Anandabazar Patrika Read Latest Bengali News, Breaking News in Bangla from West Bengal's Leading Newspaper

কলকাতার কড়চা: পুবের নাট্যগাথা


পুবের নাট্যগাথা

লাল সালু— সৈয়দ ওয়ালিউল্লাহ-র এই জটিল উপন্যাস নিয়ে নাটক মঞ্চস্থ করা আমার কাছে সত্যিই একটা কঠিন চ্যালেঞ্জ। তবু পিছপা হইনি কারণ আমায় উদ্বুদ্ধ করেছে এ উপন্যাসের মূল যে বিষয়, আধুনিকতার সেই সদর্থক দিকগুলি। মঞ্চায়নের প্রস্তুতি শুরু করে মনে হল জীবনের এই মুহূর্তে পৌঁছে যেন এই উপন্যাসটি নাট্যায়িত করার জন্যই অপেক্ষা করছিলাম। তা ছাড়া সারা দুনিয়া জুড়ে যে ভাবে মৌলবাদের উত্থান হচ্ছে সেই প্রেক্ষিতে এমন একটি নাটক মঞ্চস্থ করা আমার কাছে অত্যন্ত সময়োপযোগী।’’ মনে হয়েছে অবন্তী চক্রবর্তীর, প্রাচ্য-র নতুন নাটক ‘লালসালু’-র নির্দেশক তিনি। ওয়ালিউল্লাহ-র উপন্যাসের নাট্যরূপ দিয়েছেন কৌশিক চট্টোপাধ্যায়। নাটকটির আলোক-পরিকল্পনায় আছেন সিনেমাটোগ্রাফার শীর্ষ রায়। আর প্রাচ্য-র কর্ণধার বিপ্লব বন্দ্যোপাধ্যায় বেশ কিছু বছর পরে ফিরলেন আবার অভিনয়ে। এ নাটকের মুখ্য চরিত্রে, মজিদ-এর ভূমিকায় (সঙ্গের ছবিতে) আছেন তিনি। বললেন ‘‘মজিদ সমস্ত ক্ষমতালোভীর মতোই মানুষের দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে চার পাশটাকে এক অন্ধ পিরবাদী সমাজে রূপান্তরিত করতে চায়। নিজের স্বার্থে সে ব্যবহার করে অপ-ধর্মকে, ধর্মের ব্যবসায়ী হিসাবে। আসলে সে ভাবে দেখলে বাঙালি জাতি হিসাবে কিন্তু গড়ে ধর্মনিরপেক্ষ। হিন্দু-মুসলিম দুই সম্প্রদায়ই কম ধর্মবাদী, আরও কম সাম্প্রদায়িক, বরং অধিক সমাজ ও জীবনবাদী। তবু যেটা বেদনার তা হল বাঙালি হিন্দুর মধ্যবিত্ত পরিমণ্ডলে ও সমাজভাবনায় মুসলিম জনমানস ও মননচর্চা কোথাও যেন উপেক্ষিত। প্রতিবেশী ও প্রতিবাসীর জীবন ও জীবনভাবনাকে ছুঁতেই প্রাচ্য’র এই প্রয়াস।’’ দশ বছরে পা দিচ্ছে প্রাচ্য, আর তাদের নাট্যোৎসব পাঁচ বছরে। এ বারের উৎসবের প্রতিটি নাটকেরই অবলম্বন বাংলাদেশের কোনও না কোনও সাহিত্যিকের রচনা। উৎসবের নাম ‘পুবের নাট্যগাথা’। ২২-২৮ জুন, ইজেডসিসি-তে (পূর্বাঞ্চল সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের পূর্বাশা প্রেক্ষাগৃহে)। এ বারের ‘প্রাচ্য সম্মান ২০১৮’-র প্রাপক ব্রাত্য বসু ও কৌশিক সেন। এ উৎসবেই ‘লালসালু’-র প্রথম অভিনয়, ২৪ জুন সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায়।

 

