আমি কি এ সম্মানের যোগ্য, ডিলিট পেয়ে বললেন সৌমিত্র

সমাবর্তন: সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়কে সাম্মানিক ডিলিট দিচ্ছেন প্রেসিডেন্সির উপাচার্য অনুরাধা লোহিয়া। মঙ্গলবার নন্দনে প্রেসিডেন্সির সমাবর্তন অনুষ্ঠানে। ছবি: বিশ্বনাথ বণিক

প্রেসিডেন্সিতে পড়ার ‘যোগ্যতা’ তাঁর হয়নি। সেই প্রতিষ্ঠান থেকে সাম্মানিক ডিলিট পেয়ে তিনি খুশি। মঙ্গলবার নন্দনে প্রেসিডেন্সির সমাবর্তনে এ ভাবেই আবেগ উজাড় করে দেন অভিনেতা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়।

সৌমিত্রবাবু জানান, কলেজ স্ট্রিট পাড়ায় সব ক’টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে প্রেসিডেন্সির দিকে শঙ্কা মেশানো শ্রদ্ধা নিয়ে তাকিয়ে থাকতেন তিনি। কারণ সেখানে পড়ার যোগ্যতা তাঁর তৈরি হয়নি। তিনি জানান, তাঁর বাবার বদলির চাকরির জন্য বারবার স্কুল পরিবর্তন করতে হয়েছে। তাই প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনার জন্য যে-শৃঙ্খলা দরকার, সেটা তাঁর পক্ষে গড়ে তোলা সম্ভব হয়নি। সাম্মানিক ডিলিট পেয়ে কুণ্ঠার সুরে তিনি বলেন, ‘‘এই ভেবে বিব্রত বোধ করছি যে, আমি কি এই সম্মানের জন্য উপযুক্ত!’’

অভিনয় জগতের নেপথ্যে থাকা কলাকুশলীদের কথা বিশেষ ভাবে তুলে ধরেন সৌমিত্রবাবু। তিনি জানান, নেপথ্যে এমন অনেকে ছিলেন, যাঁরা শুধুই অবজ্ঞা পেয়েছেন। চিরদিন অভাব ছিল তাঁদের সঙ্গী। তাঁর এই সম্মাননার দিনে তিনি তাঁদের বিশেষ ভাবে স্মরণ করছেন। সৌমিত্রবাবু বলেন, ‘‘যদি কোনও কিছুতে নিজেকে সামান্য নিযুক্ত করতে পারতাম, তা হলে নিজেকে সার্থক বলে মনে হত। তবে সেটা আর হওয়ার নয়।’’ তার পরেই প্রবীণ অভিনেতা জানান, অসার্থকতার জীবনে একটা কথা ভেবে তিনি শান্তি পান যে, অভিনয়ের মাধ্যমে আনন্দ দেওয়াও তো এক ধরনের সেবা। তাঁর অভিনয় যদি কোনও মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে পারে, সামান্য হলেও যদি কাউকে বেঁচে থাকতে সাহায্য করে, সেটাই হল সেবা। তাঁর মতে, ‘‘সেই সেবার পুরস্কার হয়তো এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিবেচনার পথে আমার
হাতে পৌঁছল।’’