প্র: আপনার প্রায় সব ছবির প্রেক্ষাপট যুদ্ধ। কোনও নির্দিষ্ট কারণ আছে?

যুদ্ধ বিষয়ক অনেক তথ্যচিত্রে কাজ করেছি। তাই হয়তো একটা প্রবণতা এসে যায়। দু’দেশের মধ্যে যুদ্ধ মানে একটা দ্বন্দ্ব। যেটা সমাজেও এফেক্ট করে। কনফ্লিক্ট জোন আমার পছন্দের বিষয়। তথ্যচিত্রের জন্য বসনিয়া, আফগানিস্তান গিয়ে অনেক কিছু দেখেছি। ছবির মধ্যে সেগুলো ফুটিয়ে তুলতে চাই। ‘নিউ ইয়র্ক’, ‘কাবুল এক্সপ্রেস’, ‘ফ্যান্টম’ বা ‘এক থা টাইগার’ সব ছবির ভিতই আতঙ্ক এবং যুদ্ধের উপর। ‘টিউবলাইট’এ যুদ্ধ থাকলেও আসল কিন্তু দুই ভাইয়ের গল্প।  

 

প্র: ‘বজরঙ্গি ভাইজান’-এর পর দর্শক আপনার কাছ থেকে একটা অরিজিনাল গল্প আশা করেছিল। ‘লিটল বয়’-এর রিমেক করলেন কেন? 

তার জন্য আপনাকে ছবিটা দেখতে হবে। এটা রিমেক নয়, অ্যাডাপটেশন। অনেক বার এমন হয়েছে যে, আমাকে  আন্তর্জাতিক ছবির তালিকা দিয়ে বলা হয়েছে, ‘কোনটার রিমেক করতে চাও?’ আমার অবস্থা হয়েছিল, লজেন্সের দোকানে একটি বাচ্চাকে ছেড়ে দিলে যেমন হয় তেমনই। যদিও একটাতেও আমি রাজি হইনি। আমার এক সহকারী ‘লিটল বয়’ ছবিটির কথা বলে। ছবিটি দেখে আমারও ভাল লেগে গেল। তখন ঠিক করলাম এই ছবিটাই নিজের মতো করে বানাব। তার পর প্রযোজককে অনুরোধ করে ‘লিটল বয়’-এর স্বত্ব কিনি।

 

প্র: ‘বজরঙ্গি ভাইজান’ আর ‘টিউবলাইট’ দুটো ছবিতেই সলমনের চরিত্র এক রকম মনে হচ্ছে...

গল্প অনুযায়ী চরিত্র তৈরি করি। ‘বজরঙ্গি’র সময় সকলে আমাকে সাবধান করেছিল সলমনের মতো অ্যাকশন হিরোকে এই রকম একটা নিরীহ চরিত্রে না নিতে। সলমনের অন্য কোনও ছবির চেয়ে ‘বজরঙ্গি’র সফলতা কত বেশি সেটা ছবি রিলিজের পর প্রমাণ হয়ে গিয়েছিল। আমাদের ইন্ডাস্ট্রি কিংবা মিডিয়া সব কিছু ভীষণ বাঁধাধরা ভাবে দেখে থাকে। সেটার থেকে বেরোতে পারে না। দর্শকদের মধ্যে কিন্তু এই সব সীমাবদ্ধতা নেই। তাঁরা সিনেমাঘরে একটা বিনোদনমূলক ছবি দেখতে আসেন। ‘টিউবলাইট’-এর জন্য যে রকম চরিত্র প্রয়োজন ছিল সে ভাবেই লেখা হয়েছে।

আরও পড়ুন:এ বার সলমনকে নাচাবেন রেমো

 

প্র: ‘বাহুবলীর’ পর সফলতার সংজ্ঞা বদলে গিয়েছে। আপনার কী মত? 

খুব ভাল হয়েছে। ‘বাহুবলী’ তৈরি হয়েছে ২৫০ কোটি টাকায়। সেই অঙ্কটা ছবির জন্য দরকার ছিল। কোনও সুপারস্টার নেই। পরিচালক রাজামৌলি একমাত্র সুপারস্টার। দর্শকও ছবিটাকে স্বাগত জানিয়েছে।  এত দিন ধরে হলে রমরমিয়ে চলছে ছবিটি। এর চেয়ে পজিটিভ ব্যাপার আর কী হতে পারে। 

 

প্র: আপনি এর জন্য উদ্বিগ্ন নন? 

একদমই না। তা হলে তো ‘এক থা টাইগার’ হিট হওয়ার পর সিক্যুয়েল বানাতাম। কোনও দিন নিজের উপর চাপ নিই না। নম্বরের খেলাটা শুধুমাত্র কিছু দিনের। ‘শোলে’ বা ‘দিওয়ার’-এর ফার্স্ট ডে ফার্স্ট শোয়ে কত কালেকশন হয়েছিল কেউ মনে রেখেছে কি? সকলে মনে রেখেছে দুর্দান্ত ছবি ছিল... 

 

প্র: শাহরুখ খানকে দিয়ে গেস্ট অ্যাপিয়ারেন্স করানো কি খুব জরুরি ছিল?  

শাহরুখের মতো একজন সুপারস্টারই এই চরিত্রটা করতে পারত। লেখার সময় শাহরুখের কথা মাথায় রেখেই লিখেছিলাম। ওর দৃশ্যটা ছবির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এখন শাহরুখ আর সলমনের সম্পর্ক খুব ভাল। ওদের দু’জনের সম্পর্ক তো সেনসেক্সের মতো ওঠা-নামা করে! আমি বলা মাত্রই শাহরুখ রাজি হয়ে গিয়েছিল। অনেকেই জানেন না, শাহরুখ ফিল্ম স্কুলে আমার সিনিয়র ছিল। ওর নোটস প়ড়ে আমি পাস করেছি। গৌরীও আমার খুব ভাল বন্ধু। হয়তো এ বার আমার আর শাহরুখের একসঙ্গে ছবি করা উচিত।     

 

প্র: ওম পুরির শেষ কাজ এই ছবি...

ওঁকে খুব মিস করছি আমরা। ‘বজরঙ্গি ভাইজান’-এর সময়ে বলেছিলেন, আমার সঙ্গে বড় চরিত্রে কাজ করতে চান। ‘টিউবলাইট’ ওমজির চরিত্রটা ওঁর কথা ভেবেই লিখেছিলাম। ওমজির মধ্যে এই বয়সেও নতুন ধরনের কাজ করার উৎসাহ ছিল। সেটের বাইরে থেকে ওমজির চিৎকার আর হাসি আমরা শুনতে পেতাম। ওঁর ছেলে ঈশান সিনেমা নিয়ে পড়াশোনা করতে চায়। সেও আসতো ‘টিউবলাইট’-এর সেটে।  

 

প্র: সলমন আর সোহেলকে কাস্ট করার সিদ্ধান্ত কার ছিল?

এটা সলমনেরই সিদ্ধান্ত। সোহেল আর সলমন ছবিতে যে রসায়ন ফুটিয়ে তুলেছে সেটা অন্য কোনও অভিনেতাকে দিয়ে হতো না। ছবিতে ওদের দু’জনকে দেখলেই আপনারা সেটা বুঝতে পারবেন।