সার্ধশতবর্ষ

৭ অগস্ট সার্ধশতবর্ষ পূর্ণ হবে ‘বীরবল’ প্রমথ চৌধুরীর (১৮৬৮-১৯৪৬)। বাঙালি যথারীতি নিঃস্পৃহ। শুধুমাত্র ‘সবুজ পত্র’-র জন্যই যাঁকে আমাদের প্রাতঃস্মরণীয় করে রাখা উচিত ছিল, সনেট পঞ্চাশৎ, তেল-নুন-লকড়ি, বীরবলের হালখাতা  বা চার-ইয়ারী কথা-র মতো সৃষ্টি, সর্বোপরি যাঁর পত্রাবলি কিংবা আত্মকথা এখনও ঈর্ষণীয় রকমের অদ্বিতীয়, তাঁকে নিয়ে সারস্বত সমাজ গত এক বছরে কিছুই করলেন না, প্রকাশ পেল না লিটল ম্যাগাজ়িনের বিশেষ সংখ্যা, এতটা উপেক্ষা বোধ হয় প্রাপ্য ছিল না প্রমথ চৌধুরীর, চলিত ভাষার সৌন্দর্য যিনি আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছিলেন। ২২ জুন জীবনানন্দ সভাঘরে বিকেল সাড়ে পাঁচটায় ‘অহর্নিশ’ পত্রিকার প্রমথ চৌধুরী সার্ধশতবর্ষ উদ্‌যাপন অনুষ্ঠানে বলবেন সুমিতা চক্রবর্তী, গোপা দত্ত ভৌমিক, জয়দীপ ঘোষ এবং ত্রিপুরাবাসী প্রাবন্ধিক রামেশ্বর ভট্টাচার্য। অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বে থাকবে অরবিন্দ দাস প্রণীত রবীন্দ্রনাথ: শেষ নাহি যে (অহর্নিশ) গ্রন্থের উদ্বোধন। গানে ও প্রমথ চৌধুরীর রচনা পাঠে অঙ্গনা দাস, সোনালী গুপ্ত, দেবপ্রিয়া মুখোপাধ্যায়।

 

নেপথ্যের কবি

প্রতি দেশে, প্রতি কালে অঙ্গুলিমেয় কয়েক জন থাকেন, নেপথ্য যাঁদের স্বভাব-গরিমা। বিগত শতাব্দীর মধ্যবর্তী সময়ে বেশ কয়েক দশক জুড়ে বাংলা সাহিত্যের অঙ্গনে কবি অরুণ ভট্টাচার্য (১৯২৫-৮৫) এই ভূমিকা পালন করেছেন। অনুচ্চ কণ্ঠের অধিকারী এই মানুষটি নির্জনতার মধ্য দিয়ে হাঁটতে পছন্দ করতেন, নীরবে নিবেদন পৌঁছে দেওয়াই তাঁর কবিতার ধর্ম ছিল। কবি অরুণ ভট্টাচার্য স্মরণ সমিতি আয়োজন করেছে তাঁর নামাঙ্কিত দ্বিতীয় স্মারক বক্তৃতা, বলবেন শমীক বন্দ্যোপাধ্যায়। ২২ জুন সন্ধ্যা ৫:৪৫-এ বাংলা আকাদেমি সভাঘরে এই আয়োজনের সূচনায় দে’জ পাবলিশিং-এর নিবেদনে কবিতাসংগ্রহ: অরুণ ভট্টাচার্য বইটি প্রকাশ করবেন শঙ্খ ঘোষ। এরই মুখবন্ধে অনুজ কবি জয় গোস্বামী ‘ব্যাপ্ত ভালোবাসার বনৌষধি’ শিরোনামে একটি নাতিদীর্ঘ বিশ্লেষক আলোচনা করেছেন, যা একাধারে মুখবন্ধ এবং কবিতার গূঢ় অভ্যন্তরে প্রবেশের চাবিকাঠি। অরুণ ভট্টাচার্যের কবিতা নিয়ে বলবেন গৌতম বসু। কবির নামাঙ্কিত স্মারক সম্মাননা অর্পিত হবে শুভাশিস চক্রবর্তী সম্পাদিত ‘অহর্নিশ’ পত্রিকাকে। সূচনা সঙ্গীতে প্রিয়াঙ্গী লাহিড়ী।

 

শিক্ষক

 ‘পারফর্মার’ হিসেবে নিজেকে সবার সামনে মেলে ধরার প্রলোভন সামলানো বড় সহজ কাজ নয়। কিন্তু সেই প্রলোভন হেলায় জয় করে দীর্ঘ পঞ্চাশ বছর অন্তরালে থেকে রবীন্দ্রসঙ্গীত চর্চায় নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন যিনি, তাঁকে সাধুবাদ না দিয়ে পারা যায় না। বাবা শুভ গুহঠাকুরতার হাত ধরে রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে আত্মিক পরিচয় সুদেব গুহঠাকুরতার। সুদেবের সঙ্গীত-শিক্ষক জীবনের পঞ্চাশ বছর উপলক্ষে ‘দক্ষিণী’র প্রায় দু’শো ছাত্রছাত্রী ২৪ জুন সন্ধ্যা ৬:৩০-এ রবীন্দ্রসদনে ভিন্ন ভাবনার এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছেন। সেখানেই এই প্রথম বার মঞ্চে সুদেব এবং তাঁর দুই সহোদর রণো ও ভীষ্ম ভিন্নতর এক আড্ডায় মাতবেন। শোনাবেন তাঁদের পারিবারিক ও সঙ্গীতজীবনের নানা অকথিত আখ্যান।

