ফেলুদার সুবর্ণজয়ন্তী

তুমি যে বলো টাকাটা সব সময় বড় নয়’, কথাটা ফেলুদাকে তার ঘরে বসে বলেছিল তোপসে, ‘সোনার কেল্লা’ ফিল্মে। সেই ঘরটারই ছবি সঙ্গে, ফিল্মের জন্যে এঁকেছিলেন সত্যজিৎ। ‘বাবা বড় ড্রইং বুকে সিনেমার সেট ডিজাইন করতেন...’, বাক্য শেষ না করেই ‘ফেলুদা ৫০’ নিয়ে প্রদর্শনীর উদ্দেশ্য জানালেন সন্দীপ রায়, ‘পাণ্ডুলিপির প্রথম খসড়া, পত্রিকায় যে হেডপিস বা ছবি আঁকতেন, আবার বই বেরনোর সময় আঁকা প্রচ্ছদ থেকে ছবি, সবই থাকছে প্রদর্শনীতে।’ ‘সন্দেশ’ পত্রিকায় ১৯৬৫-র ডিসেম্বরে প্রথম গল্প ‘ফেলুদার গোয়েন্দাগিরি’, তিন সংখ্যায় প্রকাশিত হয়। ‘‘বাবার খসড়া খাতায় লেখা কাহিনির নাম কত সময়ে বদলে যেত ফুলস্ক্যাপ কাগজে ফাইনাল কপি করার সময়। ‘রাজস্থানে ফেলুদা’ ও ‘কাশীধামে ফেলুদা’ বদলে হল ‘সোনার কেল্লা’ আর ‘জয় বাবা ফেলুনাথ’। হেঁয়ালিগুলো অসম্ভব কাটাকুটি করতে করতে ফাইনাল করতেন। ক্যালিগ্রাফি থেকে ইলাস্ট্রেশন, বাবার লেখক-মনের বিবর্তনটা ধরা থাকবে প্রদর্শনীতে।’’ ২ মে সত্যজিতের জন্মদিন উপলক্ষে ৩০ এপ্রিল আইসিসিআর-এ শুরু হচ্ছে প্রদর্শনীটি, সন্দীপ-সহ সব্যসাচী চক্রবর্তী পরান বন্দ্যোপাধ্যায় সাহেব ভট্টাচার্য ধৃতিমান চট্টোপাধ্যায় সেদিন বিকেল সাড়ে ৪টেয় উদ্বোধন সেরে সাড়ে ৬টা থেকে মাতবেন ফেলুদাকে নিয়ে আড্ডায়। চলবে ৪ মে পর্যন্ত। এর পর যাবে ক্যালকাটা ক্লাবে, ৬-৭ মে। আয়োজনে সত্যজিৎ রায় সোসাইটি।

 

নয় দশক

• ‘... এই অকিঞ্চিৎকর জীবনে দুটি আলাদা, পরিস্বচ্ছ, চরিতার্থতাবোধ: এক, রবীন্দ্রনাথের ভাষায় আমার জন্ম; দুই, আমার চেতনা জুড়ে মার্ক্সীয় চেতনার প্লাবিত বিভাস।’ তাঁর আপিলা-চাপিলা-র উপসংহারে লিখেছিলেন অশোক মিত্র। সেই স্মৃতিবৃত্তান্তের প্রকাশের পরে চোদ্দো বছর অতিক্রান্ত। গত সোমবার, ১০ এপ্রিল নব্বইয়ে পা দিলেন এই সহনাগরিক। শরীর অসক্ত। দৃষ্টি ও শ্রবণ, দুইই অসহযোগ ঘোষণা করেছে বেশ কিছু কাল। কিন্তু মস্তিষ্ক আজও প্রখর, হৃদয় সংবেদী। বিপন্ন সময়ের বুকে দাঁড়িয়ে দেশে ও দুনিয়ায় সর্বগ্রাসী অন্ধকারের দাপট দেখে অবিরত শিউরে উঠতে উঠতেও তিনি হাত গুটিয়ে নেন না, জানিয়ে চলেন তাঁর প্রত্যয়ী প্রতিস্পর্ধা। এমনকী অ-সম্ভব উদ্যমে শুরু করেন নতুন পাক্ষিক পত্রিকা আরেক রকম, এবং নিয়মিত লিখে চলেন তাতে। এমনকী পশ্চিমবঙ্গের সর্বহারা বামপন্থীদের প্রতি তাঁর তীব্র তিরস্কারেও নিহিত থাকে বিবেকবান আর্তি: ‘ঝালেঝোলেঅম্বলে জড়িয়ে থাকার সুবিধাবাদ’ ছেড়ে, কমরেড, নিজের মুখোমুখি দাঁড়ান! কেউ শুনুক বা না শুনুক, নব্বইয়ে পা-রাখা এক জন বলছেন, এটুকুই ভরসা।

