কলকাতার কড়চা


জীবন পেল কাশীপুরের ঘড়িঘর

কাশীপুর গান অ্যান্ড শেল ফ্যাক্টরির ঘড়িঘর। একদা সেই ঘড়ির ঘণ্টার শব্দে বহু দূর পর্যন্ত এলাকার বাসিন্দারা সময় মেলাতেন। আবার পথচলতি মানুষজনও গঙ্গা থেকে শহরে যাতায়াতের পথে এই ঘড়ি দেখে সময় ঠিক করতেন। উনিশ শতকের গোড়াতেই ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি রাজনৈতিক স্বার্থে কাশীপুরের এই সমরাস্ত্র তৈরির কারখানাটির গোড়াপত্তন করে, উৎপাদনও শুরু করে গান ক্যারেজ এজেন্সি নামে, কামান তৈরি হত প্রথমে। উত্তর কলকাতার শেষ প্রান্তে গঙ্গার তীরে অবস্থিত এমন একটি কারখানার অভ্যন্তরে ব্রিটিশ আমলে তৈরি নানান উপাদান দৃষ্টিলভ্য ছিল না জনসাধারণের, এখনও নয়, অথচ এ সবের ঐতিহ্যমূল্য অপরিসীম। কিন্তু ক্লকটাওয়ারটি তখনও এবং এখনও সকলেরই নজরে আসে, এর অবস্থান পূর্বতন প্রধান ফটকের পাশেই। ইংরেজ ফৌজ গঙ্গাপার্শ্বস্থ কারখানার জেটি হাউস থেকে মার্চ করে ক্লাইভ হাউস বা শহরে যাতায়াত করতে করতে ওই ঘড়িটিকে দেখেই সময় ঠিক করত। ইংরেজরা সময়ের স্মারক হিসাবেই বেশ কিছু ক্লকটাওয়ার তৈরি করেছিল, সেগুলির মধ্যে কাশীপুরের এই ক্লকটাওয়ারটি তৃতীয়, ১৮৯২-এ তৈরি। তদানীন্তন ফাউন্ড্রি অ্যান্ড শেল ফ্যাক্টরি-র ক্যাপ্টেন আর মেহন-এর নেতৃত্বে শ্রমিকরা এই ঘড়িস্তম্ভটি তৈরি করেন। স্তম্ভের চার দিকে স্থাপিত চারটি ঘড়ি বিদেশ থেকে আনানো, অ্যাংলো-সুইস কোম্পানির। ঘড়ির উপরে রয়েছে একটি বিশাল পিতলের ঘণ্টা। ঘড়ি পেন্ডুলাম এবং পিনিয়ন দ্বারা চালিত হত। কালের প্রভাবে এবং নানাবিধ প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্লকটাওয়ারটি খানিকটা হেলে গিয়েছিল, আর প্রায় কুড়ি বছর যাবৎ ঘড়িও অচল হয়ে গিয়েছিল। পুরসভার হেরিটেজ কমিটি টাওয়ারটিকে প্রথম সারিতে তালিকাভুক্ত করার পর কারখানার দায়িত্বপ্রাপ্ত জেনারেল ম্যানেজার রাজীব চক্রবর্তীর উদ্যোগ ও একনিষ্ঠ প্রচেষ্টায় টাওয়ারটিকে লৌহবেষ্টনীতে পরিবৃত করে লোহার তারের টানা দিয়ে সোজা করা হয়, এবং এ শহরের বৃদ্ধ ঘড়ির ডাক্তার স্বপন দত্তকে দিয়ে ঘড়ি সারানো হয়। হেরিটেজ কমিশন ও ইউনেস্কোর বিধি মেনে সংস্কারের ফলে ক্লকটাওয়ারটি এ বার তার পুরনো রূপ ফিরে পেয়েছে।

 

