‘এখন ছবি এঁকে খুব মজা পাই’

আগে একটা ছেলেমানুষি করতাম, জন্মদিনে ঘুম থেকে উঠেই গুনগুন করে রবীন্দ্রনাথের গানটা গাইতাম। ‘হে নূতন,/ দেখা দিক আর-বার জন্মের প্রথম শুভক্ষণ।’ এখন তো গলা দিয়ে গানও বেরয় না। দীর্ঘ অসুস্থতার পর মা-ও চলে গিয়েছেন কিছু কাল, তাঁর হাতের পায়েসও আর খাওয়া হয় না।’’ সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের জন্মদিন আগামিকাল ১৯ জানুয়ারি, একাশি পূর্ণ করে বিরাশি-তে পা দিচ্ছেন। ওই রবীন্দ্রগানের একটি লাইন এখনও তাঁর যাপনে ধ্রুব বিশ্বাসের মতো: ‘ব্যক্ত হোক জীবনের জয়’। এখনও তাঁর পেতে ইচ্ছে সেই চরিত্র, ‘যে মানুষ অনেকের প্রতিনিধি, কোনও শ্রেণি, বৃত্তি, বা সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি। আমার অভিনয়জীবনের শুরুটাই তো তাই— অপু। সেই পঞ্চাশের দশকে কে নয় অপু? সে একটু লেখাপড়া শিখেছে, নিসর্গের সংস্পর্শে এসেছে, কলকাতায় এসে তার মনের জানালাগুলো সব খুলে যাচ্ছে... আমার প্রজন্ম অপুর মধ্যে ভাষা পেয়েছিল। আজও আমার আকাঙ্ক্ষা, কোনও সাধারণ মানুষের চরিত্রায়ণ। তার মধ্যে অসাধারণকে খোঁজাই আমার ধর্ম, আমার আজীবন অভিনয়ের উপাসনা-মন্ত্র।’ তাঁর খেদ ‘যাঁরা অর্থে বা বিত্তে বড়, তাঁরাই অসাধারণ বলে বিবেচিত হন। অথচ যাঁরা ধৈর্যে, ত্যাগে, বা জ্ঞানে বড়, তাঁদের অসাধারণত্বের প্রতি আমরা উদাসীন।’ আগামিকাল অভিনয় করবেন এমনই এক চরিত্রে, ‘মেয়ের (পৌলমী) ব্যবস্থাপনায় কয়েক বছর ধরে জন্মদিনে থিয়েটার করি।’ পৌলমীর নির্দেশনায় কাল অ্যাকাডেমিতে দুপুর ৩টেয় ‘ফেরা’, ডুরেনমাট অবলম্বনে সৌমিত্ররই লেখা নাটক; সন্ধে ৭টায় রবীন্দ্রনাথের ‘কালমৃগয়া’। প্রথম শো-এর শেষে জন্মদিনের অভিবাদন জানাবেন যোগেন চৌধুরী, বিভাস চক্রবর্তী, কৌশিক সেন ও ব্রাত্য বসু। দ্বিতীয়টির শেষে শুভেচ্ছা জানাতে আসছেন শর্মিলা ঠাকুর, জানালেন আয়োজক নাট্যগোষ্ঠী ‘মুখোমুখি’র কর্ণধার বিলু দত্ত। সিনেমা, থিয়েটার, কবিতা, লেখালেখি, বইপড়া, আবৃত্তি-পাঠের পাশাপাশি এখন ছবি আঁকাও তাঁর নিত্যসঙ্গী। ‘এঁকে খুব মজা পাই, কারও কাছে কোনও দায় নেই তো, খোলা হাওয়া যেন, মুক্তির আনন্দ!’ এতদিন ধরে এত মানুষের ভালবাসা তাঁকে প্রাণিত করে— ‘এটা আমার জীবনের শুধু পরম প্রাপ্তিই নয়, পরিচয়ও।’ সঙ্গের ছবিটি সুকুমার রায়ের তোলা, ১৯৯০ সালে।

 