 

বিষয় কার্টুন

• শিল্পী যতীন্দ্রকুমার সেনের গ্রন্থচিত্রণের সঙ্গে রাজশেখর বসুর সাহিত্যের মিলনে রবীন্দ্রনাথ লিখেছিলেন ‘লেখনীর সঙ্গে তুলিকার কী চমৎকার জোড় মিলিয়াছে...’। যতীন্দ্রকুমার-রাজশেখর জুটি নিয়ে দীর্ঘ রচনা বিশ্বদেব গঙ্গোপাধ্যায়ের, তাঁরই সম্পাদিত বিষয় কার্টুন-এর এ বার ‘যতীন সেন সংখ্যা’। এ দেশের পথিকৃৎ কমার্শিয়াল আর্টিস্ট যতীন সেন, রসচিত্রের সঙ্গে রঙ্গরচনাতেও সক্রিয় ছিল তাঁর তুলিকলম। পাশ্চাত্য ও ভারতীয় চিত্ররীতির মেলবন্ধন ছিল তাঁর শিল্পে। যতীন্দ্রকুমারের ১২৫তম জন্মবর্ষে (২০০৭) বিষয় কার্টুন যে সংখ্যা প্রকাশ করেছিল তারই পরিবর্ধিত সংস্করণ বেরল বুক ফার্ম থেকে। তাঁকে নিয়ে মূল্যবান স্মৃতিচারণের পাশাপাশি সংকলিত হয়েছে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ রচনাদিও। তাঁর অসংখ্য চিত্রও ঠাঁই পেয়েছে এ সংখ্যায়, যা থেকে বোঝা যায় তাঁর ছবি আঁকার বিস্তৃত ভুবন।

 

নিবেদিতার ভারতবর্ষ

• ভগিনী নিবেদিতার জন্মের সার্ধশতবর্ষ এ বছর, উপলক্ষটি জন্ম দিয়েছে নতুন করে নিবেদিতা চর্চার। প্রকাশনা সংস্থা সূত্রধর ব্যতিক্রমী বই-ভাবনা ও প্রকরণে বিশ্বাসী, নিবেদিতা-স্মরণে তাঁরা স্বামী লোকেশ্বরানন্দের তিনটি প্রবন্ধ একত্রে পুস্তকাকারে প্রকাশ করতে চলেছেন। মূল ইংরেজি লেখাগুলি অনুবাদে গ্রথিত হয়েছে ভগিনী নিবেদিতার ভারতবর্ষ নামে, কথামুখ স্বামী শিবপ্রদানন্দের। অন্য বই ত্রি-তরঙ্গে শ্রীরামকৃষ্ণ-তে (সম্পা: সুমন ভৌমিক) আছে দ্বিজেন্দ্রলাল-পুত্র দিলীপকুমার রায়ের তিনটি লেখা। ব্যক্তিজীবনে শ্রীঅরবিন্দের দীক্ষিত দিলীপকুমারের লেখাগুলিতে ফুটে উঠেছে শ্রীরামকৃষ্ণের প্রেমময় ভাব। রামকৃষ্ণ মিশন ইনস্টিটিউট অব কালচারের বিবেকানন্দ হল-এ আজ সন্ধে ৬টায় বই দুটির প্রকাশ-অনুষ্ঠান। সঙ্গে স্বামী লোকেশ্বরানন্দ তৃতীয় স্মারক বক্তৃতা: শক্তিপ্রসাদ মিশ্র।

 