কমলা কেমন আছে

সাংবাদিক জীবনে প্রায়ই মুর্শিদাবাদের হরিহরপাড়ায় যেতেন গৌরকিশোর ঘোষ। সেখান থেকেই এসেছিলেন ‘কন্যাশ্রী-যোদ্ধা’ জ়াকিরুন বিবি। তিরাশি জন নাবালিকাকে অকালবিবাহের হাত থেকে বাঁচিয়েছেন তিনি। কিন্তু তাঁকে বাঁচাবে কে? নিয়ত হুমকি, অমর্যাদার ভয় নিয়ে বাঁচতে হচ্ছে তাঁর মতো লড়াকু মেয়েদের। সক্ষমতার পথ এমনই কঠিন। ২০ জুন গৌরকিশোর ঘোষের পঁচানব্বইতম জন্মদিনে তাঁর পরিবার রোটারি সদনে আয়োজন করেছিল একটি আলোচনা সভা। বিষয়, ‘কমলা কেমন আছে।’ ভাল ভাল আইন আছে, অথচ তা মেয়েদের ভয়হীন, সম্মানপূর্ণ জীবন কেন দিতে পারছে না, জানালেন সমাজবিজ্ঞানী রুচিরা গোস্বামী। মহিলা জনপ্রতিনিধিদের সাফল্য ও সীমাবদ্ধতা নিয়েও আলোচনা হল। সভামুখ্য অনিতা অগ্নিহোত্রী মনে করিয়ে দিলেন, জ়াকিরুনের মতো মেয়েদের প্রতি রাষ্ট্রের সংবেদনশীল এবং দায়বদ্ধ হওয়া প্রয়োজন। শঙ্খ ঘোষ ও অমিয় দেব-সহ নানা বিশিষ্ট জন উপস্থিত ছিলেন সভায়।

 

সম্পর্কের আখ্যান

রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে প্রশান্তচন্দ্র মহলানবিশের প্রথম সাক্ষাৎ হয় ১৯১০ সালে। শ্রদ্ধা ও ভালবাসার এই সম্পর্ক অটুট ছিল রবীন্দ্রনাথের প্রয়াণ পর্যন্ত। বিশেষ করে ১৯২৩-এ প্রশান্তচন্দ্র ও নির্মলকুমারীর বিয়ের পর তাঁরা যেন একই পরিবারের সদস্য হয়ে ওঠেন। বিশ্বভারতীর প্রতিষ্ঠাপর্বে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল প্রশান্তচন্দ্রের। ১৯২৬-এ ইউরোপ সফরে সস্ত্রীক প্রশান্তচন্দ্র রবীন্দ্রনাথের সঙ্গী হন। রবীন্দ্ররচনার প্রকাশ, সংরক্ষণ ও প্রসারেও তাঁর উদ্যম উল্লেখযোগ্য। প্রশান্তচন্দ্র মহলানবিশের (১৮৯৩-১৯৭২) জন্মের ১২৫ বর্ষপূর্তি উপলক্ষে প্রশান্তচন্দ্র-প্রতিষ্ঠিত ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিস্টিক্যাল ইনস্টিটিউট (আইএসআই)-এর প্রাক্তনী, বর্তমানে জর্জ ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটির অধ্যাপিকা সুদেষ্ণা বসু ‘টুগেদারনেস: টেগোর অ্যান্ড মহলানবিশ— আ ইউনিক রিলেশনশিপ’ শীর্ষক একটি অ্যালবাম তৈরি করেছেন। পরিকল্পনা, ভাষ্য, সঙ্গীত ও নির্দেশনা তাঁর, ভাষ্যপাঠে বরুণ চন্দ। প্রশান্তচন্দ্রের জন্মদিন, ২৯ জুন আইএসআই-তে এক বিশেষ অনুষ্ঠানে এটি প্রকাশিত হবে। অ্যালবামটি আইএসআই ও সারেগামা-র যৌথ উদ্যোগ।   

 

কবিতা-গ্রন্থাগার

একেই বলে কবিতার পৌষ মাস! দিন কয়েক আগে এই শহরেই রবীন্দ্রনাথের সমস্ত কবিতা নিয়ে তৈরি ডিজিটাল আর্কাইভ প্রকাশের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়েছিল। অভাব ছিল একটা কবিতার গ্রন্থাগারের, এ বার সেটারও আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হতে চলেছে ৩০ জুন সন্ধে ৬টায় আইসিসিআর-এ। নাম: ইন্টার কালচারাল পোয়েট্রি অ্যান্ড পারফরম্যান্স লাইব্রেরি (আইপিপিএল)। এডিনবরায় অবস্থিত স্কটিশ পোয়েট্রি লাইব্রেরির মডেলে অনুপ্রাণিত এই গ্রন্থাগার প্রতি সপ্তাহে দু’দিন— শুক্র ও শনিবার খোলা থাকবে। এখানে থাকবে বিভিন্ন ভাষার কাব্য সঙ্কলন এবং ভিসুয়াল ও পারফর্মিং আর্টসের সংগ্রহ। উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন আইপিপিএল-এর উপদেষ্টামণ্ডলীর সভাপতি শঙ্খ ঘোষ, বাসবী ফ্রেজ়ার, সংযুক্তা দাশগুপ্ত, গৌতম দে, শর্মিলা রায়, জয়দীপ ষড়ঙ্গী প্রমুখ।

