কে বলেছে, সঞ্চালকরা অভিনয় করে না!

সম্প্রতি ‘অরণ্যদেব’, ‘কলকাতায় কলম্বাস’, ‘মাইকেল’-এ মুখ্য ভূমিকায় অভিনয় করেছেন মীর। অভিনেতা স্টেটাসে বেশ খুশি তিনি। জানালেন, ‘‘ছোট চরিত্রে কোনও দিনই ছুঁৎমার্গ ছিল না আমার। ‘ভূতের ভবিষ্যৎ’, ‘ধনঞ্জয়’ কিংবা ‘আসছে আবার শবর’... যখন যেমন সুযোগ পেয়েছি নিজেকে প্রমাণ করার চেষ্টা করেছি।’’ প্রথামাফিক অভিনয়ের কোনও প্রশিক্ষণ না থাকলেও চারপাশের বিভিন্ন ঘটনাকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে পর্যবেক্ষণই মীরের অভিনয়ের চাবিকাঠি। পাশাপাশি ডাবিংয়ের সময়েও শিখেছেন অনেক কিছু। মীরের বক্তব্য, ‘‘লোকে ভাবতেন আমি শুধু সঞ্চালকই থেকে যাব। অভিনয়টা আমাকে দিয়ে হবে না। কিন্তু কে বলে দিয়েছে, সঞ্চালকরা অভিনয় করে না! আমরা মঞ্চেও তো প্রকারান্তরে অভিনয়ই করি।’’

 

ইচ্ছে আছে নিজে স্ক্রিপ্ট লিখে পরিচালনা করার

তবে মীরের পাখির চোখ পরিচালনা। সেই স্বপ্নপূরণেও মীরের হাতিয়ার পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা। ‘‘ছবিতে কাজের ক্ষেত্রে আমার মূল উদ্দেশ্য হল তৃণমূল স্তরে কাজটা দেখা ও শেখা। লাইট, ক্যামেরা, শট ডিভিশন... গোটা প্রক্রিয়াটা কী ভাবে হচ্ছে সেটাই দেখা। শটের মাঝে আমি চারপাশে ঘুরঘুর করতে থাকি, এগুলো দেখি। ভবিষ্যতে ইচ্ছে আছে নিজে স্ক্রিপ্ট লিখে পরিচালনা করার। তাই অভিনয়ের ক্ষেত্রে আমি টাকা নিয়ে ভাবি
না। অনেক জায়গায় তো জানিও না কত টাকা পাচ্ছি।’’

 

খালিপেটে তো শিল্প হয় না

শুধু মাত্র শিল্পী হিসেবেই আটকে থাকতে চান না তিনি। শিল্পের সঙ্গে ব্যবসারও সংযোগ ঘটাতে চান। এ ব্যাপারে মীরের মত, ‘‘খালিপেটে তো শিল্প হয় না। আর শিল্প করে কেনই বা খালিপেটে থাকব?’’সেই জন্যেই দু’জন বন্ধুর সঙ্গে শুরু করেছেন খাবার নিয়ে একটি অনুষ্ঠান। ‘‘মানুষ খাবার নিয়েও জানতে আগ্রহী। এই অনুষ্ঠানে চেনা খাবারের জায়গাগুলোকেই এমন ভাবে তুলে ধরা হচ্ছে, যাতে সকলে আকৃষ্ট হচ্ছে। এটা আমি শিখেছি নিজের কেরিয়ার থেকেই। জনসংযোগটা আজকের দিনে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বাড়ি থেকে বেরোনোর পরে আমি নিজেই নিজের সেলসম্যান।’’

 