ভালবাসা 

১৯৩৪ সালের জুন মাসে দেখা, সাড়ে তিন বছর পর দু’জন বিয়ে করেন। তার পর বেশ কয়েক বছর বিচ্ছেদ। আবার কিছু দিনের মিলন। ১৯৪৩ সালের পর— চিরবিচ্ছেদ। নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আর অস্ট্রিয়ান সেই মেয়েটি, এমিলি শেঙ্কল। এমিলির বয়স তখন মাত্র ৩৩, তাঁকে চিরদিনের মতো ছেড়ে দিতে হয়েছিল প্রিয় মানুষটিকে। সেই দিন থেকে এমিলি কিন্তু কথা রেখেছেন, ভালবাসার মানুষটিকে মনে আঁকড়ে ধরে বেঁচেছেন। তাঁর ফেলে যাওয়া স্মৃতি একমাত্র কন্যা অনিতাকে মানুষ করেছেন। সুভাষচন্দ্রের পরিবারের সঙ্গে যথাসাধ্য যোগাযোগ রেখেছেন। আর নিজের ঘরে বিছানার পাশটিতে সুন্দর ফিতে বাঁধা বান্ডিলে সযত্নে সাজিয়ে রেখেছেন তাঁকে লেখা সুভাষচন্দ্রের সব ক’টি চিঠি। সুভাষের ভ্রাতুষ্পুত্র শিশির তাঁর খুব প্রিয় হয়ে ওঠেন ক্রমে। তাই শিশিরের স্ত্রী কৃষ্ণা বসুর সঙ্গেও তৈরি হয় বিশেষ ঘনিষ্ঠতা (সঙ্গের ছবিটি ১৯৫৯-এর)। ১৯৯৩ সালে তিনি চিঠিগুলি শিশিরের হাতে তুলে দেন প্রকাশের জন্য, প্রয়াত হন ১৯৯৬-এ। এই সব স্মৃতিই নতুন করে ধরে রাখলেন কৃষ্ণা বসু এমিলি অ্যান্ড সুভাষ: আ ট্রু লাভ স্টোরি (নিয়োগী বুকস) বইয়ে, সম্প্রতি সেটি নেতাজি ভবনে প্রকাশ হল। সুভাষের আর তাঁর ‘যোগ্য সহধর্মিণী’র জীবন-মৃত্যু অতিক্রমী ভালবাসার কাহিনি।

 

ডোভার লেন

আবার কলকাতা সন্ধে-রাতে সুরে-সুরে মাতোয়ারা হয়ে উঠবে। ২২ জানুয়ারি সন্ধে সাড়ে সাতটায় শুরু হতে চলেছে ‘দ্য ডোভার লেন মিউজিক কনফারেন্স’ ৬৪তম বার্ষিক সম্মেলন, শেষ হবে ২৬ জানুয়ারি ভোরে। উদ্বোধক পণ্ডিত শিবকুমার শর্মা। ‘সংগীত সম্মান ২০১৬’ পাবেন প্রবীণ বেহালাশিল্পী এন রাজম। ২৩ জন মূল শিল্পী-সহ মোট ৫০ জন শিল্পীর সমারোহে এ বার গুরুত্ব অতীতের দিকপালদের পরের প্রজন্মে। থাকছেন পণ্ডিত কুমার গন্ধর্ব-র পুত্র মুকুল শিবপুত্র, উস্তাদ সারাফত হুসেন খান-এর পুত্র সৌকত হুসেন খান, এন রাজমের মেয়ে সঙ্গীতা শঙ্কর ও নাতনিরা। এবং কৌশিকী— পণ্ডিত অজয় চক্রবর্তী-র কন্যা। থাকছেন পণ্ডিত যশরাজ, পণ্ডিত শিবকুমার শর্মা, উস্তাদ আমজাদ আলি খান, আমান আলি খান, উস্তাদ শাহিদ পারভেজ, পণ্ডিত বেঙ্কটেশকুমার, কুশল দাস ও তেজেন্দ্রনারায়ণ মজুমদার, শশাঙ্ক সুব্রহ্মণ্যম, পুষ্পরাজ কোষ্ঠী, অনুপমা ভাগবত, সন্দীপন সমাজপতি, প্রভাতী মুখোপাধ্যায়, শুভ্রা গুহ, শুভদা পারাদকর, মঞ্জিরি কেলকর। বিশেষ অতিথি নগরোন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম ও প্রসারভারতী-র সিইও জহর সরকার। নিবেদনে দেশ।