 

যৌবনের দূত

আর্জেন্টিনা আর মেসিকে নিয়ে এখন মাতামাতি এ শহরে, অথচ ১৪ জুন বিশ্বকাপ শুরুর দিনটিতে সে দেশেরই আর এক জন মানুষের ৯০ পূর্ণ হল। ১৯৬৭-তে তাঁকে বলিভিয়ায় বুলেটে ঝাঁজরা করে ফেলা হলেও তিনি এখনও সারা দুনিয়ায় সব প্রজন্মের কাছেই নতুন যৌবনের দূত। কিউবা বিপ্লবের অন্যতম উদ্গাতা সেই চে গেভারা (জ. ১৯২৮) এক বার এ শহরে এসে গিয়েছিলেন আইএসআই-তে, তার পর টিটাগড়ের কারখানায় শ্রমিকদের সঙ্গে দেখা করতে। তাঁকে স্মৃতিধার্য করে রাখতে আজ গোর্কি সদনে সন্ধে ৬টায় চে-কে নিয়ে গান আবৃত্তি, বলবেন সমুদ্র গুহ, সঙ্গে ডালিয়া চৌধুরী নির্দেশিত নাটক ‘বেঁচে থাকার গান’। আয়োজনে আইপিটিএ, কলকাতা। ক’দিন আগে এখানেই চে-র জন্মদিন পালন করেছে আইজ়েনস্টাইন সিনে ক্লাব, তাঁকে নিয়ে একটি তথ্যচিত্র দেখিয়ে। চে যাঁর মতাদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন সেই কার্ল মার্ক্সেরও (জ. ১৮১৮) এটি দ্বিশততম জন্মবর্ষ। সেই উপলক্ষে গোর্কি সদনে ২৯ জুন সন্ধে ৬টায় বলবেন শোভনলাল দত্তগুপ্ত: ‘রেলেভেন্স অব মার্ক্স অ্যান্ড মার্ক্সিজ়ম’। উদ্যোগে ফোরাম ফর বেটার টুমরো, সঙ্গে আইপিসিএ, কলকাতা।

 

ছবির উৎসব

বাংলা ছবির নির্ভরতা বরাবরই বাংলা সাহিত্যের উপর। স্বাধীনতার অব্যবহিতে বাংলা ছবিতে যে গুণমানের কৌলীন্য কিংবা লাবণ্যের প্রভা দেখা দিয়েছিল তার মূলে অনেকটাই ছিল বাংলা সাহিত্যের অভিনিবেশ। বাংলা ছবির ক্রম-অধোগতির অন্যতম কারণও অনেকটা সাহিত্য থেকে সরে আসা। ওপার বাংলায় অবশ্য আবহাওয়া অন্য রকম। স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্রের তত্ত্বাবধানে সেখানকার বাংলা ছবি ক্রমশই ফিরে যাচ্ছে ঐতিহ্যময় সাহিত্যের কাছে, হালফিল তরুণ প্রজন্মের পরিচালকরাও তাঁদের ছবির জন্যে বেছে নিচ্ছেন মর্মস্পর্শী সাহিত্য। এমনই এক ঝাঁক তরতাজা ছবির উৎসব এ বার কলকাতায় ফেডারেশন অব ফিল্ম সোসাইটিজ়-এর উদ্যোগে: বাংলাদেশ ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল ২০১৮। নন্দনে ২৫-২৮ জুন। আসছেন বাংলাদেশের বিশিষ্ট প্রযোজক ফারিদুর রেজ়া সাগর ও পরিচালক আবু শায়েদ এমন। উদ্বোধনে থাকবেন ব্রাত্য বসু ও মাধবী মুখোপাধ্যায়।

 