কবিতার আড্ডা

• কবিতার জন্ম কী ভাবে হয়? অথবা কবিতার কি মৃত্যু হয়? কফি হাউসেই গদ্যকারদের টেবিল থেকে কবিতার টেবিলে এক দিন চলে এলেন শক্তি চট্টোপাধ্যায়, আর ফিরলেন না। রেশন আনার টাকা থেকে তিন টাকা সরিয়ে জীবনানন্দের সাতটি তারার তিমির কিনেছিলেন সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়— এ বারের ‘কারিগর আড্ডা’ ১৮ এপ্রিল, সন্ধে ৬টায় (শ্যামবাজার মোড়ের কাছে) কবিতার এই রকম অন্তর-বাহির নিয়েই। থাকবে কবিতা পাঠ। সেই সঙ্গে কবি ও কবিতার নানা প্রসঙ্গ। এমনকী ‘হালফিলের বাংলা কবিতা সমাজবিচ্যুত, নাকি সমাজসচেতন?’— এই বিতর্কও। আড্ডায় নবনীতা দেব সেন, প্রণবকুমার মুখোপাধ্যায়, সব্যসাচী দেব, তিলোত্তমা মজুমদার, চৈতালি চট্টোপাধ্যায়, যশোধরা রায়চৌধুরী, চৈতি ঘোষাল, সেঁজুতি মুখোপাধ্যায় এবং অনুপম রায়।

 

সম্প্রীতি

• সম্প্রীতি মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি উদার করে। মানুষকে ঐক্যে বিশ্বাস করতে শেখায়। নিজের ধর্মের প্রতি যেমন বিশ্বাস জোরালো করে, তেমনই অন্যের ধর্মের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করা যাবে না, এ বোধও তৈরি করে। ১৯ এপ্রিল, রবীন্দ্রসদনে, বিকেল সাড়ে ৫টায়, দেড়শতাধিক শিল্পী সমন্বয়ে আলো ধ্বনি মঞ্চ সহযোগে, ‘সম্পূর্ণ সঞ্চয়িতা’র দশ বছর পূর্তি উপলক্ষে কণিকাঞ্জলি নিবেদন করছে ‘সম্প্রীতি’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠান। সঙ্গী করা হয়েছে বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, গীতিকা, পাঁচালি, পালাগান, লোকায়ত গান, পদাবলি, কবিতাকে। পরিচালনায় সুদীপ্ত মিত্র ও শিল্পী মিত্র। ভাবনায় মাধবী মুখোপাধ্যায়।

 

অভিযাত্রী

• পণ্ডিত অভিযাত্রী তিনি, ঘটনাচক্রে গুপ্তচরও। তিব্বতি তথা বৌদ্ধ সংস্কৃতি ও জনজীবনে আগ্রহী শরৎচন্দ্র দাস (১৮৪৯-১৯১৭) তিব্বতে গিয়েছিলেন ১৮৮২ সালে, সেখানকার প্রাচীন মঠ থেকে নিয়ে এসেছিলেন বহু বৌদ্ধ গ্রন্থের অনুলিপি, সংকলন করেছেন তিব্বতি-ইংরেজি অভিধান। তাঁর লিখে যাওয়া দুর্গম যাত্রাপথের অনুপুঙ্খ বর্ণনা, হিমালয়ের খুঁটিনাটি ভৌগোলিক তথ্য কাজে লেগেছিল ব্রিটিশ সরকারের, পেয়েছিলেন সরকারি খেতাব, রয়্যাল জিয়োগ্রাফিক সোসাইটির সম্মানও। শরৎচন্দ্রকে ছাড়া উনিশ শতকের বৌদ্ধ সংস্কৃতি চর্চা নিতান্ত অসম্পূর্ণ। প্রয়াণের একশো বছরে তাঁকে স্মরণ করবে ‘যারা যাযাবর’ পত্রিকা, ১৯ এপ্রিল সন্ধে ছ’টায় জীবনানন্দ সভাঘরে। কথায় পরিমল ভট্টাচার্য, আর শরৎচন্দ্রের অনুসৃত পথের ছবি দেখাবেন রতনলাল বিশ্বাস।    

 

