ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত ত্রিপুরা রাজ্যের ভৌগোলিক আয়তন কম হলেও, সৌন্দর্য ও বৈচিত্রের বিচারে এই রাজ্যের আকর্ষণ কিন্তু অপ্রতিরোধ্য। দক্ষিণ, পশ্চিম ও উত্তর প্রান্তে বাংলাদেশের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সীমান্ত রয়েছে, আর পূর্ব দিকে সীমানা ভাগ হয়েছে প্রতিবেশী দুই রাজ্য অসম ও মিজোরামের সঙ্গে। ১৯৪৯ সালে রাজ্য হিসেবে ভারতের সঙ্গে সংযুক্তিকরণ ঘটে ত্রিপুরার।

ত্রিপুরা নামটি কোথা থেকে এসেছে তা নিয়ে অবশ্য দ্বিমত আছে। অনেকে বলেন, ‘টুই’ (অর্থাৎ,জল) ‘প্রা’ (অর্থাৎ, কাছে), মানে জলের কাছে। এই শব্দ থেকেই ত্রিপুরা নামের সৃষ্টি। আবার অন্য মতে, এখানকার ত্রিপুরাসুন্দরী (৫১ সতীপীঠের অন্যতম) মাতার নাম থেকেই এই রাজ্যের নামটি এসেছে। নামকরণ নিয়ে দ্বিমত যা-ই থাক, একটা বিষয়ে কিন্তু সকলেই সহমত— সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৩০০০ ফুট উচ্চতার তারতম্যবিশিষ্ট রাজ্যে জঙ্গলাকীর্ণ পাহাড়, টিলা, নদী, সরোবর, ঝর্না, প্রাসাদ, তীর্থস্থান, অভয়ারণ্য, রবার-চা-আনারসের বাগান, বিস্ময়কর জীববৈচিত্র্য— সব মিলিয়ে ত্রিপুরার সৌন্দর্য অনন্য, অতুলনীয়।

ত্রিপুরায় বাঙালি অধিবাসীর সংখ্যা এতটাই বেশি যে বাংলা থেকে বেড়াতে যাওয়া পর্যটকেরা অন্য রাজ্যে এসেছেন বলে মনেই করবেন না। তবে বাঙালি ছাড়াও মণিপুরী ও অন্য উপজাতির মানুষও, যেমন ত্রিপুরী (দেববর্মন/দেববর্মা), চাকমা, লুসাই, মগ, রিয়াং, জামাতিয়া, উচাই, এখানে মিলেমিশে এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে থাকেন। রাজ্যের প্রায় ষাট শতাংশই বনভূমি (জঙ্গলাকীর্ণ পাহাড়) আর বাকি অংশ উপত্যকা ও সমতলভূমি। সারা বছরই মনোরম থাকে এখানকার আবহাওয়া তবে বর্ষাকালে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ যথেষ্টই বেশি। গোটা রাজ্যজুড়েই ছড়িয়ে রয়েছে এখানকার দর্শনীয় স্থানগুলি। ঠিক ভাবে পরিকল্পনা না করলে, একযাত্রায় সবটা দেখাই মুশকিল হয়ে পড়ে।

আইজল-চাম্ফাই-থেনজোয়াল-লুংলেই-রেইক

আগরতলা:

ত্রিপুরা রাজ্যের রাজধানী, হাওড়া নদীর তীরবর্তী আগরতলা অবশ্য ত্রিপুরার নবীন রাজধানী, এমনটা বলাই যায়। ১৭৭০ খ্রিস্টাব্দে পুরনো রাজধানী উদয়পুর থেকে মহারাজা কৃষ্ণমাণিক্য রাজধানী স্থানান্তর করেন ‘পুরনো আগরতলা’-য়। পরবর্তী কালে স্থায়ী ভাবে রাজধানী স্থানান্তরিত হয় বর্তমান আগরতলা শহরে। উত্তর-পূর্বাঞ্চলের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর আগরতলার দ্রষ্টব্য স্থানগুলি এক এক করে দেখে নিন।

আরও পড়ুন: রামধনু আর মেঘের টানে এই শ্রাবণে যোগপ্রপপাত

উজ্জয়ন্ত প্রাসাদ:

শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত এই রাজপ্রাসাদের অনেকটা অংশই মিউজিয়ামে পর্যবসিত। ১৯০১ সালে মহারাজা রাধাকিশোর মাণিক্য নির্মাণ করান এই প্রাসাদটির। দুধসাদা রঙের অভিনব স্থাপত্যটি (গ্রিক ও ভারতীয় স্থাপত্যের মেলবন্ধনে তৈরি) দেখার মতো। প্রাসাদের সামনে অনেকটা জায়গা জুড়ে রয়েছে মুঘল-শৈলীর এক বাগান ও দু’টি বড় দিঘি। বাগানের ফোয়ারাগুলো যথেষ্ট পর্যটক বিনোদন করে। তিনটি গম্বুজবিশিষ্ট এই বিশাল দ্বিতল প্রাসাদটির মাঝের গম্বুজটির উচ্চতা হল ৮৫ ফুট। প্রাসাদকে ঘিরে রয়েছে উমা-মহেশ্বর, লক্ষ্মীনারায়ণ, কালী ও জগন্নাথ মন্দির, এগুলির নির্মাণও হয় রাজাদের আমলেই। রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় খননকার্য থেকে পাওয়া বহু প্রাচীন মূর্তির অনন্য সম্ভার রাখা আছে এই মিউজিয়ামে।

গ্রিক ও ভারতীয় স্থাপত্যের মেলবন্ধনে তৈরি অপরূপ সুন্দর দুধ-সাদা এই প্রাসাদ

এ ছাড়া বিভিন্ন মডেল রূপে স্থানীয় উপজাতিদের পোশাক-আশাক, অলংকার, অস্ত্রশস্ত্র, জীবনচর্চা, বাজনা ইত্যাদি দেখানো আছে সুন্দর ভাবে। ত্রিপুরার রাজা-রানিদের ছবি, অস্ত্রশস্ত্র, পাথরে খোদাই করা প্রাচীন লিপি, বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের বিবরণ প্রভৃতিও প্রদর্শিত হয়েছে এখানে। ত্রিপুরার রাজপরিবারের সঙ্গে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এক ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। রাজ-আমন্ত্রণে বেশ কয়েক বার যাওয়াই শুধু নয় (মোট সাত বার এসেছিলেন), বেশ কিছু কাব্য, নাটক, কবিতা, গান কবি রচনা করেছিলেন এখানে এসেই। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাজ এবং বিভিন্ন দুষ্প্রাপ্য ও আকর্ষণীয় ছবি নিয়ে একটা আলাদা গ্যালারিই রাখা আছে এই মিউজিয়ামে। মিউজিয়ামে ক্যামেরা ব্যবহারে (মোবাইল ক্যামেরাও পড়ছে এর মধ্যে) নিষেধাজ্ঞা আছে। সোমবার ও অন্যান্য ছুটির দিনে বন্ধ থাকে এই মিউজিয়াম। প্রবেশমূল্য জনপ্রতি ১৫ টাকা। খোলা থাকে সকাল ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত।

কুঞ্জবন প্রাসাদ:

শহরের থেকে এক কিলোমিটার দূরে একটি টিলার উপর অবস্থান এই প্রাসাদের। ১৯১৭ খ্রীষ্টাব্দে মহারাজা বীরেন্দ্রকিশোর মাণিক্য ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যনিবাস হিসেবেই এটির নির্মাণ করান। তাঁর শেষ ত্রিপুরা ভ্রমণের সময় রবীন্দ্রনাথ এই প্রাসাদেই ছিলেন বেশ কিছুকাল। বর্তমানে এই প্রাসাদটি অবশ্য রাজ্যপালের আবাস হিসেবেই ব্যবহৃত হচ্ছে। তাই প্রাসাদচত্বরে ঢুকতে হলে রাজ্যপালের অফিস থেকে অনুমতি নিতে হয়। তবে রবীন্দ্রকানন নামের সংলগ্ন বাগানটি সাধারণ পর্যটকের জন্য খোলা থাকে।

আরও পড়ুন: আমদাবাদ-জুনাগড়-গির-সোমনাথ-দ্বারকা-জামনগর

হেরিটেজ পার্ক:

কুঞ্জবন প্রাসাদের কাছেই বিমানবন্দর যাওয়ার রাস্তায় দেখে নিতে পারেন এই হেরিটেজ পার্কটি। অনেকটা জায়গা নিয়ে তৈরি হওয়া নতুন এই পার্কটিতে ত্রিপুরার দর্শনীয় সব স্থানই ধরা আছে মিনিয়েচার বা ক্ষুদ্র সংস্করণে। ত্রিপুরাসুন্দরী মন্দির, নীরমহল, উজ্জয়ন্ত প্যালেস, রেললাইন (স্টেশন-সহ) সবই রয়েছে, ছোট সংস্করণে, রকমারি ফুল, গাছ দিয়ে সুন্দর ভাবে সাজানো পার্কটি খোলা থাকে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা (মঙ্গলবার ও ছুটির দিন বন্ধ থাকে)। প্রবেশমূল্য মাথাপিছু ১০ টাকা। আগরতলার অন্য দ্রষ্টব্যগুলির মধ্যে দেখে নিতে পারেন বেনুবন বিহার (বুদ্ধমন্দির), কৃষ্ণ মন্দির, উমা-মহেশ্বর মন্দির, জগন্নাথ মন্দির, মালঞ্চ নিবাস, মহারাজা বীরবিক্রম কিশোর কলেজ (বাইরে থেকেই দেখতে হবে), গেদু মিঞার মসজিদ ইত্যাদি।

হেরিটেজ পার্কের রেপ্লিকা

চতুর্দশ দেবতার মন্দির:

অষ্টাদশ শতকের মধ্যভাগে (১৭৭০ খ্রিস্টাব্দে) রাজা কৃষ্ণমাণিক্য উদয়পুর থেকে রাজধানী পুরনো আগরতলায় স্থানান্তরিত করার সময় (সামসের গাজির কাছে যুদ্ধে পরাজিত হওয়ার পর রাজধানী উদয়পুর থেকে সরিয়ে আগরতলায় নেওয়াটা জরুরি হয়ে পড়েছিল) ত্রিপুরা রাজবংশের আরাধ্য চতুর্দশ দেবতাকেও প্রতিষ্ঠা করা হয় পুরনো আগরতলার এই মন্দিরে। পরবর্তীকালে রাজধানী আবার বর্তমান আগরতলায় স্থানান্তরিত হলেও চতুর্দশ দেবতা অধিষ্ঠিত থেকে যান পুরনো আগরতলার মন্দিরেই। দেবতাদের আকৃতি এখানে পূর্ণাবয়ব নয়, মূলত মস্তকই পূজিত হয় দেববিগ্রহ হিসেবে।

চতুর্দশ দেবতার মন্দির

মন্দিরে বৈদিক রীতির সঙ্গে সঙ্গে উপজাতীয় রীতিরও সংমিশ্রণ ঘটেছে পূজার ক্ষেত্রে। আষাঢ় মাসে চতুর্দশ দেবতার মন্দিরে বিশেষ পূজা অনুষ্ঠিত হয়, যা খার্চিপূজা নামেই বিখ্যাত। সে সময় সাত দিন ধরে জমকালো মেলা বসে মন্দিরপ্রাঙ্গনে। আগরতলা শহর থেকে চতুর্দশ দেবতার মন্দিরের দূরত্ব ১৪ কিলোমিটার। মন্দিরের কাছেই রয়েছে ভগ্নদশাপ্রাপ্ত প্রাচীন রাজপ্রাসাদটি। সম্প্রতি সংস্কার করে সেটিতে গড়ে তোলা হয়েছে একটি সংগ্রহশালা। দেখে নিতে পারেন সেটিও।

সিপাহিজলা:

সিপাহিজলা অভয়ারণ্য আগরতলা শহর থেকে ২৮ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। ১৮.৫৩ বর্গকিলোমিটার বিস্তৃত এই অভয়ারণ্যে ৪৫৬ প্রজাতির গাছ ও রকমারি প্রজাতির অসংখ্য পশুপাখির অবস্থান। বন্যপ্রাণীর মধ্যে ক্নাউডেড লেপার্ড, লাঙ্গুর, বার্কিং ডিয়ার, শিয়াল, খরগোশ, বন্য শুয়োর, মাউস ডিয়ার, নেউল, বিন্টুরং, ক্যাপড লাঙ্গুর, প্যাঙ্গোলিন ইত্যাদি তো আছেই, তবে সবচেয়ে চমকপ্রদ ও উল্লেখযোগ্য প্রাণীটি হল চশমা বাঁদর। এই অভিনব প্রাণীটির দেখা কেবলমাত্র এই অঞ্চলেই মেলে।