রেডিয়োর তৃপ্তি ক্রমশ কমছে

খাবারের পাশাপাশি ট্র্যাভেল নিয়েও ওয়েব সিরিজ তৈরি করতে চান মীর। তবে সে ক্ষেত্রে বাধা হল রেডিয়োয় প্রতিদিনের কর্মব্যস্ততা। তাই ভবিষ্যতে রেডিয়ো ছাড়তে চান তিনি। বছর দুয়েক আগেও মীর জানিয়েছিলেন, ‘‘রেডিয়ো ছাড়া আমি বাঁচতে পারব না।’’ ভাবনায় হঠাৎ ৩৬০ ডিগ্রি বদল কেন? ‘‘কিছু দিন আগেও রেডিয়োয় যে তৃপ্তি পেতাম, সেটা ক্রমশ কমছে। জানেন তো, মিউজিক আর রেডিয়ো জকি হল ট্রেনের ইঞ্জিন ও কামরার মতো। কিন্তু আজকের প্রজন্মের গান আমাকে অ্যাপিল করে না। তা ছাড়া এখন মানুষের রেডিয়ো শোনার প্রবণতাও অনেকটাই কমে গিয়েছে। এখন লোকে গান শোনে না, দেখে।’’

আরও পড়ুন: ‘ব্রহ্মাস্ত্র’র শুটিং করতে কোথায় গেলেন রণবীর-আলিয়া?

এখনও অনেকের চেয়ে অনেকটাই পিছিয়ে

ছোটবেলা থেকে নানা ঘাত-প্রতিঘাত পেরিয়ে প্রতিষ্ঠা পেয়েছেন। এখন কি মনে হয়, সমস্ত অপমানের জবাব দিতে পেরেছেন? ‘‘প্রথম দিকে খুশি হতাম নিজের উত্তরণে। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে উপলব্ধি করেছি, এখনও অনেকের চেয়ে অনেকটাই পিছিয়ে। সব পেয়েছি ভাবলে তো চলার পথটাই থেমে যাবে। জীবনে কোনও কার্ফু চাই না আমি। শুধু এগিয়ে যেতে চাই। কাল যদি হঠাৎ মৃত্যু হয়, একটাই আফসোস থেকে যাবে, নিজের শেখাগুলো কাউকে দিয়ে যেতে পারলাম না।’’

 

জাহাজের নোঙর দরকার হয়

কেরিয়ারের পাশাপাশি দাম্পত্য সম্পর্কেও অনেকটা সময় পেরিয়েছে। এখনও মীরের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ স্ত্রী সোমা। ‘‘জাহাজের যেমন নোঙর দরকার হয়, আমার ক্ষেত্রে সেই কাজটাই করে সোমা। ও-ই আমার সবচেয়ে বড় শুভাকাঙ্ক্ষী আবার সমালোচকও।’’ সাধারণত পরিবারে তেমন সময় দিতে পারেন না তারকারা। কিন্তু মীরের ক্ষেত্রে ব্যাপারটা উলটো। ‘‘হয়তো সোমাকে বললাম, চলো শপিং করে আসি। ও বলে, ‘আমি তো অনলাইনে কিনে নিয়েছি।’ আর মুসকান ব্যস্ত নিজের পড়াশোনা নিয়ে। ক্লাস নাইনে পড়ে। এখন বুঝে গিয়েছি, ওদের সময় হলে ঠিক জানাবে। আমি বরং নিজেকে সময় দিই। যাতে বয়সকালে আক্ষেপ না থাকে, নিজের যত্ন নিলাম না। তাই অবসরে বই পড়ি। যোগাও করি নিয়মিত।’’

 

আগামী তিন বছরে আবার পরিবর্তিত মীরকে পাবেন

কাজের জগৎই হোক কিংবা ব্যক্তিগত ক্ষেত্র, বদলটা টের পাওয়া যায় সর্বত্রই। কথাবার্তাতেও আগের চেয়ে অনেকটাই সাবধানী তিনি। এখন আর বিতর্কিত কথা নয়, মজার ছলেই মনের ভাব প্রকাশ করেন তিনি। বয়সই বোধহয় পরিণত করে তুলেছে মীরকে। সাক্ষাৎকার শেষে নিজেই বললেন, ‘‘আপনি আমার বদল নিয়ে জিজ্ঞেস করলেন তো? বলে রাখছি, আগামী তিন বছরের মধ্যে আবার এক পরিবর্তিত মীরকে পাবেন। যে তার ঘুঁটিগুলো হয়তো সাজাবে অন্য ভাবে।’’