প্র: এ বছর তো আপনার পরপর ছবি!

উ: হ্যাঁ, যদি ‘ধূমকেতু’ রিলিজ করে, তা হলে ছ’টা ছবি মুক্তি পাবে এ বছর। ‘আমার আপনজন’, ‘বস টু’, ‘নবাব’, ‘দেখ কেমন লাগে’, ‘চালবাজ’। ছবিগুলো মুক্তি পাচ্ছে খুব ইন্টারেস্টিং ভাবে। ‘আমার আপনজন’ কমার্শিয়াল ছবি, কিন্তু ভীষণ আরবান। যেখানে বিদেশে গিয়ে নাচগান বা আকাশে উড়ে গিয়ে ফাইট হয় না। ‘বস টু’ পুরোপুরি লার্জার দ্যান লাইফ। আবার ‘দেখ কেমন লাগে’ হল রম-কম। সোহম আছে আমার বিপরীতে। দারুণ ইন্টারেস্টিং একটা গল্প।

প্র: কী রকম গল্পটা?

উ: উত্তর কলকাতার দুই প্রতিবেশী পরিবারের দুটি ছেলেমেয়ে খুব ভাল বন্ধু। তার পর তাদের মধ্যে প্রেম হয় কি হয় না, তা নিয়েই ছবিটা। খুব মজাদার গল্প। বুম্বাদার বাড়িতে যে দিন স্ক্রিপ্ট শোনা হচ্ছিল, আমি শুনতে-শুনতে এত হেসেছি যে, দেখে বুম্বাদা বলল, যাক আমাদের পরিশ্রম সার্থক।

প্র: ছবিতেও কি দর্শক শুভশ্রীর বিখ্যাত হাসি দেখতে পাবে?

উ: (প্রচণ্ড হাসতে-হাসতে) না-না, ‘গুঞ্জা’ (শুভশ্রীর চরিত্র) খুব কাম অ্যান্ড কমপোজড।

প্র: সিনেমায় উত্তর কলকাতার মেয়ে মানেই তো টিপিকাল ইমেজ, ছবি এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে ট্রান্সফর্মেশন, চুড়িদার থেকে আধুনিকা! গুঞ্জাও তাই?

উ: হ্যাঁ, গুঞ্জা চুড়িদার পরে ঠিকই, কিন্তু তাতে ও খুব স্মার্ট। আর ওর লুকে কোনও বদল আসবে না।

প্র: ‘নবাব’, ‘চালবাজ’ দুটোই তো বাংলাদেশি নায়ক শাকিব খানের বিপরীতে?

উ: হ্যাঁ। আর ঈদে কিন্তু আমার দুটো ছবি রিলিজ করছে, ‘বস টু’ আর ‘নবাব’ (শুধু বাংলাদেশে)।

আরও পড়ুন:ইন্ডাস্ট্রিতে অনেকেই আছে যারা বন্ধুত্বের নামে পিঠে ছুরি বসায়

প্র: এই ছবিগুলো কি বাংলাদেশি দর্শকের কথা ভেবে করছেন?

উ: (একটু ভেবে) না, আমার তো মনে হয়, শাকিবের এখানেও সফল হওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা আছে। ছবির গল্পও ভাল। আর হ্যাঁ, বাংলাদেশে আমাদের বিরাট ফ্যান ফলোয়িং আছে। টলিউডের অভিনেতাদের অদ্ভুত ক্রেজ ওখানে।

প্র: আর কী-কী ছবি করছেন?

উ: ‘চালবাজ’-এর পর একটু ব্রেক নেব। তা না হলে আমি পাগল হয়ে যাব! পরপর শ্যুটিং, প্রোমোশন নিয়ে এত ব্যস্ত আমি যে, জিম পর্যন্ত করতে পাচ্ছি না।

প্র: তাই বোধ হয় ফোটোশ্যুটের জন্য মেকআপ করতে বসে হাই তুলছিলেন?

উ: (আবার একচোট হাসি) হ্যাঁ, ‘বস টু’-এর রিলিজের ঠিক আগেই চলে যাচ্ছি লন্ডন। তাই চাপ খুব বেশি। ঘুম খুব কম হচ্ছে। টেনশনও আছে।

প্র: কেরিয়ারের ক্ষেত্রে নায়িকা শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায় কতটা অ্যাগ্রেসিভ?

উ: আমি না ঠিক এ ভাবে ভাবি না। (কয়েক মুহূর্ত বিরতি নিয়ে) কথাটা হয়তো খুব ক্লিশে শোনাবে, কারও ফেলিওর আমার সাকসেস হতে পারে না।

প্র: একজনকে ফার্স্ট হতে গেলে, অন্যদের তো পিছনে আসতে হবেই!

উ: আজ যদি কেউ আমাকে বলে, তোমার হাতে এতগুলো ছবি আছে, তাই তুমি নাম্বার ওয়ান। আবার হতে পারে, সামনের বছর আমার হাতে কোনও ছবিই নেই! তখন আমাকে কী বলা হবে? ‘পরান যায় জ্বলিয়া রে’-র পর দেড় বছর আমার হাতে কোনও কাজ ছিল না। আমি যদি সেটাকেই নিজের ডেস্টিনি ভেবে নিতাম, তা হলে তো এগোতে পারতাম না। দশ বছর হয়ে গেল ইন্ডাস্ট্রিতে। তাই বুঝেছি, এগুলো ভীষণ টেম্পোরারি। আর ‘পরান...’ করার পর যদি ওই সময়টা জীবনে না আসত, তা হলে বর্তমান সময়ের মাহাত্ম্য বুঝতে পারতাম না। আমি কাজে বিশ্বাস করি। অন্য জন কী কাজ করছে বা সে কী ভাবে কাজটা পাচ্ছে, তা নিয়ে মাথা ঘামালে নিজেকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারব না।

প্র: আপনি তো স্করপিও। স্করপিয়ানরা কিন্তু খুব...

