স্বাধীনতা দিবসে স্বাধীনতাটুকু থাক। তাই নরেন্দ্র মোদীর আদলে এ রাজ্যে স্বাধীনতা দিবস পালন এবং সঙ্কল্প গ্রহণের অনুষ্ঠান করবে না রাজ্য সরকার। তা হবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেমন চাইবেন সে ভাবেই।

রাজ্যের দাবি, গত ৬৯ বছর যে ভাবে স্বাধীনতা দিবস পালিত হয়েছে, এ বারও তাই হবে। কেন্দ্রীয় সরকারের মতে, এ বছর ভারত ছাড়ো আন্দোলনের ৭৫ বছর পূর্তি। সেই কারণে দেশের সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য সঙ্কল্প বাক্য পাঠ করানোর নিদান দেওয়া হয়েছিল। রাজ্য না করলেও অন্য ২৯টি রাজ্যে তা পালিত হবে।

নবান্ন সূত্রের খবর, মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রকের তরফে দু’দফায় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কী ভাবে স্বাধীনতা দিবস পালন করতে হবে তার বিস্তারিত জানানো হয়। প্রভাত ফেরি থেকে কুইজ প্রতিযোগিতা, অভিভাবক বৈঠক থেকে দেশাত্মবোধক গানের অনুষ্ঠান ইত্যাদি করার কথা বলা হয়েছিল তাতে। পরের দফায় ৭ অগস্ট আরও একটি নির্দেশিকা আসে। তাতে বলা হয়, এ বছর স্বাধীনতার ৭৫ বর্ষপূর্তি হচ্ছে। তাই সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গরিবি, দুর্নীতি, উগ্রপন্থা, সাম্প্রদায়িকতা এবং জাতপাত থেকে মুক্ত হওয়ার সঙ্কল্প নিতে হবে। পাশাপাশি আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশকে স্বচ্ছ করার সঙ্কল্পও যাতে ছাত্র-ছাত্রীরা নেয়, সে ব্যাপারেও নির্দেশ দেয় কেন্দ্র। নরেন্দ্র মোদীর নামে তৈরি হওয়া একটি মোবাইল অ্যাপ থেকে কুইজের ব্যবস্থাও করেছে কেন্দ্র। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে রাজ্যের মূল স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানেও সঙ্কল্প নেওয়ার অনুরোধ জানায় দিল্লি।

আরও পড়ুন:আগাম জামিন নাকচ, ধৃত তপন দত্তের স্ত্রী

এই প্রস্তাব বাতিল করে দিয়েছে নবান্ন। তবে তার আগেই মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রকের প্রথম নির্দেশিকাটি জেলায় জেলায় পাঠিয়ে মোদী-মডেলে স্বাধীনতা দিবস পালন করতে বলে দিয়েছিল শিক্ষা দফতর। শীর্ষস্তরে বকুনি খেয়ে সেই নির্দেশিকা বাতিল করা হয়। আর রেড রোডে স্বাধীনতা দিবসের মূল অনুষ্ঠানে দেশ গঠনে মোদীর বলা সঙ্কল্প নেওয়া হবে না বলেও ঠিক হয়েছে। সেই অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী জাতীয় পতাকা তুলবেন। পুলিশ, বিভিন্ন বাহিনী ও ছাত্রছাত্রীদের কুচকাওয়াজ হবে, হেলিকপ্টার থেকে হবে পুষ্পবৃষ্টি, বেশ কয়েকটি সরকারি প্রকল্পের ট্যাবলোও থাকবে সেই শোভাযাত্রায়।

শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের কথায়, ‘‘নরেন্দ্র মোদী সারা দেশে আরএসএসের মতাদর্শ চাপিয়ে দিতে চাইছেন। স্বাধীনতা দিবস পালনের স্বাধীনতাও কেড়ে নিতে চাইছেন। দেশপ্রেম ওঁদের থেকে শিখব না।’’

যা শুনে কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয় বলেন, ‘‘প্রধানমন্ত্রী দেশ থেকে গরিবি, দুর্নীতি, সাম্প্রদায়িকতা, জাতপাত হঠাতে সবাইকে সঙ্কল্প নিতে বলেছেন। এতেও যে কারও আপত্তি থাকতে পারে তা ভাবতে পারছি না।’’