—প্রতীকী চিত্র।
আড়াই মাসের বেশি সময় ধরে চলা ইরান যুদ্ধে এ বার ইতি? রবিবার, ২৪ মে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সেই ইঙ্গিত দিতেই দুনিয়া জুড়ে পড়ে গিয়েছে শোরগোল। শুধু তা-ই নয়, পশ্চিম এশিয়ার জ্বালানি বাণিজ্যের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক রাস্তা হরমুজ় প্রণালী খুলে যাওয়াও সম্ভাবনার কথাও বলতে শোনা গিয়েছে তাঁকে। পরিবর্তিত ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে কতটা ঘুরে দাঁড়াবে ভারতের শেয়ারবাজার? আনন্দবাজার ডট কম-এর এই প্রতিবেদনে রইল তার হদিস।
ব্রোকারেজ ফার্মগুলির দাবি, ট্রাম্পের কথা সত্যি হলে সপ্তাহের প্রথম কাজের দিনে ফের ঊর্ধ্বমুখী হবে সেনসেক্স ও নিফটি। তবে বেলার দিকে ফের কিছুটা অস্থির হতে পারে বাজার। সাম্প্রতিক সময়ে ডলারের বিপরীতে লাফিয়ে লাফিয়ে নেমেছে টাকার দাম। ফলে বম্বে বা ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জ থেকে মুখ ফিরিয়ে থাকা বিদেশি লগ্নিকারীদের প্রত্যাবর্তনে যে আরও কিছুটা সময় লাগবে, তা বলাই বাহুল্য।
উল্লেখ্য, মে মাসের তৃতীয় সপ্তাহে চিনসফর থেকে ফিরেই ইরান সংঘাত থামাতে আলোচনার উপর জোর দেন ট্রাম্প। এর জেরে বিশ্ববাজারে কিছুটা হ্রাস পায় অপরিশোধিত তেলের দাম। অন্য দিকে গত এক বছরের মধ্যেই লভ্যাংশের (ডিভিডেন্ড) পুরনো নজির ভেঙে কেন্দ্রকে আরও বেশি টাকা দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্ক। এরও প্রভাব বাজারে দেখতে পাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল, বলছেন বিশ্লেষকদের একাংশ।
তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, যাবতীয় অস্থিরতার মধ্যেই শুক্রবার, ২২ মে সূচককে সবুজ গণ্ডিতে রেখেই শেষ হয় বাজারের লেনদেন। ওই দিন ০.৩১ এবং ০.২৭ শতাংশ ঊর্ধ্বমুখী হয় সেনসেক্স এবং নিফটি-৫০। ফলে বর্তমানে বম্বে এবং ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জ দাঁড়িয়ে আছে যথাক্রমে ৭৫,৪১৫.৩৫ এবং ২৩,৭১৯.৩০ পয়েন্টে।
যদিও বাজারের পূর্বাভাসে একটি সতর্কবার্তাও দিয়েছেন আর্থিক বিশ্লেষকেরা। তাঁদের কথায়, অতীতে বহু বার শান্তিচুক্তি প্রায় চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছে বলে বিবৃতি দিয়ে ইরানে আক্রমণের ঝাঁজ বাড়াতে দেখা গিয়েছে ট্রাম্পকে। ফলে এ বার সতর্ক নজর রাখছে তেহরান। তা ছাড়া সংশ্লিষ্ট সমঝোতা ইজ়রায়েল কতটা মেনে নেবে, তা নিয়ে সন্দেহ থাকছে। সে ক্ষেত্রে ইহুদিরা হামলা চালালে এখনই হরমুজ় নাও খুলতে পারে সাবেক পারস্যের শিয়া ফৌজ।
আর তাই সোমবার, ২৫ মে স্টক কেনা-বেচার সময় বাড়তি সাবধানতা অবলম্বন করতে বলছেন বিশ্লেষকদের একাংশ। তাঁদের কথায়, গত আড়াই মাসে সুশৃঙ্খল লগ্নিতে যথেষ্ট মুনাফা করতে পেরেছেন বিনিয়োগকারীরা। সেই নীতি থেকে সরে এসে বেশি ঝুঁকি না নেওয়াই ভাল।
(বিশেষ দ্রষ্টব্য: শেয়ার বাজারে লগ্নি বাজারগত ঝুঁকিসাপেক্ষ। আর তাই বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ মেনেই স্টকে বিনিয়োগ করুন। এতে আর্থিক ভাবে লোকসান হলে আনন্দবাজার ডট কম কর্তৃপক্ষ কোনও ভাবেই দায়ী নয়।)