যামিনী রায়: ফিরে দেখা

অধিকাংশ উল্লেখযোগ্য চিত্রকর আকারের ভাস্কর্যমূলক সমস্যা নিয়ে কমবেশি ভাবিত থাকেন অথবা রঙের ঐশ্বর্যবিস্তারে ঝোঁক দেন। যামিনী রায় চিত্রের গঠনময়তা আর ভাস্কর্যের কঠিন স্পর্শসহতা কখনও এক ভাবেননি, আবার বর্ণাঢ্য রেখার স্পষ্টতাও কখনও হারাননি বর্ণের বিলাসে। তাঁর চিত্রসাধনায় আমাদের শিল্পের মুক্তি হয়েছিল নতুন দিগন্তে। কী ভাবে এই মুক্তির দিকে এগিয়েছিল তাঁর শিল্প চর্চা, তা আজ সকলেরই অল্পবিস্তর জানা। সূচনা ইউরোপীয় শিল্পজগৎ থেকেই, কিন্তু যামিনী রায় খুব দ্রুত খুঁজে নিয়েছিলেন আত্মপরিচয়ের পথ। শিল্পীর বাড়িতে জীর্ণ এক খণ্ড পুরনো ‘প্রবাসী’ পত্রিকা দেখেছিলেন বিষ্ণু দে, সেখানে মুদ্রিত রবীন্দ্রনাথের একটি প্রবন্ধের কয়েকটি লাইনে দাগ দিয়ে শিল্পী মন্তব্য লিখেছিলেন: ‘আমার মনের কথা আজ লিখায় পড়লাম... ঠিক আট মাস পূর্বে এই কথা উপলব্ধি হয়েছে— ১৮ জ্যৈষ্ঠ, ১৩৩০ সাল।’ রবীন্দ্রনাথ লিখেছিলেন, ‘ভারতবর্ষ যদি খাঁটি ভারতবর্ষ না হয়ে ওঠে তবে পরের বাজারে মজুরি করা ছাড়া পৃথিবীতে তার আর কোনও প্রয়োজনই থাকবে না; তাহলে তার আপনার প্রতি আপনার সম্মানবোধ চলে যাবে এবং আপনাতে আপনার আনন্দও থাকবে না।’ এমত যামিনী রায়ের শিল্পকর্মকে আরও একবার ফিরে দেখতে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য চারুকলা পর্ষদে যামিনী রায়ের বিপুল ছবির সংগ্রহ থেকে ৫০টি অনন্য ছবি নির্বাচন করে নজরুলতীর্থ-এর (হিডকো) উদ্যোগে নিউটাউনে তাদের প্রদর্শশালায় শুরু হচ্ছে ‘যামিনী রায়— আ রেট্রোস্পেক্টিভ’, সার্বিক সহায়তায় তথ্য ও সংস্কৃতি বিভাগ, পশ্চিমবঙ্গ সরকার ও রাজ্য চারুকলা পর্ষদ। ৮ অগস্ট বিকেল চারটেয় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে থাকবেন যোগেন চৌধুরী ও পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। প্রকাশিত হবে একটি তথ্যসমৃদ্ধ ক্যাটালগ। প্রদর্শনী ৩১ অগস্ট পর্যন্ত রোজ ২-৮টা। সঙ্গের ছবি: ‘অশ্ববাহিনী’।

