মুকুলের মোকাবিলায় ফের ময়দানে পার্থ। ধর্মতলায় বিজেপির সভামঞ্চ থেকে শুক্রবার সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করেছেন মুকুল রায়। অত্যন্ত গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূলনেত্রীর ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে। রাজ্য সরকার যে ‘বিশ্ববাংলা’ লোগো ব্যবহার করছে, সেই বিশ্ববাংলা আসলে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মালিকানাধীন একটি সংস্থা। দাবি করেছেন মুকুল রায়। শুক্রবার সন্ধ্যায় সাংবাদিক বৈঠক ডেকে মূলত তারই জবাব দিলেন তৃণমূল মহাসচিব। মুকুল রায়কে ‘চাটনিবাবু’ বলে সম্বোধন করে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের মন্তব্য, অসত্য ভাষণ দিয়ে বাজার গরম করার চেষ্টা যাঁরা করছেন, রাজ্যের মানুষ তাঁদের আস্তাকুঁড়ে ছুড়ে ফেলবেন।

বিশ্ববাংলা এবং জাগো বাংলা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মালিকানাধীন— মুকুল রায়ের এই মন্তব্য খণ্ডন করাই পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের এ দিনের সাংবাদিক বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য ছিল। মুকুলকে তীব্র কটাক্ষ করে তিনি বলেন, ‘‘বিজেপিতে যাঁর নাম হয়েছে চাটনি, সেই চাটনিদা’র চাটনির গল্পে যে অসারতা রয়েছে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পর্কে যে অসত্য ভাষণ দিয়ে বাজার গরম করার চেষ্টা হয়েছে, নবান্ন থেকে সে সম্পর্কে স্পষ্ট উত্তর দেওয়া হয়েছে।’’ অভিষেকের বিরুদ্ধে মুকুল রায় যে সব অভিযোগ তুলেছেন, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে জানিয়েছেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়। রাজ্যে বিনিয়োগ আনার লক্ষ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সপার্ষদ লন্ডন সফরকে মুকুল রায় যে ভাবে এ দিন কটাক্ষ করেছেন, তারও তীব্র সমালোচনা করেছেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়।

আরও পড়ুন: তীব্র আক্রমণে বিজেপি, মুকুলের নিশানায় খোদ মমতা, অভিষেকও

আরও পড়ুন: তারিখ না দিয়ে সামনে আসুন, গুরুঙ্গকে অনীত

‘‘আসল কথা এঁদের গভীরতা কম, চিরকালই গভীরতা কম ছিল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঢেকে রাখতেন।’’ মুকুল রায় সম্পর্কে শুক্রবার এমন মন্তব্যই করেছেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়। তিনি বলেছেন, ‘‘অনেক গদ্দারি দেখেছি, এখনও দেখছি।’’ দল ছেড়ে এর আগেও অনেকেই গিয়েছেন, বাংলার মানুষ তাঁদের আস্তাকুঁড়ে ছুঁড়ে ফেলেছেন, এ বারও তেমনই হবে, মন্তব্য পার্থর। কোনও অপপ্রচারেই লাভ হবে না, তৃণমূলের সব স্তরের কর্মী, নেতা, জনপ্রতিনিধি ঐক্যবদ্ধ রয়েছেন বলে পার্থ চট্টোপাধ্যায় দাবি করেছেন।