প্রাণী সংরক্ষণ

• প্রাণী সংরক্ষণের জগতে প্রবাদপ্রতিম জেরাল্ড ডারেল (১৯২৫-’৯৫) সারা জীবন এক-একটি বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতিকে পালন করে বংশবিস্তারে সাহায্য করেছেন, পরে প্রকৃতিতে মুক্ত করেছেন তাদের। জন্তুজানোয়ারের সঙ্গে তাঁর মাখোমাখো সম্পর্ক নিয়ে লেখা মজাদার অ্যাডভেঞ্চার স্বাদের বইগুলো— মাই ফ্যামিলি অ্যান্ড আদার এনিম্যালস, আ জু ইন মাই লাগেজ ইত্যাদি, পৃথিবীভর পাঠককে মাতিয়ে রেখেছে আজও। ‘ডারেল ওয়াইল্ডলাইফ কনজারভেশন ট্রাস্ট’ আজও কী ভাবে একই সংকল্প বহন করে চলেছে তার বর্ণনা দিয়ে গেলেন লি ডারেল, ১২ এপ্রিল ভারতীয় সংগ্রহশালায়। লি প্রয়াত জেরাল্ডের স্ত্রী, বর্তমানে ওই ট্রাস্টের প্রধান। এই মুহূর্তে ১৪টা দেশে ৫০টা প্রকল্পে চলেছে সংরক্ষণের কাজ। অসমেও তাঁরা কাজ করছেন, পিগমি হগ নিয়ে। আরও তিনটি বক্তৃতা তিনি দেবেন কলকাতায়, একটি ১৮ এপ্রিল, টালিগঞ্জ ক্লাবে, সন্ধ্যা সাড়ে ছটায়। অপরটি ১৯-এ, ব্রিটিশ কাউন্সিলে, সন্ধ্যা ৭টায়, এবং সে দিনই ভিক্টোরিয়ায় বেলা ১২টায়।

 

শিল্পের যোগসূত্র

• বিশ শতকের সূচনায় বঙ্গীয় শিল্পধারায় সে এক নব্যরীতির জোয়ার। পাশাপাশি নিঃশব্দে শুরু হয়ে গিয়েছিল এশিয়ার অন্যান্য দেশের সঙ্গে এক আশ্চর্য আদানপ্রদানের প্রক্রিয়া, যার কেন্দ্রে প্রথমে জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ি, তারপর রবীন্দ্রনাথ ও শান্তিনিকেতন। জাপান থেকে এলেন ওকাকুরা, টাইকান। পরে ওকাকুরার মৃত্যু এবং বিশ্ব-রাজনীতিতে জাপানের জঙ্গি-ভূমিকা এই শৈল্পিক সম্পর্কে কিছুটা ছেদ টেনে দেয়। ১৯২৪-এ রবীন্দ্রনাথের চিন-সফর, ১৯২৭-এ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া সফর ফের নতুন সম্পর্কের ভিত্তি তৈরি করেছিল। চিন, ইন্দোনেশিয়া, তাইল্যান্ড, মায়ানমারের শিল্পীরা শান্তিনিকেতনে আসেন, ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ দেববর্মণও চিনে গিয়েছিলেন। এই সম্পর্কের অন্ধিসন্ধি খুঁজেছেন টেগোর রিসার্চ স্কলার অমিতাভ ভট্টাচার্য। সংশ্লিষ্ট ছবি আর তথ্যে সাজানো তাঁর প্রদর্শনী ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালে, চলবে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত। সঙ্গে ইন্দোনেশিয়ার শিল্পী আফান্দি কোসোমা-র আঁকা ‘বাউল’। 

 

নতুন সংগ্রহশালা

• রবীন্দ্রনাথ বলেছিলেন, ‘দেশে থাকিয়া দেশের বিবরণ সংগ্রহ করিতে আমরা একেবারে উদাসীন, এমন লজ্জা আর নাই।’— কবির আক্ষেপ এ বার অনেকটাই দূর করবে একাডেমি থিয়েটার আর্কাইভ তথা ‘ডিজিটাইজড রিসোর্স সেন্টার’। ১৯৮৪ থেকে দেবজিত্ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে একাডেমি থিয়েটার শুধু মঞ্চগানই নয়, ভিন্ন ধারার সংগীত, যাত্রা, সিনেমা, সাহিত্য আর মঞ্চ ঘিরে করে চলেছে পূর্বাপর অনুসন্ধান। বিস্মৃতপ্রায় বহু তথ্য ও সরঞ্জাম হাজির করে মধ্য হাওড়ায় (১৭৭ নেতাজি সুভাষ রোড) গড়ে ওঠা সে সংগ্রহশালায় থাকছে কোলব্রুক ও কেরির অভিধান থেকে শুরু করে সৌম্যেন্দু রায়ের জাতীয় পুরস্কারগুলি পর্যন্ত। ২২ এপ্রিল সন্ধে ৫টায় এটি উদ্বোধন করবেন মাধবী মুখোপাধ্যায়। উপস্থিত থাকবেন বাংলাদেশের অভিনেত্রী ফেরদৌসি মজুমদার, নাট্যব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার, ইতিহাসবিদ সব্যসাচী ভট্টাচার্য, মন্ত্রী অরূপ রায় ও রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় প্রমুখ। এ দিনই ‘ইন্দিরা গ্যালারি’ প্রেক্ষাগৃহে এক প্রদর্শনীও থাকছে। ‘অজিত আলয়’ মহলা কক্ষে দেখা যাবে আদি থেকে বর্তমান অবধি বিভিন্ন যুগের ক্যামেরার সম্ভার (সঙ্গে তারই একটির ছবি)।

