পাহাড়ে আরও কেন্দ্রীয় বাহিনী পাঠানোর বিষয়টি পুনর্বিবেচনার আশ্বাস দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র সচিব রাজীব গৌবা। বৃহস্পতিবার নবান্ন সভাঘরে বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলির বৈঠকে এই দাবি তোলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর জোরালো যুক্তির সামনে স্বরাষ্ট্র সচিব বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন বলে জানান।

বৈঠকের বিষয় ছিল ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের নিরাপত্তা থেকে বাণিজ্য সংক্রান্ত নানা বিষয়। সীমান্তরক্ষীদের কাজের সঙ্গে রাজ্যের সমন্বয়ের বিষয়টি এ দিন আলোচনায় বার বার ওঠে। সেই আলোচনাতেই মুখ্যমন্ত্রী টেনে আনেন নেপাল-ভারত এবং ভারত-ভুটান সীমান্তের কথা। তোলেন চিন সীমান্তের কথাও। তিনি বলেন, ‘‘বাংলাদেশ সীমান্ত নিয়ে শুধু আলোচনা করলে তো হবে না। তার চেয়েও অনেক স্পর্শকাতর সীমান্ত হচ্ছে দার্জিলিং পাহাড় এলাকা। সেখান থেকেই তো কেন্দ্রীয় বাহিনী তুলে নেওয়া হল। যদি কেন্দ্র দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিয়ে এতই চিন্তিত, তা হলে দার্জিলিং থেকে বাহিনী প্রত্যাহার করা হল কেন?’’

স্বরাষ্ট্র সচিব তখন জানান, নভেম্বর-ডিসেম্বরে অন্য রাজ্যে বাহিনী প্রয়োজন ছিল। দুই রাজ্যের ভোটেও বাহিনী পাঠাতে হয়েছে। ফলে কিছুটা সমস্যা হয়েছে। তাতে মমতা পাল্টা বলেন,‘‘ভোট তো মিটে যাচ্ছে। এখন তা হলে বাহিনী পাঠান। নেপাল সীমান্তে সশস্ত্র সীমা বল(এসএসবি) মোতায়েন রয়েছে। কিন্তু তাদের কাজকর্ম আরও উন্নত হওয়া দরকার।’’ মুখ্যমন্ত্রী নতুন করে বাহিনী দাবি করায় তাঁকে নিরাশ করেননি স্বরাষ্ট্র সচিব। তিনি জানান, নর্থ ব্লক বিষয়টি নতুন করে ভাববে।

জুনে গোলমাল শুরু হওয়ায় ধাপে ধাপে পাহাড়ে ১৫ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন হয়। বনধ ওঠার পরে কেন্দ্র প্রথমে ৭ কোম্পানি বাহিনী তুলে নেয়। রাজ্য হাইকোর্টে গিয়ে প্রাথমিক ভাবে তাতে স্থগিতাদেশ পেয়েছিল। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে কেন্দ্র বাহিনী প্রত্যাহারের পক্ষে রায় আদায় করেছে। তার পর ১১ কোম্পানি বাহিনী তুলে নেওয়া হয় পাহাড় থেকে। থাকে চার কোম্পানি। মুখ্যমন্ত্রী ফের বাহিনী চাওয়ায় কেন্দ্র তা পাঠাবে কি না সেটাই এখন প্রশ্ন।