২২ শ্রাবণ

সেদিনও এক ২২ শ্রাবণ, সালটা ১৩৩৯। কবি তখন প্রশান্তচন্দ্র মহলানবিশের বরানগরের বাগানবাড়ি ‘শশীভিলা’য় (সঙ্গের ছবি)। জার্মানিতে কবির একমাত্র দৌহিত্র মীরাদেবীর পুত্র ‘নীতু’ (নীতীন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায়) গুরুতর অসুস্থ। কবি দুশ্চিন্তায়। তাই হয়তো তিনি মীরাদেবীকে উদ্দেশ করে আগের দিনই ‘দুর্ভাগিনী’ কবিতাটি লেখেন। নীতু চলে গেলেন ২২ শ্রাবণেই। পরের দিন লন্ডন থেকে সংবাদসংস্থা রয়টার্স জানাল সেই খবর। কবি ‘শশীভিলা’তেই লিখলেন ‘মাতা’ কবিতাটি যেখানে ভাষা পেয়েছে নারীহৃদয়ের বাৎসল্য। এই শোকসংবাদ বৃদ্ধ কবি কতটা নিতে পারবেন সেই আশঙ্কায় শশীভিলায় প্রশান্তচন্দ্র মহলানবিশ, নির্মলকুমারী মহলানবিশ, রথীন্দ্রনাথ ও প্রতিমা দেবী এক সঙ্গে যখন কবির সামনে আসেন তখন তিনি নিজের থেকেই নীতুর কথা বলতে থাকেন। তাঁদের কাছ থেকে মৃত্যুসংবাদ শোনার পর কবির চোখ দিয়ে দুফোঁটা জল গড়িয়ে পড়ল। পরক্ষণেই তিনি কে কী করবেন তা জানিয়ে দেন। কবির সে দিনের আবাস সেই ‘শশীভিলা’ আজ অবহেলায় জীর্ণ। অরূপ সাধু বরানগর, রবীন্দ্রনাথ ও প্রশান্তচন্দ্রকে নিয়ে অনেক দিন ধরেই তথ্যানুসন্ধান করছেন, তাঁর ঝুলিতে এমন অনেক তথ্য ও চিত্র সংগৃহীত হয়েছে। প্রস্তুতি চলছে গ্রন্থাকারে তা প্রকাশের। ছবি: অরূপ সাধু

অবচেতন

বছর দুয়েক আগে দোলের রঙে ভিজে যাওয়া শান্তিনিকেতনের পথঘাট পেরিয়ে সনৎ করের পূর্বপল্লির বাড়িতে হাজির হন সৌরভ দে দেবজ্যোতি মুখোপাধ্যায়। আড্ডার মেজাজে উঠে আসে সনৎ করের ছবিতে অবচেতনের কথা। চিত্রকর বলেন ‘অবচেতনের এই জগৎ আমাদের কয়েকজনের মধ্যে আজও রয়ে গেছে।... শাস্ত্রীয় সংগীতে এখনও একটা অবচেতনের জগৎ রয়েছে, একটা বিশাল গভীরতা রয়েছে।’ এমনই নানা অনুষঙ্গ নিয়ে মনের আনন্দে কথা বলে গিয়েছেন শিল্পী, টেপরেকর্ডারে ধরা সে সব কথাবার্তাই দেবভাষা থেকে বেরল পুস্তিকাকারে: ‘সাক্ষাৎকার সনৎ কর’। শুরু হল তাঁর শিল্পের প্রদর্শনীও: ‘ড্রইংস’ (সঙ্গে তারই একটি ছবি)। গত শনিবার ৫ অগস্ট সন্ধে ৬টায় ‘দেবভাষা বই ও শিল্প আবাস’-এ (৬ বি যতীন দাস রোড, কলকাতা ২৯)। উদ্বোধন করলেন সুশোভন অধিকারী। ২৫ অগস্ট অবধি প্রদর্শনী।

সাফল্য

গৌরবের খবর! ইউরোপের দু’টি গুরুত্বপূর্ণ শেক্সপিয়র-উৎসবে কল্যাণী কলামণ্ডলম নাট্যগোষ্ঠী তাদের সাম্প্রতিক প্রযোজনা ‘ম্যাকবেথ Mirror’ অভিনয় করল। চেক প্রজাতন্ত্রের অস্ত্রাভা ও পোল্যান্ডের গ্‌দান্‌স্ক শহরে, ২৯ জুলাই ও ১ অগস্ট। শেক্সপিয়রের বহুচর্চিত ‘ম্যাকবেথ’ দত্তাত্রেয় দত্তের অনুবাদ আর শান্তনু দাসের নির্দেশনায় মঞ্চস্থ হচ্ছিল এখানে। রূপান্তরে রয়েছে তিন ডাইনির (অভিনয়ে মোনালিসা অনন্যা দীপিকা) মনোদর্পণ ও তন্ত্রবিদ্যার অভিনিবেশ, মূলের প্রতি বিশ্বস্ততা বজায় রেখেই। অস্ত্রাভা-য় একটি দুর্গের মধ্যে মুক্তাঙ্গনে আয়োজিত উৎসবে প্রতি বছর বিভিন্ন দেশের বাছাই করা নাটকের সমারোহ, আর গ্‌দান্‌স্ক-এ বৃহৎ শেক্সপিয়র-উৎসব, যেখানে আমন্ত্রিত নাটকের সঙ্গে নানা অনুষ্ঠান ও কর্মশালা, তাতে যোগ দেন পিটার ব্রুকের মতো আন্তর্জাতিক নাট্যব্যক্তিত্বরা। বাংলা ভাষায় এই ভারতীয় নাটকটি ভিন্‌দেশি দর্শকের মন জয় করল।