 

নতুন ভাবনা

শহরে শীত-রোদ ওঠার সঙ্গে সঙ্গেই ফিল্মোৎসব। কলকাতার তিন প্রজন্মের পরিচালকের নতুন ভাবনার তিনটি ছবি। ২০-২২ জানুয়ারি নন্দনে, রোজ ৫টায়। সদ্যপ্রয়াত বাপ্পাদিত্য বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘হাউসফুল’ শুরুর দিন। পরের দিন নবীন পাভেল ভট্টাচার্যের ‘বাবার নাম গান্ধীজি’। শেষ দিনে বুদ্ধদেব দাশগুপ্তের ‘আনোয়ার কা আজব কিস্‌সা’, যে-ছবি এখনও দেখেনি শহরবাসী। ‘দর্শকের সঙ্গে ভাল ছবির সেতু তৈরির দায়িত্ব থেকেই আমাদের এ ধরনের আয়োজন।’ জানালেন উদ্যোক্তা ফেডারেশন অব ফিল্ম সোসাইটিজ-এর সর্বভারতীয় সম্পাদক প্রেমেন্দ্র মজুমদার। তাঁদের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে নন্দন। এ দিকে ১২০ তম জন্মদিনে দ্বিজেন্দ্রলাল-পুত্র দিলীপকুমার রায়কে স্মরণ করছে অন্তত দুটি সংস্থা। ২২ জানুয়ারি সন্ধে ৬টায় আই সি সি আর-এ সুর কাব্য ট্রাস্টের অনুষ্ঠানের উদ্বোধক শুভাপ্রসন্ন, প্রধান বক্তা জহর সরকার। নীতা সরাফ ও প্রিয়া চোপড়া দিলীপকুমারের গান শোনাবেন, তাঁর লেখা থেকে পড়বেন সুজয়প্রসাদ চট্টোপাধ্যায় ও তুলিকা বসু। সূত্রধরও সে দিন ৬টায় বইচিত্র সভাগৃহে দিলীপকুমার রায়ের লেখা অতুলপ্রসাদ: মানুষ, কবি, ভক্ত বইটি প্রকাশ করবে। বলবেন শ্রুতি গোস্বামী, গানে সুচরিতা বিশ্বাস। ‘হেরিটেজ বেঙ্গল’-এর উদ্যোগে ২২-২৪ জানুয়ারি রবীন্দ্রসদনে অনুষ্ঠিত হবে ‘হেরিটেজ উৎসব ২০১৬’। সংস্থার সভাপতি পার্থ চন্দের কথায়, অনুষ্ঠানে নেতাজির জীবন নিয়ে বিশেষ ভাবে সংকলিত একটি তথ্যচিত্র দেখানো হবে। আইসিসিআর-এর সৌজন্যে থাকবে নানা অনুষ্ঠান।

 

প্রেসিডেন্সি ২০০

১৮৫৫-য় হিন্দু কলেজ থেকে প্রেসিডেন্সি কলেজ। এবং ২০১০-এ কলেজ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়। সারা দেশে আধুনিক প্রথায় জ্ঞানবিজ্ঞান চর্চার অন্যতম পথিকৃৎ হিসেবে প্রেসিডেন্সির তুলনা মেলা ভার। ২০ জানুয়ারি এই প্রতিষ্ঠান দুশো বছরে পা দেবে। বর্ষব্যাপী নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও প্রাক্তনী সংসদ। প্রতিষ্ঠা দিবসে বিশেষ সমাবর্তনে বলবেন অমর্ত্য সেন। সভাপতি আলতামাস কবির ও মুখ্য অতিথি অশোক লাহিড়ী। প্রাক্তনী সংসদের ‘অটাম অ্যানুয়াল’ প্রকাশ করবেন উপাচার্য অনুরাধা লোহিয়া। নবনীতা দেবসেনের মুখ্য সম্পাদনায় এ সংখ্যায় নতুনের পাশাপাশি কলেজ পত্রিকা থেকে উজ্জ্বল উদ্ধার, বিশেষত রবীন্দ্রনাথের একটি অগ্রন্থিত অভিভাষণ।

