প্র: বহু বছর পরে ‘ময়ূরাক্ষী’তে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে স্ক্রিন শেয়ার করলেন...

উ: ১৫ বছর পর বুম্বাদার সঙ্গে কাজ করলাম। এত দিন মনে করতাম, কাজের ব্যাপারে আমি খুব ডেডিকেটেড। বুম্বাদার মুখোমুখি হয়ে দেখলাম, আমি এখনও সেই ব্যাপারে ছোটই আছি (হাসি)।

প্র: ‘গোয়েন্দা গিন্নি’ আর ‘সীমারেখা’র মধ্যে এক বছরের বিরতি। এই বিরতিতে...

উ: অনেকগুলো সিনেমা করলাম। জয়ের ‘হ্যালো ম্যাম’। এখানে একজন মধ্যবয়সি মহিলার চরিত্রে অভিনয় করছি। এর পর তপন দত্তর ছোটদের জন্য ভূতের গল্প নিয়ে ছবি ‘মায়াজালের খেলা’। ‘দৃশ্যান্তর’ করছি শ্রাবন্তীর সঙ্গে। ওখানে আমি একজন পুলিশ অফিসার হয়েছি। ‘ময়ূরাক্ষী’ ছাড়াও অতনুর আর একটা ছবি করলাম, ‘৭২ ঘণ্টা’। কয়েকটা ছোট ছোট গল্প নিয়ে ছবিটা। আমি আর অনন্যা (চট্টোপাধ্যায়) যেটায় আছি, সেটার নাম ‘গার্জেন কল’।

প্র: এই এক বছরে তো অনেকগুলো সিরিয়ালের অফার রিজেক্ট করেছেন। ‘সীমারেখা’য় আটকে গেলেন কেন?

উ: প্রথমত, ডাবল রোল। যার মধ্যে আবার একটা নেগেটিভও। ডাবল রোল ও নেগেটিভ, এই দুটোই আমি আগে কখনও করিনি। রেখার মতো চরিত্র অনেক করেছি। কিন্তু সীমার মতো করিনি। চোখমুখ ঘুরিয়ে, ভুরু তুলে সংলাপ আগে তো বলিনি কখনও। প্রথম প্রথম মনে হত, বেশি বাড়াবাড়ি হয়ে যাচ্ছে না তো। ‘কহিঁ কিসি রোজ’-এ সুধা চন্দ্রনও নেগেটিভ চরিত্র করেছিলেন। সীমার ক্ষেত্রে আমি কিন্তু ‘কহিঁ...’র সুধাদিকেই কপি করেছি। ওর মতো চোখে লেন্স ব্যবহার করেছি। গলার মড্যুলেশনও বদলে ফেলেছি। বেশ চ্যালেঞ্জিং। এমনও দিন যায়, রাত বারোটার সময় রেখার মেকআপ তুলে সীমা হচ্ছি। তার পর রাত তিনটে অবধি শ্যুট করছি। অবাক হবেন শুনে, নেগেটিভ হলেও সীমাকে দর্শক বেশি পছন্দ করছে! 

প্র: কাজের অতিরিক্ত প্রেশারের জন্যই কি আপনার এতটা ওজন কমে গিয়েছে?

উ: না, না। ‘ময়ূরাক্ষী’র জন্য ওজন কমানোর দরকার ছিল। ‘গোয়েন্দা গিন্নি’র সময় বেশ মোটা হয়ে গিয়েছিলাম। আর আমি একটু ফিটনেস ফ্রিক। সকাল ১১টায় কলটাইম থাকলে আমি ৯টায় জিমে চলে যাই। এক-দেড় ঘণ্টা ওয়র্কআউট করি। শ্যুটিংয়ের ফাঁকে দু’-তিন ঘণ্টা ফাঁক পেলে জিমে চলে যাই। নো-কার্ব ডায়েট মেনে চলছি।

প্র: ক্লান্তি কমাতে আপনি তো রান্না করতেন। এখন সে সব বন্ধ?