রাষ্ট্রহীন

আজকের পৃথিবীর সবচেয়ে বড় বিস্থাপিত ও রাষ্ট্রহীন জনসমাজের নাম রোহিঙ্গা। সুদূর সপ্তম শতকে আরব দেশ থেকে এসে তাঁরা বাসা বেঁধেছিলেন আরাকানে। ১৯৪৮ সালেও রোহিঙ্গারা ছিলেন অন্যান্য জনগোষ্ঠীর মতোই মায়ানমারের নাগরিক। কিন্তু ১৯৬২ সাল থেকে শুরু হল তাঁদের ওপর নির্যাতন। যার চরম পরিণতিতে আজ মায়ানমার থেকে বিস্থাপিত হয়ে দশ লক্ষেরও বেশি রাষ্ট্রহীন রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছেন বাংলাদেশের টেকনাফ-কক্সবাজার অঞ্চলে। মইনুল আলম আর আসমা বীথির তোলা উদ্বাস্তু রোহিঙ্গাদের রণ-রক্ত-বিফলতার দুর্লভ কিছু আলোকচিত্রের একটি প্রদর্শনী শুরু হচ্ছে সি গুহ স্মরণে বই-চিত্র গ্যালারিতে, ২৫ জুন বিকেল পাঁচটায়, চলবে ৩০ তারিখ পর্যন্ত (প্রতি দিন ২-৭টা)। উদ্বোধন করবেন বিশিষ্ট চলচ্চিত্রকার গৌতম ঘোষ। সঙ্গে তারই একটি ছবি।

 

কিশোরী মন

১৯৪২-এ হিটলারের গেস্টাপো-র নজর এড়িয়ে আমস্টারডামের এক পুরনো বাড়িতে গোপনে থাকতে শুরু করেন অটো ফ্রাঙ্ক, তাঁর স্ত্রী ও দুই কিশোরী কন্যা— মার্গট এবং অ্যান ফ্রাঙ্ক (১৯২৯-৪৫)। গুপ্ত আস্তানায় দিনযাপনে অ্যানের একমাত্র আনন্দ ছিল বই পড়া আর জন্মদিনে পাওয়া ডায়েরি— ‘প্রিয় কিটি’র পাতায় নিজেকে উজাড় করা। কী লেখেননি সেখানে— সমকালীন রাজনীতি থেকে শুরু করে হিটলারের প্রতি ঘৃণা, বাবার ভালবাসা, মায়ের সঙ্গে দূরত্ব...। ১৯৪৪-এ ফ্রাঙ্ক পরিবার নাৎসিদের হাতে ধরা পড়ে যায়। কনসেনট্রেশন ক্যাম্পে ১৯৪৫-এর ফেব্রুয়ারি মাসে মারা যান অ্যান। যুদ্ধশেষের পরে তাঁর ডায়েরি প্রকাশ পায়। সাড়া ফেলে বিশ্বজুড়ে। এ বার তাঁর জন্মদিনকে স্মরণ করে ২৯ জুন ম্যাক্সমুলার ভবন ও গ্যেটে ইনস্টিটিউট এক কর্মশালা আয়োজন করেছে। শিল্পী ইলিনা বণিকের তত্ত্বাবধানে জিউইশ গার্লস স্কুলের এক ঝাঁক ছাত্রী সে দিন ছবি আঁকবে। ইচ্ছেডানা মেলবে কিশোরী মন— ছাতার কাপড়ে আর ঘুড়ির কাগজে।

 

এশিয়াটিকে প্রদর্শনী

দুর্লভ বই-পত্রিকা-নথির পাশাপাশি এশিয়াটিক সোসাইটিতে সংরক্ষিত আছে ভারতীয় চিত্রাবলি। এরই কৃৎকৌশল নিয়ে সম্প্রতি সেখানে আয়োজিত হয়েছিল একটি কর্মশালা। প্রারম্ভিক ভাষণেই মূল সুরটি ধরিয়ে দেন সোসাইটির সভাপতি ঈশা মহম্মদ, ‘‘শিল্পবোধ প্রত্যেকের মধ্যে থাকলেও এর করণকৌশল ও তার প্রসার সম্পর্কে অনেকের ধারণাই স্পষ্ট নয়। শিল্পকে জানতে হলে শিল্পী ও তাঁর করণকৌশল জানা আবশ্যক।’’ পাঁচ দিনের কর্মশালায় শিল্পী অজয় ঘোষ তরুণ শিল্পীদের শেখালেন আঁকার প্রকরণ, কাগজ তৈরির খুঁটিনাটি, রঙের প্রলেপের বিভিন্ন পদ্ধতি। এখানে শিল্পীরা যে সব ছবি আঁকলেন, তা নিয়েই প্রদর্শনী ২৫ জুন থেকে ৪ জুলাই সোসাইটির বিদ্যাসাগর হলে, রোজ ১২-৬টা। সঙ্গে দেখা যাবে সোসাইটিতে সংরক্ষিত বেঙ্গল স্কুলের চিত্রাবলিও।

