মঞ্চে একের পর এক হেঁটে আসছেন বিকিনি, ইভিনিং গাউন পরা মহিলারা। চাবুকের মতো টান টান চেহারা, গ্ল্যামারে টেক্কা দিচ্ছেন একে অপরকে। সন্ধ্যার শেষে কোনও এক জনের মাথায় উঠবে সেরার শিরোপা। আন্তর্জাতিক সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার এটাই তো চেনা ছবি। সেই চেনা ছবি ভাঙলেন ৫৫ বছরের মা সুজি ডেন্ট।

হ্যাঁ, বয়সটা ঠিকই পড়ছেন। ৫৫। তিন মাস আগে মিসেস অস্ট্রেলিয়া আর্থ হয়েছিলেন কুইন্সল্যান্ডের সুজি। তবে সেটা ছিল জাতীয় প্রতিযোগিতা। আন্তর্জাতিক মঞ্চেও যে সাফল্য পাবেন প্লাস সাইজের সুজি, তা বোধহয় আয়োজকরা কল্পনাও করতে পারেননি। শনিবার লাস ভেগাসে মিসেস আর্থ পেজেন্টে দ্বিতীয় রানার আপ হয়েছেন সুজি। পারফেক্ট সব প্রতিযোগীদের মাঝে বিচারকরা তাঁকে বলেছেন, ‘মুক্ত হাওয়া’।

মার্চ মাসে মিসেস আর্থ অস্ট্রেলিয়া প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সময়ই সুজি বুঝে গিয়েছিলেন, একমাত্র নিজস্বতাই তাঁকে সাফল্য এনে দিতে পারে। সেই মন্ত্রেই মিসেস আর্থ পেজেন্টেও পিছনে ফেলে দিয়েছেন এক সময় মিস ওয়ার্ল্ড প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া তাবড় সব প্রতিদ্বন্দ্বীকে। সুজি বলেন, ‘‘সত্ ও স্বতন্ত্র। বিচারকরা আমাকে এ ভাবেই দেখেছেন। প্রতিযোগিতায় আমি পঞ্চাশোর্ধ মহিলাদের প্রতিনিধিত্ব করছিলাম। এটাই ওঁরা পছন্দ করেছেন। পেজেন্টের সংজ্ঞাটাই বদলে দিতে পেরেছি আমি। মডেল বা সাইজ এইট হওয়ার প্রয়োজন নেই। প্রচুর বোটক্সেরও কোনও দরকার নেই। আমি শুধু মনে রেখেছিলাম, আমি কে। নিজেকে কোনও চাপ দিইনি আমি। শুধু কাঁধ পিছিয়ে দাঁড়ানো আর হিল পরে যাতে পরে না যাই সেটা খেয়াল রেখেছিলাম।’’

অন্য বিজয়ীদের সঙ্গে সুজি ডেন্ট।

নিজের মেকআপ আর্টিস্ট ও ওয়ার্ডরোব স্টাইলিস্ট পেশা নিয়ে বরাবরই খুশি ছিলেন সুজি। বিয়ে করেছিলেন ২৫ বছর আগে। স্বামীই তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা বলে জানান সুজি। তাঁর কথায়, ‘‘আমার স্বামী চাইতেন আমাকে সেক্সি ও ডেঞ্জারাকস লুকে দেখতে।’’ সেই অনুপ্রেরণাতেই সুইম সুট রাউন্ডে বন্ড গার্ল লুক বেছে নিয়েছিলেন সুজি। বন্ড গার্লের সুইমসুটের সঙ্গে কোমরে গোঁজা ছুরি লুক দেখে হাততালিতে ফেটে পড়েছিল অডিটোরিয়াম। ‘‘শুধু বিচারকরা নন, ব্যাকস্টেজে প্রতিদ্বন্দ্বীরাও পছন্দ করেছিলেন আমার লুক,’’—বলেন উচ্ছ্বসিত সুজি।

শুধু কি নিজেকে নতুন আবিষ্কার করতেই পেজেন্টে অংশ নিয়েছিলেন সুজি?

আরও পড়ুন: বিয়ের পোশাক বেছে দিল সোশ্যাল মিডিয়া, চিন্তামুক্ত ৯৩ বছরের কনে

এর পিছনে রয়েছে আরও বড় কারণ। সারা বিশ্বে দরিদ্রদের জন্য জুতো কেনার অর্থ জোগাড় করতে মিসেস আর্থ পেজেন্ট সাপোর্ট করতে শুরু করে সোলসফরসোলস (soles4souls) অস্ট্রেলিয়া। এই মহত্ কাজের প্রতি টান সুজিকে উদ্বুদ্ধ করে পেজেন্টে অংশ নিতে। সারা জীবন নিজের শরীর নিয়ে আত্মবিশ্বাসী ছিলেন না সুজি। হিল পরার কথা ভাবতেও পারতেন না। পেজেন্টের মাধ্যমে নিজেকে নতুন ভাবে আবিষ্কারের পর এখন মোটিভেশনাল স্পিকার হতে চান সুজি। তিনি বলেন, ‘‘আমি চাই পুরুষ-মহিলা সকলকেই উদ্বুদ্ধ করতে, যাতে তাঁরা বয়স বেড়ে যাওয়াকে সহজ ভাবে নিতে পারেন। আমরা নিজেদের যেমন ভাবি, যেমন ভাবে দেখি দুনিয়াও আমাদের সে ভাবেই দেখে। আমি কোনও দিন ভাবিনি আমার বয়স বেড়ে যাচ্ছে। সব সময় নিজেকে মন থেকে সজীব রাখতাম। আর সেখান থেকেই এনার্জি পেতাম।’’

জিতে মহিলাদের কী বার্তা দিলেন সুজি? তাঁর কথায়, ‘‘আমার সাফল্য মহিলাদের বুঝতে শিখিয়েছে তারা যা করতে চায় তাই করতে পারে। বয়স কখনই বাধা হতে পারে না। যা করতে চাও, নির্ভয়ে এগিয়ে যাও। নিজের প্রতি বিশ্বাস রাখো এবং সেই বিশ্বাসেই ঝাঁপিয়ে পড়ো।’’