আরও পড়ুন: আঁকাবাঁকা পায়ে পথ চলা শুরু হল রিম্বিকের দিকে

একমাত্র এই অঞ্চলেই মেলে এই প্রজাতির বাঁদর

অভয়ারণ্যের মধ্যেই গড়ে ওঠা চিড়িয়াখানায় সহজেই দেখা মিলবে এই সব প্রাণীর। এ সব ছাড়া রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার, হরিণ, চিতাবাঘ, বিভিন্ন প্রজাতির বিড়াল, বিচিত্র রকমের পাখি ইত্যাদির দেখাও মিলবে এই চিড়িয়াখানায়। জনপ্রতি প্রবেশমূল্য ১০ টাকা। খোলা থাকে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা। শুক্রবার বন্ধ থাকে সিপাহিজলা। সিপাহিজলার লেকটিতে শীতের সময় অজস্র পরিযায়ী পাখি ঝাঁক বেঁধে আসে। লেকের জলে বোটিং করতে করতে খুব কাছ থেকে তখন দর্শনও মেলে এই সব পাখির। এখানকার রবার ও কফি গাছের সুদৃশ্য বাগানও সিপাহিজলার অতিরিক্ত আকর্ষণ হিসেবেই নজর কাড়বে।

সিপাহিজলার অভয়ারণ্যে নিশ্চিন্তে রোদ পোহাচ্ছে বনের রাজা

কমলাসাগর কালীমন্দির:

আগরতলা থেকে ৩১ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই মন্দিরটি নির্মাণ করেছিলেন মহারাজা ধনমাণিক্য, পঞ্চদশ শতকের শেষভাগে। এই মন্দিরটি কসবা কালীবাড়ি নামেও খ্যাত। মন্দিরে মূর্তিটি সিংহবাহিনী দশভুজা দুর্গার হলেও, পদতলে শায়িত শিব। সে কারণেই হয়তো দেবী এখানে কালী হিসেবেই পূজিতা হন। এই শক্তিপীঠে (৫১ সতীপীঠের মধ্যে নয়) সারা বছরই পুন্যার্থীদের ভিড় লেগে থাকে। মন্দিরের সামনে বড় দিঘিটি কমলাসাগর নামে বিখ্যাত। মহারাজা ধনমাণিক্য তাঁর স্ত্রী কমলাদেবীর নামেই নাম রাখেন তাঁর সময় খনন করা এই দিঘির। মন্দিরের পাশেই রয়েছে কাঁটাতারের বেড়া (আন্তর্জাতিক সীমানা), যার ওপারটাই হল বাংলাদেশ। এখান থেকে বাংলাদেশের প্রান্তের কসবা রেলস্টেশন (কুমিল্লা জেলার মধ্যে পড়ে) ও এক বিস্তীর্ণ প্রান্তর নজরে আসে। এপ্রিলে মন্দির সংলগ্ন চত্বরে এক বড় মেলা বসে। সে সময় পুন্যার্থীর ঢল নামে এখানে। প্রতি রবিবার ভারত, বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে একটি হাট বসে এখানে। দু’টি দেশের ক্রেতা-বিক্রেতার আনাগোনায় জমজমাট হয়ে ওঠে এই অভিনব হাট।

কমলাসাগর কালীমন্দির

যাত্রাপথ: কলকাতা থেকে বিমানে মাত্র ৫০ মিনিটেই পৌঁছে যাওয়া যায় আগরতলায়। সদ্য রেলপথেও সারা দেশের সঙ্গে সংযুক্তিকরণ হয়েছে এই রাজধানী শহরের। দিল্লির আনন্দবিহার ও অসমের ডিব্রুগড় থেকে সাপ্তাহিক ট্রেন চলে আগরতলা পর্যন্ত। শিয়ালদহ স্টেশন থেকে ছেড়ে সপ্তাহে দু’দিন (বৃহস্পতি ও রবিবার) কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেস গুয়াহাটি হয়ে পৌঁছে দিচ্ছে আগরতলায়। সময় লাগছে ৩৮ ঘণ্টা।

