ভোটে যেতে বিএনপির শর্ত, হাসিনার না

দেশে নির্বাচন হবে বলে জানিয়ে দিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।—ফাইল চিত্র।

এক বার ভোট বয়কট করে দলের এমন হাল হয়েছে, মাঠে নামার লোক নেই। বাংলাদেশের সেই বিরোধী দল বিএনপি ডিসেম্বরে আসন্ন সাধারণ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্যও একগুচ্ছ শর্ত ছুড়ে দিল সরকারকে। সেগুলি মানা না-হলে তারা আবার ভোট বয়কট করবে বলেও জানিয়ে দিল। এর ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রবিবার জানিয়ে দিলেন— নির্বাচন হবে। বিএনপি না-এলে সরকার তাদের সাধতে যাবে না।

একের পর এক আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করে তা খারিজ করে এসেছে খালেদা জিয়ার দল বিএনপি। এমনকি নেত্রী খালেদা দুর্নীতির দায়ে জেলে গেলেও রাস্তায় নামতে পারেনি দল। সেই বিএনপি-কে দীর্ঘদিন বাদে সভা করতে দেখা গিয়েছে শনিবার, তাদের ৪১তম প্রতিষ্ঠা দিবসে। খালেদা জেলে যাওয়ায় লন্ডনে ফেরার তাঁর পুত্র তারেক রহমান এখন দলের চেয়ারম্যান। সভায় তাঁর সিদ্ধান্তগুলি জানান বিএনপি-র মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগির। তিনি বলেন— খালেদা জিয়ার কারামুক্তি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ইস্তফার শর্ত পূরণ না-হলে বিএনপি এ বারও নির্বাচনে অংশ নেবে না। এই দু’টি প্রধান শর্ত। সঙ্গে আরও শর্ত— জাতীয় সংসদ ভেঙে দিতে হবে, নানা মামলায় জেলে বন্দি বিএনপি-র নেতা-কর্মীদের মুক্তি দিতে হবে এবং নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণার আগেই সরকারকে পদত্যাগ করতে হবে।

রবিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানিয়ে দিয়েছেন, ভোট নির্ধারিত সময়েই হবে। কোনও শক্তি তা আটকাতে পারবে না। বিএনপি এলে ভাল। না এলে সরকার তাদের সাধতে যাবে না। তাদের সঙ্গে কোনও আলোচনাও করা হবে না।

বিএনপি আমলে ২০০৪-এর ২১ অগস্ট তৎকালীন বিরোধী নেত্রী হাসিনার জনসভায় গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। হাসিনা অল্পের জন্য প্রাণে বাঁচলেও ২৪ জন নেতা-কর্মী সেই হামলায় মারা যান। জখম হন ৩০০-রও বেশি। চলতি মাসেই সেই মামলার রায় বেরোনোর কথা। বিএনপি যে সেই রায় নিয়ে চিন্তিত, ফখরুলের কথায় তা বোঝা গিয়েছে। ফখরুল বলেন, ২১ অগস্টের রায় নিয়ে হাসিনা সরকার বিএনপি-র বিরুদ্ধে নতুন করে চক্রান্ত করছে। শাসক দলের নেতারা বলছেন, তারেককে এই মামলায় শাস্তি পেতে হবে। ফখরুল বলেন, ‘‘আপনারা কি বিচারক?’’

হামলার অন্যতম মাথা জঙ্গি সংগঠন হুজি-র প্রধান মুফতি হান্নান আদালতে সাক্ষ্য দিয়ে জানিয়েছেন— তৎকালীন খালেদা সরকারের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুতফুজ্জামান বাবর, শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টু এবং খালেদার পুত্র তারেক রহমানের নির্দেশে তাঁর সংগঠন হাসিনার জনসভায় হামলা চালিয়েছিল। হাসিনাকে হত্যা করাই ছিল উদ্দেশ্য। মন্ত্রী পিন্টুর বাড়িতে হামলায় ব্যবহৃত গ্রেনেডগুলি স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিজে গাড়িতে করে নিয়ে এসে তাঁদের হাতে তুলে দেন। বিশেষ ধরনের গ্রেনেডগুলি সেনাবাহিনী যুদ্ধে ব্যবহার করে। হামলার পরে তাঁদের পালানোর বন্দোবস্তও এই মন্ত্রীরা করেছিলেন। ফখরুল এ দিন দাবি করেন, তারেককে আসামি করতে মুফতি হান্নানকে দিয়ে মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়ানো হয়েছে। দেশের মানুষ তারেকের শাস্তি মেনে নেবে না।