 

সমকালীন

ইতিহাস পুনরাবৃত্ত হয়, আর বর্তমান তার অতীতের প্রতিচ্ছবি তুলে ধরে। ক্যালকাটা আর্টস ইনিশিয়েটি‌ভ ইন অ্যাসোসিয়েশন (সি এ আই) এবং লাইভ ইন লেকস (রবীন্দ্র সরোবর) আয়োজিত ‘বিয়ন্ড ফ্রন্টিয়ার্স: এক্সপিরিয়েন্স ফ্রম আ ডিভাইডেড ল্যান্ড’ শীর্ষক প্রদর্শনী সেটাই করে দেখাল। দেশভাগ ও সীমান্তরেখা সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ই ছিল মূল ভাবনা। শাহিদুল আলমের ক্যামেরায় যেমন ভারত-বাংলাদেশের সীমান্ত অঞ্চল ও বাংলাদেশের গণতন্ত্রের জন্য দেওয়াল লিখন, তেমনই রনি সেনের ক্যামেরায় সমকালীন বেশ কিছু ছবি। দেখানো হল সুপ্রিয় সেনের তথ্যচিত্র ‘ওয়াগা’। অন্য দিকে, ‘২০০০ সালের মধ্যে সবার জন্য স্বাস্থ্য’: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এই ঘোষণায় স্বাক্ষর করেছিল ভারতও। কাজ হয়নি। ২০১১ সালে শ্রীনাথ রেড্ডির নেতৃত্বে বিশেষজ্ঞ গোষ্ঠীর সুপারিশও কার্যকর হয়নি। সরকার সব নাগরিকের স্বাস্থ্যের দায়িত্ব নিক, এমনটাই চায় ‘সবার জন্য স্বাস্থ্য প্রচার কমিটি’। ২৪ জানুয়ারি ইউনিভার্সিটি ইনস্টিটিউট হলে দুপুর ২টোয় কমিটি আয়োজিত সভায় আসছেন শ্রীনাথ রেড্ডি। থাকছেন অরুণ সিংহ, বিনায়ক সেনও।

 

নাট্যোৎসব

সারা শীত জুড়েই নাটকের উৎসব চলে কলকাতায়। ‘ফুড়ুৎ’-খ্যাত ব্ল্যাঙ্ক ভার্স-এর একাদশে পা দিয়ে নতুন প্রযোজনা ‘বর্ণপরিচয়’, ২০ জানুয়ারি সন্ধে ৬টায় অ্যাকাডেমিতে। ‘বিদ্যেসাগর মশাইকে মাথায় রেখেই এদেশের সাম্প্রতিক অসহিষ্ণুতা প্রসঙ্গ এ-নাটকে।’ জানালেন নির্দেশক রাজা ভট্টাচার্য। অমিত্রাক্ষর সম্মান পাবেন হিমাংশু পাল। সন্দর্ভ নাট্যগোষ্ঠীও পা রাখল ৩৯ বছরে। ২২-২৭ জানুয়ারি বিভিন্ন গোষ্ঠীর নাটক নিয়ে উৎসব মুক্তাঙ্গনে। উদ্বোধনের দিন সন্ধে সাড়ে ৬টায় বিভাস চক্রবর্তীর হাতে ‘সন্দর্ভ সম্মান’ তুলে দেবেন ব্রাত্য বসু ও গৌতম হালদার (নাট্য ও চলচ্চিত্র পরিচালক)। অন্য দিকে থিয়েটারের মঞ্চ-আলো-পোশাকের কাজ হাতেকলমে শেখাতে আবাসিক জাতীয় নাট্য কর্মশালা অনুষ্ঠিত হল ২-১১ জানুয়ারি অশোকনগরের শহিদ সদনে, আয়োজনে অশোকনগর নাট্যমুখ, সহায়তায় দিল্লির ন্যাশনাল স্কুল অব ড্রামা। আবার অনীক নাট্যগোষ্ঠী আয়োজিত অষ্টাদশ গঙ্গা যমুনা নাট্যোৎসব হল কলকাতার বিভিন্ন মঞ্চে ও মধ্যমগ্রামের নজরুল শতবার্ষিকী সদনে। এই উৎসব ঢাকাতেও অনুষ্ঠিত হচ্ছে প্রতি সেপ্টেম্বরে।