    

প্রতিভা

প্রতিভার দহনই বোধহয় তাড়া করে ফিরত তাঁকে, ক্রমাগত নিবিড় নির্জনে একা করে দিত। তাই হঠাৎই গল্প-উপন্যাসের গদ্যশৈলীতে নতুন সম্ভাবনা জাগিয়ে চলে গিয়েছিলেন রং-তুলির বর্ণময় জগতে। তাঁর ‘অন্য ভুবন’ উপন্যাসটি ‘কৌরব’ থেকে প্রকাশিত হওয়ার পর সন্দীপন চট্টোপাধ্যায় লিখেছিলেন ‘বহুকাল পরে এরকম। এতখানি বাংলা গদ্য পড়লাম। কারো।’ বেরিয়েছিল একটি গল্পসংগ্রহও: ‘নীলিমা ও নির্বাসন’। রাজকুমার মুখোপাধ্যায় (জ. ১৯৫৫)। অন্তরঙ্গ ভাবে জড়িয়ে ছিলেন ‘কৌরব’ পত্রিকার সঙ্গে। চিত্রকর হওয়ার পর তাঁর ছবি নিয়ে প্রশংসনীয় প্রদর্শনীও হয়েছে কলকাতা দিল্লি বেঙ্গালুরুতে। গত ডিসেম্বরে চলে গেলেন অকালে। তাঁর স্মৃতিতে তাঁর বন্ধু ও আপনজনেরা আইসিসিআর-এর যামিনী রায় গ্যালারিতে তাঁর ছবির প্রদর্শনীর আয়োজন করেছিলেন।

মহেন্দ্রনাথ

অনুজ বিপ্লবী ভূপেন্দ্রনাথ আর অগ্রজ স্বামী বিবেকানন্দ, মধ্যমভ্রাতা মহেন্দ্রনাথ দত্ত। কৈশোরে বড়ভাই যেদিন শ্রীরামকৃষ্ণের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন সেই দিনটি থেকেই তিনি রামকৃষ্ণে নিবেদিত প্রাণ। ১৮৯৬-তে ব্যারিস্টারি পড়তে ইংল্যান্ডে যান। একই সময় বিবেকানন্দ ওখানে উপস্থিত ছিলেন। তিনি মহেন্দ্রনাথকে আইন ব্যবসা গ্রহণে নিরস্ত করেন। পরে মহেন্দ্রনাথ লেখেন লন্ডনে স্বামী বিবেকানন্দ শীর্ষক বইটি। লিখেছেন আরও অনেক গ্রন্থ। ১৯৫৬-র ১৫ অক্টোবর প্রয়াণ ঘটে এই মনীষীর। ১ অগস্ট মহেন্দ্র পাবলিশিং কমিটির উদ্যোগে মহেন্দ্রনাথ দত্তের ১৪৯ তম জন্মদিবস পালিত হল বিবেকানন্দ সোসাইটি হলে। জানা গেল মহেন্দ্রনাথের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বই পুনর্মুদ্রণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।  

সিল্ক রিভার

লন্ডনের টেমস এ বারে সিল্কের সুতোয় বাঁধা পড়ল বাংলার হুগলি নদীর সঙ্গে। ইউকে-ইন্ডিয়া সংস্কৃতি বর্ষ উপলক্ষে মুর্শিদাবাদে আয়োজিত হয়েছিল একটি শিল্পশিবির। এখানেই দু’দেশের শিল্পীরা মিলে বুনে তুলেছেন দশটি দীর্ঘ সিল্কের পতাকা। সম্প্রতি নন্দনে প্রদর্শিত হল এগুলি (সঙ্গের ছবিতে)। ওদেশের কাইনেটিকা এবং ভারতের থিংক আর্টস-এর যৌথ উদ্যোগে এই প্রকল্পের আয়োজন দু’দেশের সাংস্কৃতিক বন্ধন দৃঢ় করতে। সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছিল মুর্শিদাবাদ হেরিটেজ ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি, ক্রাফটস কাউন্সিল, বাংলা নাটক এবং ব্রিটিশ কাউন্সিল। এই প্রকল্পে যোগ দিয়েছিলেন আন্তর্জাতিক স্তরের শিল্পী, আলোকচিত্রীরা। স্টিভ শ-এর নির্দেশনায় দু’দেশের শিল্পীদের কাজ চলচ্চিত্রায়িত হয়েছে। সম্প্রতি নন্দনে প্রদর্শিত হল সিল্ক রিভার: দ্য লেগাসি শীর্ষক তথ্যচিত্রটি। সঙ্গে ছিল আলোচনাচক্র: দি ইম্পর্ট্যান্স অব প্লেস অ্যান্ড কমিউনিটি ইন ট্র্যাডিশনাল আর্ট ।  