উ: একদম না। রোজ সকালে উঠেই বিভিন্ন ধরনের আনাজ ও মুরগির মাংস দিয়ে বড় করে একটা স্যুপ বানিয়ে নিই। এখন ডায়েট ফুড তৈরিতে আমি ওস্তাদ! (হাসি)

আরও পড়ুন: ‘সুপারহিরো নয়, দর্শকের একজন হিসেবে সলমনকে দেখাতে চাই’

প্র: আপনি বলেছিলেন, রাজনীতি থেকে শত হস্ত দূরে থাকবেন। কিন্তু ২১ ফেব্রুয়ারি বা ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল, সবেতেই তো আপনি এখন মুখ্যমন্ত্রীর পিছনে! 

উ: দেখুন, আমি তৃণমূল কংগ্রেসের সমর্থক। মুখ্যমন্ত্রী কোথাও আমাকে ডাকলে আমি যাই। আমার এমপি বা এমএলএ হওয়ার কোনও বাসনা নেই। ব্যক্তিগত ভাবে মুখ্যমন্ত্রীকে ভাল লাগে, শ্রদ্ধা করি। দিদিও আমাকে পছন্দ করেন। আর ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল তো আমাদেরই অনুষ্ঠান। সেখানে তো যাবই।

প্র: পশ্চিমবঙ্গে অন্যান্য শিল্প তলানিতে হলেও সিরিয়াল ইন্ডাস্ট্রি তো ফুলে ফেঁপে উঠছে...

উ: ঠিকই। ২০১৫ সালে মুম্বই থেকে কলকাতায় ফিরে দেখলাম অতীতের সঙ্গে টলিউডের কোনও মিল নেই। এখন লক্ষাধিক টাকা খরচ করে সেট তৈরি হয়। সিরিয়ালে কস্টিউম ডিজাইনার আছে, লুক নিয়ে চিন্তাভাবনা করার আলাদা লোক আছে, যা আগে ভাবাই যেত না। প্রোমোশন এখন যে পর্যায়ে হয়, তা বড় পরদার চেয়ে কম কী! বরং এখন তো অনেক সিনেমার প্রোমোশন ছোট পরদায় হয়। টেকনিশিয়ান, আর্টিস্ট সবার বেতনই ভাল হয়েছে। একজন নিউকামার শুরুতেই প্রায় এক লক্ষ টাকা বেতন পায়! একটা কর্পোরেট অফিসে কোন পর্যায়ে গেলে এতটা স্যালারি হয়! আপনিই বলুন না?

প্র: তা হলে তো বাংলায় কাজ করা নিয়ে আর কোনও ক্ষোভ নেই...

উ: শুধু একটা ব্যাপার, আর্টিস্টদের ওটি (ওভার টাইম) চালু হওয়া উচিত। টেকনিশিয়ানদের যেমন আছে। আমরা তো এখন প্রায় ১৭- ১৮ ঘণ্টা কাজ করি। ১২ ঘণ্টার পর মুম্বইয়ে কিন্তু আর্টিস্টরা ওটি পায়!

প্র: কিন্তু কোনও পরিবর্তন নেই সিরিয়ালের গল্পে...

উ: হচ্ছে কিন্তু। ‘অন্দরমহল’, ‘সীমারেখা’ দুটোতেই কিন্তু একটু মধ্যবয়সি মহিলার গল্প বলা হচ্ছে। কনীনিকা, অনন্যা, মানালি, আমি... সব পুরনোরাই তো আবার লিডে! এটাও তো বদল।

প্র: আপনার রিয়্যাল লাইফে কোনও বদল? না কি এখনও স্বামীর সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপেই ঘর সংসার চলছে!

উ:  শিগগিরই ও কলকাতায় বদলি হয়ে চলে আসবে। এই তো কিছু দিন আগে ‘সীমারেখা’র সেটেও এসেছিল। এসে বলেছিল, ‘আমার তো দুটো বউ’। ফোন করলে বলে, ‘এখন আমার কোন বউ কথা বলছে? সীমা না রেখা’ (হাসি)!

প্র: পরিচালনা শুরু করছেন কবে? আপনার তো গল্প রেডি।

উ: ব্যাপারটা ম্যাচিয়োর করল না। এটা নিয়ে সত্যিই একটু দুঃখে আছি। আবার উঠে পড়ে লাগতে হবে। তবে সেটা এখনই নয়।