 

ত্রিধারা ছো

ছো নাচের কথা উঠলে প্রথমেই আমাদের চোখে ভাসে পুরুলিয়ার নাম। কিন্তু সেরাইকেলা ও ময়ূরভঞ্জেও যে ছো নাচের চর্চা হয়, তা খুব কম মানুষই জানেন। তবে এদের মধ্যে অঞ্চল ভেদে কিছু তফাতও লক্ষণীয়। সেরাইকেলার নাচে পুরুলিয়ার মতোই মুখোশ আছে, কিন্তু ময়ূরভঞ্জের ছো ধারায় মুখোশ নেই। বিশেষজ্ঞরা বলেন, পুরুলিয়ার নাচ তাণ্ডব আর সেরাইকেলার নাচ লাস্য; ময়ূরভঞ্জে এই দুইয়ের মিশ্রণ। তবে তখন কোনও নাচেই মেয়েদের অংশগ্রহণ ছিল না। ১৯৯৭ থেকে জোড়াসাঁকোয় পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য নৃত্য নাটক সঙ্গীত ও দৃশ্যকলা আকাদেমির তৎকালীন সদস্য সচিব শিশির মজুমদারের নেতৃত্বে ত্রিধারা ছো-এর প্রশিক্ষণ শুরু হয়। সেখানে নারীরাও পুরুষদের সঙ্গে যোগ দেন। রবীন্দ্রভারতীর ভরতনাট্যমের ছাত্রী মধুমিতা পাল সেখানেই ছো-নৃত্যের তালিম নেন। তিনি দেশে-বিদেশে বহু বার ছো নৃত্য পরিবেশন করেছেন। এ বার এই শিল্পী এবং তাঁর সহ-শিল্পীরা ছো নৃত্য পরিবেশন করবেন ২৪ জুন সন্ধ্যা ৬:৩০-এ রঙ্গকর্মীর প্রিন্স আনোয়ার শাহ রোডের কেয়া বিনোদিনী মঞ্চে।

 

প্রণতি

ছেলেবেলা থেকে যেমন তাঁর অভিনয়ে আসক্তি ছিল, তেমনই কবিতাকেও আঁকড়ে ধরে ছিলেন প্রণতি ঠাকুর। রেডিয়ো নাটকে তিনি বসন্ত চৌধুরীর সঙ্গে অভিনয় করেছেন। প্রখ্যাত অভিনেতা বিকাশ রায়ের পরিচালনায় নাট্যপাঠ করেছেন। কলকাতা দূরদর্শনে ঘোষিকার ভূমিকায় শিল্পীর আত্মপ্রকাশ। এর পর সংবাদপাঠে মনোনিবেশ। মূলত মা নীলিমা মিত্র মুস্তাফি এবং মামা কালীচরণ ঘোষের উৎসাহেই আবৃত্তির বৃত্তালোকে আসেন। পড়াশোনা করতে করতেই ‘বিবিধ ভারতী’তে বিজ্ঞাপনে ভয়েস ওভারও করেছেন। এ বার শিল্পীর কর্মজীবনের চল্লিশ বছর পূর্তি উপলক্ষে তাঁর নিজের সংগঠন ‘সূর্যাবর্ত’-এর ছাত্রছাত্রীরা ২০ জুন সন্ধ্যা ৬:৩০-এ বিড়লা অ্যাকাডেমিতে ‘অনুভব-এর প্রণতি’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছেন। অনুষ্ঠানের সূচনা করবেন সুজয়প্রসাদ চট্টোপাধ্যায়, সম্মাননা জানানো হবে বিজয়লক্ষ্মী বর্মণকে। ভাষ্য রচনায় রাইনন্দিনী কোনার।

 