 

শেষ চিঠি

মৃত্যুর পর পড়ে থাকে শুধু মানুষটার কাজ। আর তাকে ঘিরে স্মৃতির সব বুনোট।’ চেনা পৃথিবীর বিখ্যাত ত্রিশজন মানুষের স্মৃতিই বুনতে বসেছেন গৌতম ভট্টাচার্য তাঁর নতুন বই তারাদের শেষ চিঠি-তে (দীপ)। আশ্চর্য ভাষায় তাঁদের কথা বলেছেন গৌতম, এই মানুষেরা কখন একেবারে পাঠকের কাছে চলে আসেন বোঝাই যায় না। শুধু তাঁদের কথা নয়, তাঁদের জগৎটারও কথা। খেলার জগতের পটৌডী রিচি বেনো ব্র্যাডম্যান পঙ্কজ রায়ের সঙ্গে সুচিত্রা ভট্টাচার্য সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় আবার মান্না দে ঋতুপর্ণ ঘোষ, দেব আনন্দ রাজেশ খন্না— নিঃসন্দেহে তারকা সমাবেশ। যে শোকগাথা তিনি লিখেছেন, তারই উপযুক্ত পরিমণ্ডলে ইউটিউব প্রকাশ ঘটল বইটির, সম্পূর্ণ নিরালায়। মাইকেল মধুসূদনের সমাধির সামনে লেখকের সঙ্গে ছিলেন শুধু শ্রীজাত ও যীশু সেনগুপ্ত, আর ক্যামেরায় প্রেমেন্দুবিকাশ চাকি। অন্য চরিত্রের বইটি প্রকাশ পেল একেবারেই অন্য ভাবে। ছবি: শুভাশিস ভট্টাচার্য

 

সহজ করে

ইংরেজির ভয় এ রাজ্যের ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে কম নয়। পাশফেলহীন বাংলা স্কুলের ইংরেজি ক্লাসে সিলেবাস উতরোনোই মুখ্য, ইংরেজিটা আর শেখা হয় না। এর সমাধানেই ইংরেজি শেখার অ্যাপ ‘অভেদ ইংলিশ’ তৈরি করেছেন বিশ্বজিৎ মিত্র ও তাঁর বন্ধুদের সংস্থা অভেদ ফাউন্ডেশন। চাই শুধু একটা অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোন, গুগ্‌ল প্লে-স্টোরে অ্যাপটি মিলবে বিনামূল্যে। এক বার ডাউনলোড করলে, বাকি কাজ অফলাইনে। সবচেয়ে বড় সুবিধে, সমস্ত নির্দেশিকা সহজ বাংলায়। স্মার্টফোনকে কম্পিউটারের সঙ্গে জুড়ে ক্লাসেও ব্যবহার করা যাবে, নেওয়া যাবে ‘লেস্‌ন’গুলোর প্রিন্টআউটও। প্রেস ক্লাবে সম্প্রতি উদ্বোধন হল ‘অভেদ ইংলিশ’এর, ছিলেন শঙ্খ ঘোষ, মীরাতুন নাহার।

 

তথ্যের ভাণ্ডারী

সত্যজিৎ রায়ের ‘সিধু জ্যাঠা’ কি নিছক গল্পের চরিত্র? বাস্তবেও এঁদের দেখা মেলে। খবরের কাগজের কাটিং রাখেন অনেকেই। তবে কারও কারও তথ্য থাকে নখের ডগায়। খুঁটিয়ে কাগজ পড়তে গিয়ে ভুলত্রুটি ধরে ফেলেন সহজেই, আর সঙ্গে সঙ্গে পত্রাঘাত। আঘাত করতে নয়, পরিপূরক তথ্য পাঠককে জানাতে। সব চিঠি হয়তো প্রকাশের মুখ দেখে না, কিন্তু মনে মনে তাঁর পাণ্ডিত্যকে কুর্নিশ না করে পারেন না সম্পাদকরা। বাস্তবের এই সিধু জ্যাঠার নাম সজল চৌধুরী।