 

সহজিয়া উৎসব

• সাধক-গায়ক-পদকর্তা সনাতন দাস বাউল গত বছর প্রয়াত হন। এই মানুষটির স্মরণেই আয়োজিত হয়েছে এ বারের সপ্তম সহজিয়া উৎসব। ২০ এপ্রিল বিকেল ৪টেয় রবীন্দ্রসদনে এই উৎসবে থাকবেন সাধন দাস বৈরাগ্য, মাকি কাজুমি, দেবদাস বাউল, মনসুর ফকির, কানাই দাস বাউল, বিশ্বনাথ দাস বাউল, কার্তিক দাস বাউল, লক্ষণ দাস বাউল, শুভেন্দু মাইতি, কবি অরুণ চক্রবর্তী, স্বপন বসু, তন্ময় বসু, বিক্রম ঘোষ, আব্রাহাম মজুমদার, শিলাজিৎ, সৌমিত্র, অনিন্দ্য-উপল, সিধু, পটা, ইমন চক্রবর্তী, রথীজিৎ ভট্টাচার্য, দেব চৌধুরী এবং সহজিয়া লোকগানের দল। সহজিয়া সম্মান পাবেন অনন্ত গোঁসাই, নরোত্তম দাস বাউল এবং মোসলেম ফকির। অনুষ্ঠানে ৩০জন লোকশিল্পীর হাতে ‘সৌর আলো’ তুলে দেওয়া হবে সহজিয়া ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে। 

 

নবীন শিল্পী

ছেলেবেলা থেকেই রঙ-তুলির প্রতি প্রবল আকর্ষণ। স্কুলে পড়ার সময় পাঠ্যবইয়ের বিভিন্ন ব্যক্তিত্বের মুখের ছবি হুবহু আঁকার খাতায় তুলে নিতে পারতেন। আর তখন থেকেই শিল্পী পাপ্পু বর্ধন মনে মনে ঠিক করে নেন ভবিষ্যতে শিল্পকলা নিয়েই পড়াশোনা করবেন। পেন্টিং বিভাগে ভর্তি হলেন রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে। প্রথম শ্রেণিতে পাশ করে চলে যান বডোদরায় এম এস ইউনিভার্সিটি-তে ফাইন আর্টস নিয়ে পড়তে। কলেজ জীবনের শুরুর দিকে অস্ট্রিয়ার শিল্পী এগন স্কিয়েল এবং যামিনী রায়ের ছবি তাঁকে প্রভাবিত করত। শিল্পী তাঁর ছবির উপাদানের মধ্যে লাইন, ড্রয়িং, স্পেস ডিভিশন এবং ছবির বিষয়বস্তুকেই বেশি গুরুত্ব দেন। বিয়াল্লিশের শিল্পী জানালেন, যেহেতু তিনি গ্রাম ও শহরের মাঝে বেড়ে উঠেছেন, তাই তাঁর ছবির মধ্যে শহর ও গ্রামের বিষয়গুলি সমান ভাবে জায়গা করে নিয়েছে। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি পুরস্কারপ্রাপ্তিও ঘটেছে। এই বার তাঁর বাইশটি ‘পেন্টিং অন পেপার’ শিল্পকর্ম নিয়ে প্রথম একক প্রদর্শনী আয়োজিত হয়েছে উইভার্স স্টুডিয়ো সেন্টার ফর দি আর্টস-এ। ২০-২৪ এপ্রিল, ৪-৮টা পর্যন্ত। ১৯ এপ্রিল, সন্ধে সাড়ে ৬টায় উদ্বোধন করবেন নবনীতা দেব সেন, বিকাশ সি সান্যাল, শুভাপ্রসন্ন ও শিপ্রা ভট্টাচার্য। সামগ্রিক নির্মাণে শৌনক চক্রবর্তী।