উ: (প্রশ্ন শেষ করার আগেই) খুব রিভেঞ্জফুল হয় তো? কিন্তু আমি একটুও নই। ভগবানকে আমি সম্পূর্ণ বিশ্বাস করি। মানুষ রিভে়ঞ্জ কখন নেয়, যখন কোনও কিছু তার মতো করে হল না। কিন্তু আমার ভাবনাটা অন্য। জীবন আমার মতো করে নাও চলতে পারে। ভগবানের উপর ছেড়ে দিই সব কিছু। আর একটা কথা বলি, স্করপিয়ানদের মতো গভীরতাও কিন্তু অন্য কারও মধ্যে থাকে না।

প্র: তাই কি বিচ্ছেদের পর রাজ চক্রবর্তীর প্রতি আপনার কোনও ক্ষোভ নেই?

উ: দেখুন, আমাকে দেখে এখন কেউ বলবে না যে, আমি একটা ব্রেকআপের মধ্য দিয়ে গিয়েছি। আসলে, কোনও খারাপ মুহূর্তের মধ্য দিয়ে গিয়েছি, এটাই মন থেকে মুছে ফেলতে চাই। তাই এই ব্যাপারটাকে এড়িয়ে গিয়েছি বা বলতে পারেন জীবন থেকে বাদ দিয়েছি। নেগেটিভ কোনও কিছু বা মনখারাপকে আঁকড়ে আমি বাঁচতে চাই না। আমি সব সময় হ্যাপি থাকতে ভালবাসি।

প্র: সেটা করা তো সহজ নয়!

উ: জীবনটা খুব ছোট। আমার চারপাশে যারা আছে, চাই তারা যেন আমার কাছ থেকে পজিটিভ ভাইবস পায়। সেখানে যদি আমি ব্রেকআপ নিয়ে মনখারাপ করে বসে থাকি, আমার নেগেটিভিটিটাই কিন্তু সবার কাছে পৌঁছবে। যেটা আমি চাই না।

প্র: রাজ সম্পর্কে কী বলবেন?

উ: আই রেসপেক্ট হিম। হি ইজ আ ভেরি নাইস হিউম্যান বিয়িং বললে কম বলা হয়, হি ইজ অ্যান অ্যামেজিং পার্সন। আমরা খুব পজিটিভ ভাবে আমাদের সম্পর্কটা শুরু করেছিলাম, পজিটিভ নোটেই সেটা শেষ করলাম।

প্র: আপনাদের ব্রেকআপের কারণটা কী?

উ: কেন সম্পর্কটা শেষ হল, কীসের জন্য, সেই প্রশ্নটা আমি নিজেকেই করতে চাই না। যে দিন ব্রেকআপ হয়েছিল, তার পর থেকে ওই প্রশ্নটা আমার কাছে নিষ্প্রয়োজন। আর রিলেশনশিপে ব্রেকআপ কি খুব অস্বাভাবিক? আমি শুধু রাজের সঙ্গে কাটানো সুন্দর মুহূর্তগুলোই মনে রাখতে চাই। আর যে খবরগুলো বাইরে রটেছে, ও আমাকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে, আমি গায়ে আগুন দিয়েছি, এগুলো বাজে রটনা।

প্র: আপনি তো খুব ডেডিকেটেড প্রেমিকা। সে ক্ষেত্রে এই সম্পর্কটার গোড়াতেই কি গলদ ছিল?

উ: ভালবাসার ক্ষেত্রে জাজমেন্টাল হওয়া উচিত নয়। লাভ ইজ ব্লাইন্ড!

প্র: রাজের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে নাকি আপনার বাড়িতেও আপত্তি ছিল?

উ: না, এটা খুব বাজে কথা। আমার বাড়ি প্রথম থেকেই রাজকে মেনে নিয়েছিল। আমার বাবা-মাকে না বলে আমি কোনও দিন কিছু করিনি।

প্র: দেবের সঙ্গে ব্রেকআপ, তার পর রাজ। আপনার কি মনে হয় না, পার্সোনাল লাইফ কোথাও পিছু টানতে পারে কেরিয়ারকে?

উ: না, আমি অত স্ট্র্যাটেজিক্যালি ভেবে চলতে পারি না। ভালবেসেছি যখন, মন দিয়ে ভালবেসেছি। যে দিন সরে এসেছি, পুরোপুরি সরে এসেছি। তার পর যা হবে, ঈশ্বর জানেন।

প্র: এতটা মনের জোর কোথা থেকে পান?

উ: এটা না বলা সত্যিই খুব ডিফিকাল্ট। জীবনে ভাল সময় আসে, খারাপ সময় আসে। ওই ভাঙাচোরা রাস্তাগুলো পেরোনোর সময় কী ভাবে যে শক্তি পেয়ে যাই, তার উত্তর আমার কাছেও নেই। মনে হয়, ভগবান আর পরিবারের কাছ থেকে পাই, যারা সব সময় আমার পাশে।