তোমার আলোয়

কণ্ঠের ঐশ্বর্যে আধুনিক গানে যেমন তাঁর খ্যাতি, তেমনই রবীন্দ্রসংগীতেও। তাঁর গল্প ‘দেশ’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। বন্ধুর উৎসাহে ১৯৩৫-এ রেডিয়োতে প্রথম গান। সংগীতশিল্পী, সুরকার, সংগীত পরিচালক, প্রযোজক হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের জন্ম দক্ষিণ ২৪ পরগনার বহড়ু এলাকায়। এ বার তাঁর প্রাক্ জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে ৮ অগস্ট, শিশির মঞ্চে, বিকেল ৫টায় ‘হেমন্ত মুখোপাধ্যায় স্মরণ কমিটি’ আয়োজন করেছে ‘তোমার আলোয়’ শীর্ষক অনুষ্ঠান। প্রথম পর্বে হেমন্তের লেখা গল্পের শ্রুতিঅর্ঘ্য ও উদ্বোধন হবে তাঁর গানের একটি ওয়েবসাইট। দ্বিতীয় পর্বে শিল্পীর গাওয়া কিংবা তাঁর সুরারোপিত গানে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করবেন এক ঝাঁক তরুণ শিল্পী।

স্মরণ

১৯৩৮ সালের ১৬ ডিসেম্বর পূর্ববঙ্গের কুষ্টিয়া জেলায় তাঁর জন্ম। শ্রীরামপুর কলেজ, পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ ও কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চ শিক্ষা। রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতিহাস বিভাগে তৃপ্তি চৌধুরী যোগ দেন ১৯৭১-এ। বত্রিশ বছর তিনি ওই বিভাগকে নানা ভাবে সমৃদ্ধ করেছেন। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সেমিনারে তাঁর গবেষণাপত্র সমাদৃত হয়। গত ৫ জুলাই ৭৯ বছর বয়সে তিনি চলে গেলেন। তাঁর স্মরণে ১১ অগস্ট, দুপুর ২টোয়, রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগে এক স্মারক আলোচনাচক্রের আয়োজন করা হয়েছে। স্মৃতিচারণে সব্যসাচী ভট্টাচার্য, অরুণ বন্দ্যোপাধ্যায়, নির্বাণ বসু প্রমুখ। ‘রাণী পদ্মাবতী: ইতিহাসে বিতর্কিতা’ শীর্ষক গবেষণাপত্র উপস্থাপন করবেন রত্নাবলী চট্টোপাধ্যায়।

ফসিলস ১৮

খোঁড়ো আমার ফসিল, অনুভূতির মিছিল, প্রতিক্রিয়াশীল কোনও বিপ্লবে, শোনো তুমি কি আমার হবে?— এ রকম লিরিক তাঁর কলম থেকেই উঠে আসে। তাঁর কাছে গুরুত্ব পায় প্রথা ভাঙা, ব্যতিক্রমী, অফ-বিট কাজ। তিনি জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত সংগীত শিল্পী, সুরকার, গীতিকার, সংগীত পরিচালক রূপম ইসলাম। বাবা ছিলেন আকাশবাণী-দূরদর্শনে যুক্ত সংগীত পরিচালক। মা আকাশবাণীর অনুমোদিত গীতিকার। একটু বড় হয়ে ‘বাণীচক্র’-এ গান শিখেছেন। ১৯৯৫ সাল থেকে এগারো বছর টাকি হাউস স্কুলে শিক্ষকতা করেছেন। ১৯৯৯ সালে বন্ধুরা মিলে ‘ফসিলস’ তৈরি করেন। ওদের ১৮ বছর পূর্তি উপলক্ষে ১২ অগস্ট, বিকেল ৩টেয়, নজরুল মঞ্চে এক বিশেষ সংগীত অনুষ্ঠানের আয়োজন হয়েছে। প্রকাশিত হবে তাদের সপ্তম অ্যালবাম ‘ফসিলস ৫’। দেখা যাবে একটি মিউজিক ভিডিয়ো ও ডকুমেন্টারি। আয়োজনে ফসিলস ফোর্স ও অরেঞ্জ প্রোডাকশন।