আগরতলা সাইট সিয়িং, সিপাহিজলা, চতুর্দশ দেবতার মন্দির কিংবা কমলাসাগর দেখতে হলে আগরতলা থেকেই গাড়ি ভাড়া করতে হবে। গাড়িভাড়া পড়বে (সারাদিনের জন্য) ছোটগাড়ির ক্ষেত্রে (ইন্ডিকা, ওয়াগনআর, ইকো) ১৫০০ টাকা, আর বড় গাড়ির ক্ষেত্রে (স্করপিও, বোলেরো, জাইলো ইত্যাদি) ২২০০ টাকা। গাড়ি কিংবা হোটেল বুকিংয়ের জন্য যোগাযোগ করা যেতে পারে: সঞ্জীব আচার্য, নীলজ্যোতি ট্রাভেলস, আগরতলা, ফোন: ৯৮৫৬০৯৩০০৭, ৯৪৩৬৪৫৬০৮৮

রাত্রিবাস: আগরতলায় থাকার জন্য আছে ত্রিপুরা ট্যুরিজমের ‘হোটেল গীতাঞ্জলি’। এসি দ্বিশয্যাঘরের ভাড়া ২০০০-২৫০০ টাকা (কর অতিরিক্ত), বেসরকারি হোটেলের মধ্যে উল্লেখযোগ্য: ‘হোটেল সোমরাজ রিজেন্সি’, দ্বিশয্যাঘর (এসি) ১৫০০-৩০০০ টাকা। ফোন: (০৩৮১)২৩৮২০৬৯/২৩৮৫১৭২ (আগরতলার এসটিডি কোড-০৩৮১)

বিস্তারিত তথ্য ও সরকারি টুরিস্ট লজ বুকিংয়ের জন্য কলকাতা যোগাযোগ: অতুল দেববর্মা, ত্রিপুরা ট্যুরিজম (কলকাতা শাখা), ত্রিপুরা ভবন, ১ প্রিটোরিয়া স্ট্রিট, কল-৭১,

ফোন: ৯৩৩১২৩১৪৫৯ (মোবাইল), (০৩৩)২২৮২-৫৭০৩ (কলকাতা কোড-০৩৩)।

আগরতলায় রসনাতৃপ্তি: বাঙালি তো মাছে-ভাতে থাকতেই ভালবাসে, আর সে মাছ যদি হয় বাংলাদেশের (যার সীমান্ত খুবই কাছে এখানে) সুস্বাদু ইলিশ, তবে তো কথাই নেই। তা ছাড়াও তেলকই, পাবদা মাছের ঝাল, স্থানীয় আউইন্যা মাছের ঝাল (চিকেন, মাটন তো আছেই) ইত্যাদি রকমারি আকর্ষণীয় পদের সমাহারে রসনাতৃপ্তি যে চরমপর্যায় পৌঁছবে, তা বলাই বাহুল্য।

ত্রিপুরার বাঙালির পছন্দের রসনা

আগরতলা শহরেই এই সব আকর্ষণ নিয়ে উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি: ‘বাহারী পাঁচফোড়ন’ (বি কে রোড), ফোন: ৯৮৫৬০৯২০০১, ৯৮৫৬০৯৩০০৮

কেনাকাটা: বাঁশ, বেত ইত্যাদি দিয়ে তৈরি ত্রিপুরার বিখ্যাত হস্তশিল্পের বিভিন্ন সামগ্রী ক্রয় করতে পারেন আগরতলা শহরের সরকারি ‘পূর্বাশা’ এম্পোরিয়াম থেকে, হ্যান্ডিক্র্যাফ্টস ছাড়া হ্যান্ডলুম সামগ্রীও পাওয়া যায় এখানে।

 

(লেখক পরিচিতি: ভ্রমণ সংক্রান্ত লেখালেখি বছর কুড়ি। পেশা ভিন্ন হলেও ভ্রমণের টানে গোটা ভারত ঘুরে বেড়ান বছরভর। পছন্দের দিক থেকে পাল্লা ভারী পাহাড়ের। ভ্রমণ ছাড়াও প্যাশন রয়েছে অভিনয়ে। অভিনয় করছেন বড় পর্দা, ছোট পর্দা, মঞ্চ, বেতার— সব মাধ্যমেই।)

ছবি: লেখক

 

(১৯৪৯ সালে রাজ্য হিসেবে ভারতের সঙ্গে সংযুক্তিকরণ ঘটে ত্রিপুরার। কিন্তু এই প্রতিবেদনটি প্রকাশের সময় ভুলবশত ১৯৪৯-এর বদলে ১৯৮৯ লেখা হয়েছিল। পাঠকদের ধন্যবাদ এই গুরুতর ত্রুটিটি ধরিয়ে দেওয়ার জন্য। অনিচ্ছাকৃত এই ত্রুটির জন্য আমরা দুঃখিত)