সম্প্রতি আশি পূর্ণ করেছেন, মনে তিরিশের তারুণ্য। গুরুর উপদেশ ছিল যা করবে ছাপা নমুনা রাখবে। অন্তত ডজনখানেক স্মারকগ্রন্থ সম্পাদনা করেছেন। ‘সারস্বত সমাজ’ প্রতিষ্ঠার মূল মস্তিষ্ক তিনিই। জীবনীগ্রন্থ পাঠে অদম্য উৎসাহ, ইতিমধ্যেই দু’খণ্ডে বঙ্গের পাশ্চাত্য বৈদিক রত্নমালা প্রকাশ করেছেন। এ বার লিখছেন ইংরেজিতে মহামহোপাধ্যায়’স অব ইন্ডিয়া, যা বইমেলায় প্রকাশিত হবে। শতাধিক মহামহোপাধ্যায়-জীবনীর সুলুক সন্ধান দেবে এই বই।

সজল চৌধুরীর জন্ম ফরিদপুরের কোটালিপাড়ায়। বাবা সুনীতিভূষণ, মা মৃণালিনী। দেশভাগের পর ভারতে চলে আসা, ম্যাট্রিক পাশ করেই বেসরকারি বিমা সংস্থায় চাকরি, কোনও কিছুই জ্ঞানচর্চায় বাধা হতে পারেনি। পরে আধুনিক ইতিহাসে স্নাতকোত্তর করেছেন। সাহচর্য পেয়েছেন হেমচন্দ্র ভট্টাচার্য, অনন্তলাল ঠাকুরের। বিপত্নীক মানুষটির দিন কাটে পড়াশোনা করে আর বরাহনগরের আঞ্চলিক ইতিহাস অনুসন্ধানে। ছবি: অর্ণব নাগ

 

আলোয় ফেরা

ওদের জীবনও অন্যদের মতোই। ওদের প্রতিভা আছে। কিন্তু নিষিদ্ধপল্লিতে জন্ম হওয়ায় ওরা মর্যাদা পায় না। ওদের নিয়ে কাজ করছেন সংগীতশিল্পী ঋদ্ধি বন্দ্যোপাধ্যায়। থিয়েটারের গানকে সঙ্গী করেই ঋদ্ধির সংগীতজীবন শুরু। পরে পঞ্চকবির গান ও পুরনো গানকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার সঙ্কল্প নেন শিল্পী। তাঁর কথায়, ‘‘এক সময় অনুরোধের আসরে দ্বিজেন্দ্রলাল, রজনীকান্ত ও অতুলপ্রসাদের গান প্রায়ই শোনা যেত। কিন্তু পরে তা হারিয়ে যায়।’’ বাঙালি শ্রোতার কাছে রবীন্দ্র-নজরুলের সঙ্গে এই তিন কবির গান ও পুরনো গানকে পৌঁছে দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি কর্মশালার মাধ্যমে নিষিদ্ধপল্লি থেকে তুলে এনেছেন প্রতিভা। ওঁর সংস্থা ‘ঋদ্ধি: আ স্টেপ ফর মিউজিক’ ওদের জায়গা করে দিচ্ছে মঞ্চে। মূলত গওহরজান, বিনোদিনী, আঙুরবালা, ইন্দুবালা, কাননদেবী, রানীবালা-র গান শোনাবেন তাঁরা। ১৮ জানুয়ারি সন্ধে সাড়ে ছ’টায় রবীন্দ্রসদনে অনুষ্ঠান ‘আলোয় ফেরা— সংস্ট্রেস’। এতে শহরের যে অভিনেত্রীরা একদা মঞ্চ-পর্দা-ডিস্কে কাজ করেছেন তাঁদের জীবন-গান মঞ্চস্থ হবে। ‘কোমলগান্ধার’ (দুর্বার)-এর শিল্পীরা ছাড়াও থাকবেন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, সতীনাথ মুখোপাধ্যায়, দেবজিত বন্দ্যোপাধ্যায় প্রমুখ। সম্মান জানানো হবে মিস শেফািলকে। অনুষ্ঠান ভাবনা ও পরিচালনায় ঋদ্ধি।