ধ্রুপদী নৃত্য

প্রতি বারের মতো এ বারও অগস্টে ধ্রুপদী নৃত্যের উৎসবের আয়োজন ডোভার লেন মিউজিক কনফারেন্স-এর উদ্যোক্তাদের। শুরুতে অবশ্য কণ্ঠসংগীত, বার্ষিক মেধা সন্ধান প্রতিযোগিতায় সফল ও প্রতিশ্রুতিসম্পন্ন নবীন শিল্পীদের, ১২-১৩ অগস্ট। ২৫, ২৬, ২৭ অগস্টে ওডিশি, কত্থক, কুচিপুড়ি, ভরতনাট্যম— ধ্রুপদী নৃত্য। আইসিসিআর-এর সহযোগিতায় সত্যজিৎ রায় প্রেক্ষাগৃহে। নবীন শিল্পীদের পাশাপাশি নৃত্য পরিবেশনে সুজাতা মহাপাত্র, দীপক মহারাজ, টি ডি রেড্ডি লক্ষ্মী, পদ্মিনী কৃষ্ণন, দ্রৌপদী প্রভীনের মতো বিশিষ্ট শিল্পী। 

রানি কাদম্বিনী

আমি মেয়ে হিসেবে, একজন কর্মরত মেয়ে হিসেবেই আমাদের এই নতুন নাটক নির্দেশনার কাজে নিজেকে জড়িয়েছি। আবার আমি বাঙালি, অতএব একজন বাঙালি মেয়ে হিসেবেও এ-নাটক মঞ্চস্থ করার দায় বোধ করছি, কারণ নাটকটা কাদম্বিনী গঙ্গোপাধ্যায়কে নিয়ে, যিনি উনিশ শতকের বঙ্গীয় নবজাগরণে অগ্রগণ্য।’ নান্দীকার-এর নতুন প্রযোজনা ‘রানি কাদম্বিনী’ (কাহিনি: নারায়ণ সান্যাল) প্রসঙ্গে পরিচালকের অভিপ্রায় জানাচ্ছিলেন সোহিনী সেনগুপ্ত। প্রথম মহিলা চিকিৎসক কাদম্বিনী শুধু সফলই নন, প্রবাসেও গিয়েছিলেন, স্বামী দ্বারকানাথ গঙ্গোপাধ্যায় ও একাধিক সন্তানসহ পারিবারিক জীবনে ছিলেন স্বচ্ছন্দ। ‘এমন একজন চমৎকার মানুষকে কতটুকু জানি আমরা বা মনে রাখি তাঁকে? অথচ রবীন্দ্রনাথের যে বছরে জন্ম সে বছরেই জন্মেছিলেন তিনি, ১৮৬১। ফলে এ-নাটক আমার নিজস্ব জেন্ডার ইন্টারপ্রিটেশনস-ও বটে।’ সোহিনী তিন বছর বয়সে তাঁর অভিনয় জীবন শুরু করেন এই নান্দীকার-এই। থিয়েটার-ফিল্মে দীর্ঘকাল দাপটে অভিনয়ের পাশাপাশি এখন নিয়মিত নাট্য-নির্দেশকও তিনি। এ নাটকে তিনি কাদম্বিনীর ভূমিকায়, দ্বারকানাথের ভূমিকায় দেবশঙ্কর হালদার। ‘এক ঝাঁক কমবয়সি ছেলেমেয়েকে নিয়ে কাজ করেছি।’ নাট্যরূপ স্বাতীলেখা সেনগুপ্তর, সংগীত করেছেন ময়ূখ-মৈনাকের সঙ্গে। প্রথম অভিনয় অ্যাকাডেমি, ১৬ অগস্ট সন্ধে সাড়ে ৬টায়।