সরছে বালি, কমজোরি হচ্ছে সেতু

আলগা: এ ভাবেই সেতুর নীচের থামের তলা থেকে সরছে বালি, মাটি। নিজস্ব চিত্র

থামের গোড়া সরে যাচ্ছে বালি, মাটি। নড়বড়ে হচ্ছে থাম। যা আখেরে সেতুর স্বাস্থ্যের উপরে প্রভাব ফেলছে।
অভিযোগ, নদী থেকে বেআইনি বালি তোলার কারবারই ক্রমশ দুর্বল করছে ক্যানিংয়ের মাতলা নদীর উপরের সেতুকে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানালেন, মাঝে একবার নীল-সাদা রং করা হয়েছে মাত্র। ব্যাস, ওই পর্যন্তই। পুরো সেতুর সংস্কারে নজর নেই কারও। 
দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলাশাসক ওয়াই রত্নাকর রাও বলেন, ‘‘আমরা বিভিন্ন সেতুর অবস্থা নিয়ে খোঁজ-খবর করছি। পূর্ত দফতর, সেচ দফতরের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। কোথাও কোনও সেতুর সমস্যা থাকলে আমরা দ্রুত ব্যবস্থা নেব।’’
মাতলা নদী মজে যাওয়ার পর থেকে যে ভাবে দিনের পর দিন বালি তুলে নেওয়া হচ্ছে, তাতে সেতুর থামের গোড়া আলগা হয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ। বালি কাটায় রাজনৈতিক নেতাদের একাংশের মদত আছে বলেও অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় স্তরে। জেলা পরিষদের সহকারী সভাধিপতি শৈবাল লাহিড়ি বলেন, ‘‘মাঝে মাতলা সেতুতে একটা ফাটল দেখা দিয়েছিল। সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দফতরের আধিকারিকদের নিয়ে গিয়ে সেই সমস্যা সমাধান করা হয়। তবে বালি তোলা নিয়ে সেতুর কোনও সমস্যা হচ্ছে কিনা, তা সংশ্লিষ্ট দফতরের বিশেষজ্ঞেরা ভাল বলতে পারবেন। এলাকার সমস্ত সেতু নিয়ে সংশ্লিষ্ট দফতরের সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’
সেচ দফতরের অবশ্য দাবি, সেতুর গোড়া থেকে কোনও মাটি-বালি কাটা হয় না। প্রায় দু’কিলোমিটার দূরে বালি খাদান আছে। তাদের সরকারি অনুমতিও আছে। সেখানে বালি তোলা ফলে সেতুর তলায় মাটি-বালি আলগা হচ্ছে, এমনটা ঠিক নয়। তবে কেউ বেআইনি ভাবে বালি তুলছে কিনা, তা খতিয়ে দেখার আশ্বাসও দিয়েছেন দফতরের কর্তারা।
বাম আমলে ক্যানিংয়ের মাতলা নদীর উপরে প্রায় ৬০০ মিটার লম্বা সেতুটি তৈরি হয়েছিল। ২০১১ সালে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য সেতুর উদ্বোধন করেন।  সেতু তৈরির পরে সুন্দরবনের গোসাবা, বাসন্তী, উত্তর ২৪ পরগনার সন্দেশখালি-সহ প্রত্যন্ত গ্রামের মানুষের সড়কপথে কলকাতা যাওয়া সহজ হয়ে যায়। সড়কপথে পর্যটকেরা গদখালি, ঝড়খালি হয়ে সুন্দরবনে যেতে পারেন। 
আগে পর্যটকদের ক্যানিং থেকে নদীপথে সুন্দরবনে যেতে হত। তা ছাড়া, ওই সেতু তৈরি হওয়ার পরে বারুইপুর থেকে গদখালি, ঝড়খালি, চুনাখালি বাসরুট চালু হয়েছে। বহু যানবাহন চলাচল করে ওই সেতু দিয়ে। দিনদিন সেতুর উপরে চাপ বাড়ছে। 
স্থানীয় মানুষের অভিযোগ, সেতুর উপরে এক সঙ্গে অনেক গাড়ি উঠলে সেতু কাঁপছে। পুরনো রেলিং ভেঙে নতুন করে ঢালাই গার্ডওয়াল তৈরি হয়েছে। এতে সেতুর উপরে আগের তুলনায় ভার অনেকটা বেড়েছে। অবিলম্বে যদি সেতু সংস্কার না হয়, তা হলে যে কোনও দিন মাঝেরহাট সেতুর মতো মাতলা সেতুও ভেঙে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা বাসিন্দাদের। 
ক্যানিংয়ের বাসিন্দা অশোক মণ্ডল, লতিকা রায় বলেন, ‘‘ক্যানিংয়ের মাতলা সেতু নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ করা হয় না। সেতুর উপরে জল বের হওয়ার নালাগুলি বন্ধ হয়ে গিয়েছে। বর্ষার জল সেতুর উপরে জমে থাকে। অবিলম্বে সেতু সংস্কার করা প্রয়োজন। না হলে যে কোনও দিন বিপদ হতে পারে।’’
পূর্ত দফতরের এক বাস্তুকার বলেন, ‘‘মাতলা সেতুতে একটা সমস্যা রয়েছে। বর্ষার পরে কাজ শুরু করা হবে। তবে আমরা সব সময়ে সেতুর উপরে নজরদারি চালাই। সেতুটির যতটা ভার বহন করার ক্ষমতা আছে, তার থেকে কম ভার আমরা সেতুর উপরে দিই।’’