মঞ্চে ফেরা

আট বছর পর মঞ্চে ফিরলেন গার্গী রায়চৌধুরী। কুমার রায়ের পরিচালনায় ‘বহুরূপী’তে যখন অভিনয় করতেন, অভিনেত্রী তখনই একক নাটক করার বীজটা বুনে রেখেছিলেন মনে। সেই বীজই এত দিনে ধীরে ধীরে চারা থেকে বৃক্ষে পরিণত হল। গার্গীর একক অভিনীত নাটক ‘রঙ্গিণী’ই এ বার দেখা যাবে ২২ জুন সন্ধ্যা ৭টায় জিডি বিড়লা সভাঘরে। নাটকটি মূলত একটি সাধারণ মেয়ের জীবনের ওঠা-পড়ার গল্প। যেটা প্রত্যেকেরই খুব চেনা— গ্রামের যৌথ পরিবারে বড় হওয়া রঙ্গিণী প্রেমের ফাঁদে পা দিয়ে ঘর ছাড়ে। স্বাভাবিক ভাবেই প্রেমিককে বিশ্বাস করে তার সর্বস্ব দেয়। সেই প্রেমিকই এক দিন তাকে বিক্রি করে দেয় নর্তকী হিসেবে, শহরের এক পানশালায়। ব্রাত্য বসুর উপদেষণায় এ ভাবেই এগিয়ে চলে উজ্জ্বল চট্টোপাধ্যায়ের লেখা নাটক ‘রঙ্গিণী’, কখনও উৎপল দত্তের ‘টিনের তলোয়ার’ কখনও বা রবীন্দ্রনাথের ‘রক্তকরবী’কে সামনে রেখে। এক ঘণ্টা দশ মিনিটের এই নাটক এগিয়ে যায় দেবজ্যোতি মিশ্রের পরিচালনায় রবীন্দ্রসঙ্গীত, জ্যাজ় লোকগানকে সঙ্গী করে। দেখা যাবে সুদর্শন চক্রবর্তীর নির্দেশনায় নাচ, এমনকি ক্যাবারেও।

 

গল্প হলেও সত্যি

ড্রাগে আসক্তি এ দেশের নতুন কোনও সমস্যা নয়, দীর্ঘ কাল ধরে তা জনমানসে, সমাজ-সংস্কৃতিতে অন্ধকার ঘনিয়ে তুলেছে। এ থেকে রেহাই পাওয়ার বা মানুষজনকে এ নেশা থেকে সরিয়ে আনার কোনও চটজলদি রাস্তা নেই। যা আছে তা দীর্ঘ সহিষ্ণুতার পথ, ধৈর্যের পথ, আক্রান্ত বাসিন্দাদের সহমর্মী হয়ে তাঁদের পুরনো স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে দেওয়ার পথ। তেমনই এক ‘রিহ্যাবিলিটেশন’-এর বৃত্তান্ত বুনেছেন শিল্পী গুলাটি তাঁর ছবিতে, পঞ্জাব প্রদেশের এমন কিছু মানুষকে নিয়ে। ড্রাগ-আসক্তি থেকে নিজেদের সম্পর্কের ভালবাসায় ফিরে আসছেন তাঁরা একে অপরের সহায়তায়। শিল্পীর এই তথ্যচিত্রটি, ‘তালা তে কুঞ্জি’ (লক অ্যান্ড কি), গল্পের মতো হলেও সত্যি। দেখানো হবে ম্যাক্সমুলার ভবনে ২০ জুন সন্ধ্যা ৬:৩০-এ, গ্যেটে-ইনস্টিটিউটের ডকু-ফোরাম বিভাগে। ছবি দেখানোর পর থাকছে দর্শকদের সঙ্গে শিল্পীর কথোপকথন।

 

গীতিভাষ্য

শান্তিনিকেতনের প্রাক্তন ও বর্তমান ছাত্রছাত্রী কর্মী শিক্ষকশিক্ষিকাদের সাংস্কৃতিক সংস্থা ‘সপ্তক’ পঁচিশ বছরের ওপর একনিষ্ঠ রবীন্দ্রচর্চা করে চলেছে। নিয়মিত রবীন্দ্ররচনানির্ভর অনুষ্ঠান, ‘রবীন্দ্রনাথের গান: সঙ্গ-অনুষঙ্গ’ ও ‘ঐ আসনতলে’র মতো রবীন্দ্রসঙ্গীত বিষয়ক বই, বা ‘নৃত্যধারার তালে তালে’, ‘আমাদের শান্তিনিকেতন’, ‘শান্তিনিকেতনের বৈতালিক’ নামক সিডি প্রকাশ ছাড়াও, শান্তিনিকেতনের ঐতিহ্যে রবীন্দ্রসঙ্গীতের প্রচার ও প্রসারে বরাবর সচেষ্ট  থেকেছে। ২৩ জুন সন্ধ্যা ৬টায় শিশির মঞ্চে তাদের অনুষ্ঠানের শিরোনাম ‘রবীন্দ্রনাথের গানের নাটক নাটকে গান’। সূচনাপর্বের গীতিনাট্য থেকে কবির শেষ জীবনের নৃত্যনাট্য পর্যন্ত বিভিন্ন নাটকে অজস্র গানের বিচিত্র ব্যবহার নিয়ে উপস্থাপিত হবে সপ্তক-এর এই গীতিভাষ্য।

 

অথৈ জল

সময়টা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ঠিক আগে। গ্রামীণ ডাক্তার শশাঙ্ক। দুই সন্তান, স্ত্রী, রোগী আর দু’চার জন মোসাহেব নিয়ে তরঙ্গহীন শশাঙ্কের জীবনে হাজির হয় বিচিত্রস্বভাবিনী পান্না নামের তরুণী— এক খেমটাওয়ালি। এক সময় যে নাচ-গান শশাঙ্কের কাছে অতি হীন বলে মনে হত, সেই ‘ইতর’ নাচ-গান বা শৃঙ্গারমূলক বিভঙ্গই এখন যেন তাকে তীব্র ভাবে আকর্ষণ করে। সে অনুভব করে পৃথিবীতে ‘নারী’ বলে কিছু আছে, আছে লাস্যের অব্যর্থ আনন্দ। ভেসে পড়ে পান্নার সঙ্গে, খেমটার আসরে অধিকারী সাজে, ভুলে যায় সংসার, ডাক্তারি, এমনকি নৈতিকতাও। বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস অবলম্বনে উজ্জ্বল চট্টোপাধ্যায় রচিত ‘পূর্ব পশ্চিম’-এর নতুন নাটক ‘অথৈ জল’ এ ভাবেই এগিয়েছে। প্রথম অভিনয় ২২ জুন সন্ধ্যা ৬:৩০-এ অ্যাকাডেমিতে।
সম্পাদনা ও নির্দেশনায় ব্রাত্য বসু ও মুখ্য ভূমিকায় দেবশঙ্কর হালদার।

 

স্বমহিম

চা  বাগান— উত্তরবঙ্গের ভুটান-সীমান্তে, বা নকশালবাড়ির কাছে। সেখানকার শ্রমিকরা শুধু কর্মহীনই নন, অনাহারে মারাও গিয়েছেন। আবার কলকাতার ব্যাঙ্কে একেবারে নিচুতলার কর্মীরা ছাঁটাই হয়ে যাওয়ার পর রেলস্টেশনে লটারির টিকিট বিক্রি করে পেট চালান। কেউ কেউ মাথায় ঝাঁকা নিয়ে মাছ বিক্রি করেন আবাসনে আবাসনে। বর্ধমানে চায়ের দোকানে কিংবা গ্যারাজে কাজ করে গ্রাসাচ্ছাদন করেন কেউ কেউ। বীরভূমের পাচামি-তে পাথর খাদানে কাজ করে চলেছেন কিছু মানুষ, মৃত্যুর হাতছানি উপেক্ষা করেই। মুর্শিদাবাদের বিড়ি-শ্রমিকদের অধিকাংশই কমবয়সি মেয়ে, বিড়ি বাঁধতে বাঁধতেই বড় হয়ে যায় তারা। সুন্দরবনের গভীর জঙ্গলে ঢুকে মধুসংগ্রহকারীরা মধু এনে তা জলের দরে বেচে দিচ্ছেন মহাজনদের কাছে।... এ সমস্ত মানুষজনকে নিয়েই এখন দিন কাটছে তরুণ মজুমদারের। প্রখর গ্রীষ্ম কিংবা ঘোর বর্ষা, কোনও কিছুই বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে না অশীতিপর মানুষটির কাছে, নিজের নামেই এখনও স্বমহিম তরুণবাবু। অসংগঠিত শ্রমিকদের নিয়ে এই নতুন ছবির শুটিং সদ্য শেষ হল তাঁর। বললেন, ‘‘ঠিকা-শ্রমিক বলা হয় এঁদের। এঁরা নিজেদেরই অর্থে তৈরি করছেন নিজেদের ছবি। শ্রমিক সমবায়ের প্রচেষ্টা। এই ডকু-ফিচার ছবিটি করতে করতে নিজেও প্রতিনিয়ত শিখছি।’’ শুটিং শেষ করেই গন্তব্য হায়দরাবাদ, সেখানে বাংলা চলচ্চিত্রোৎসবে (২২-২৪ জুন) তাঁর রেট্রো, নিজের কাজ নিয়েও বলবেন তিনি। ‘‘তাঁর চলচ্চিত্র-জীবনের ষাট বছরে আমাদের শ্রদ্ধার্ঘ্য’’, জানালেন উৎসব-অধিকর্তা পার্থপ্রতিম মল্লিক।


Anandabazar Patrika Read Latest Bengali News, Breaking News in Bangla from West Bengal's Leading Newspaper