 

মিলনী ১৯৩৩

১৯৩৩ সালে এক বৈশাখী পূর্ণিমার রাতে জন্ম হয়েছিল ‘মিলনী’র। ‘মিলনী ১৯৩৩’ আজও বঙ্গজীবনের কৃষ্টি ও সংস্কৃতির মিলনক্ষেত্র। সূচনাদিনে উদ্বোধক ছিলেন কাশিমবাজারের মহারাজা শ্রীশচন্দ্র নন্দী, সভাপতি হরেন্দ্রকুমার রায়, সদস্যদের মধ্যে প্রমথ চৌধুরী, নলিনীরঞ্জন সরকার, প্রতিমা রায় প্রমুখ। পরে পরিচালনায় এসেছেন শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের মতো বিশিষ্ট জন। এমনকি এক বার একই সঙ্গে মিলনীর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ ও শরৎচন্দ্র। মেঘনাদ সাহা, ফজ়লুল হক, প্রফুল্লচন্দ্র সেন, কালিদাস নাগ এর সদস্য ছিলেন। ৩০ জুন সন্ধ্যায় ‘মিলনী ১৯৩৩’ পালন করছে তার ৮৫তম জয়ন্তী।

 

আশিতে পা

অরবিন্দ মুখোপাধ্যায় বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘হিংয়ের কচুরি’ গল্পটা নিয়ে ছবি বানালেন— ‘নিশিপদ্ম’। অভিনয়ে উত্তমকুমার, সাবিত্রী ও জহর। সুর দিলেন নচিকেতা ঘোষ। ‘যা খুশি ওরা বলে বলুক’ গানের জন্য মান্না দে জিতলেন তাঁর দ্বিতীয় জাতীয় পুরস্কার। শক্তি সামন্ত এই ছবিটিই হিন্দিতে তৈরি করলেন ‘অমর প্রেম’ নামে। সুরকার রাহুল দেব বর্মন (১৯৩৯-৯৪)। শক্তি সামন্ত এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, এই ছবির কাজ করার সময় পঞ্চম মিউজ়িক রুমে ঢুকত সকাল ন’টায়, বেরোত রাত ন’টায়। তৈরি হল ‘কুছ তো লোগ’, ‘রায়না বীত জায়ে’-এর মতো গান। এ দিকে ‘রায়না বীত জায়ে’ শুনে মদনমোহন ফোন করে অভিনন্দন জানালেন শচীনকর্তাকে। এসডি সবিনয়ে জানালেন, এই গানটির সুর তাঁর নয়, তাঁর ছেলের। মদনমোহনের এটা ঠিক বিশ্বাস হল বলে মনে হল না শচীন দেব বর্মনের। ‘রায়না বীত জায়ে’ মুগ্ধ করল তামাম ভারতবাসীকে। এ বার এই শিল্পীর ৮০তম জন্মদিন উপলক্ষে ২৫ জুন থেকে ‘পঞ্চমনামা’ শীর্ষক তাঁরই সুরারোপিত ফিল্ম-পোস্টার প্রদর্শনীর আয়োজন হয়েছে অবনীন্দ্রনাথ আর্ট গ্যালারিতে (আইসিসিআর)। চলবে ৩০ জুন পর্যন্ত (৩-৮টা)। প্রদর্শিত হবে আরডি-র সুরারোপিত ‘তিসরি মঞ্জিল’ ‘হরে রাম হরে কৃষ্ণ’ ‘আঁধি’ ‘শোলে’ ‘শান’ ‘দিওয়ার’ ‘কটি পতঙ্গ’ ‘অমর প্রেম’-এর মতো প্রায় ৬০টি ছায়াছবির পোস্টার। প্রদর্শনীটির উদ্যোক্তা ও সংগ্রাহক সুদীপ্ত চন্দ।