রেলের প্রাক্তন কর্তা সুভাষরঞ্জন ঠাকুর বলেন, ‘‘বিশ্বের যে সব দেশে এই ধরনের পরিবহণ ব্যবস্থা তৈরি করা হয়েছে, সেখানে প্রাথমিক শর্তই হল, যতটা সম্ভব বেশি মানুষকে এই পরিবহণের আওতায় আনা। এ ক্ষেত্রে অতিরিক্ত বহু টাকা খরচ করা হলেও অনেক মানুষ এই পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হবেন।’’

পুরনো পথে ইস্ট-ওয়েস্ট গেলে শিয়ালদহ থেকে মহাকরণের মধ্যে দু’টি স্টেশন করার পরিকল্পনা ছিল। শিয়ালদহ, বৌবাজার, সেন্ট্রাল হয়ে মহাকরণ। সে ক্ষেত্রে বিরাট অংশের মানুষ এই মেট্রোয় সহজেই চড়তে পারতেন। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে (নতুন রুটে) শিয়ালদহ অথবা এসপ্ল্যানেডে গিয়ে ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রোয় চড়তে হবে।

ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রো প্রকল্পের কর্তারা জানিয়েছেন, দ্বিতীয় পর্যায়ে শিয়ালদহ থেকে হাওড়া ময়দান পর্যন্ত অংশে এখন জোরকদমে কাজ চলছে। সুড়ঙ্গ কাটার দু’টি যন্ত্রের একটি ইতিমধ্যেই মহাকরণ পৌঁছে গিয়েছে। অন্যটিও আর দিন দুয়েকের মধ্যে পৌঁছে যাবে। এর পরে এসপ্ল্যানেড হয়ে যন্ত্রটি এগোবে শিয়ালদহের দিকে। ঘিঞ্জি এলাকা হওয়ায় ওই পথে খুব সাবধানে ও সতর্ক ভাবে কাজ করতে হবে। কিন্তু দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজের আগে কেন শিয়ালদহ আর এসপ্ল্যানেডের মাঝের অংশে কোনও স্টেশন তৈরির বিষয়টি ভাবা হল না, তা নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে।