দুই শহরে ২৮০টি ‘নিজশ্রী’ আবাসন


কয়েক মাস আগেই স্বল্প আয়ের নাগরিকদের জন্য ‘নিজশ্রী’ নামে আবাসন প্রকল্প চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। প্রকল্পের নামকরণও হয়েছিল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিকল্পনায়। সেই প্রকল্পে আসানসোল ও দুর্গাপুর শহরে প্রায় তিনশো আবাসন তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছে পশ্চিম বর্ধমান জেলা প্রশাসন। এর জন্য দুই শহরে জমিও চিহ্নিত করা হয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রের খবর।

এই প্রকল্পের রূপায়ণের জন্য সম্প্রতি জেলাশাসক শশাঙ্ক শেঠির উপস্থিতিতে একটি উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক আয়োজিত হয় বলে জানান অতিরিক্ত জেলাশাসক (সাধারণ) অরিন্দম রায়। প্রকল্প রূপায়ণে জেলা নোডাল অফিসার নিযুক্ত হয়েছেন মহকুমাশাসক (আসানসোল) প্রলয় রায়চৌধুরী। প্রলয়বাবু জানান, প্রাথমিক ভাবে আসানসোলে ৮০টি ও দুর্গাপুরে দু’শোটি বহুতল আবাসন তৈরি করা হবে। এর জন্য দুই শহরেই এক একর করে সরকারি জায়গা নেওয়া হচ্ছে। জেলা প্রশাসন জানায়, আসানসোলের কল্যাণপুর এলাকায় জায়গা চিহ্নিত করা হয়েছে। কিন্তু দুর্গাপুরে এখনও পছন্দমতো জায়গা মেলেনি।

প্রকল্পটি আসলে কী? ‘নিজশ্রী’ প্রকল্পে সরকারি জমিতে ৩৭৮ ফুটের (কার্পেট এরিয়া) এক শয্যাকক্ষ বিশিষ্ট ও ৫৫৯ বর্গফুটের দুই শয্যাকক্ষ বিশিষ্ট ফ্ল্যাটগুলি তৈরি করা হবে। দু’ধরনের ফ্ল্যাটের দাম যথাক্রমে ৭ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা ও ৯ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা। কয়েক মাস আগে নবান্ন থেকে জানানো হয়েছিল, এক-একটি আবাসন হবে পাঁচ তলার। তবে এই আবাসনগুলিতে লিফটের সুবিধা থাকবে না। প্রলয়বাবু জানান, মাসিক ১৫ হাজার টাকা বা তারও কম আয়ের নাগরিকেরা এক কামরার আবাসন ও মাসিক ৩০ হাজার টাকা বা তারও কম আয়ের নাগরিকেরা দু’কামরার আবাসনের জন্য আবেদন করতে পারবেন।

জেলা প্রশাসন জানায়, আসানসোলের ৮০টি আবাসনের মধ্যে ৪৮টি এক শয্যাকক্ষবিশিষ্ট ও বাকিগুলি দু’শয্যাকক্ষবিশিষ্ট আবাসন তৈরি করা হবে। দুর্গাপুরে এ যাবৎ জায়গা চিহ্নিত না হওয়ায় সেখানে এমন কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। আবাসনগুলি রাজ্যের আবাসন দফতর বানাবে। ইচ্ছুক আবেদনকারীরা অনলাইনে আবাসনের আবেদন করতে পারবেন।

শুধু আসানসোল, দুর্গাপুরের মতো মূল শহরেই নয়, দুই মহকুমার অন্য এলাকাতেও এই প্রকল্পের আবাসন তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানায় প্রশাসন। এর জন্য উপযুক্ত  জমি খোঁজার কাজও চলছে। প্রলয়বাবুর বক্তব্য, ‘‘কাজ শুরুর দিনক্ষণ এখনও ঠিক হয়নি। তবে খুব দ্রুত কাজ

শুরু হবে।’’