চায়ে মাদক মিশিয়ে ছিনতাই মেডিক্যালে


কথায় ভুলিয়ে গয়না ছিনতাই, প্রতারণার অভিযোগ আগেও উঠেছে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। এ বার মাদক খাইয়ে চার জন রোগীর আত্মীয়কে বেঁহুশ করে টাকা ও মোবাইল ছিনতাইয়েরও অভিযোগ উঠল। সুভাষ সোরেন, ক্রান্তি বাস্কে, রাহুল বাগদি ও আনন্দ বাগদি নামে ওই চার জনেরই চিকিৎসা চলছে বর্ধমান মেডিক্যালে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, বাঁকুড়ার ইন্দাস থানার শাসপুরের রবি সোরেন বুকে ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন শনিবার। রাধারানি ওয়ার্ডে ভর্তি ছিলেন তিনি। সঙ্গে ছিলেন তাঁর ভাই সুভাষ সোরেন ও ক্রান্তি বাস্কে। রবিবার দুপুরে বীরভূমের রাউতারা থেকে বুকে ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন মহাদেব বাগদিও। তাঁর স্ত্রী কণিকাদেবী স্বামীর সঙ্গে ওয়ার্ডের মধ্যে ছিলেন। বাইরে ছিলেন দুই ভাইপো রাহুল ও আনন্দ বাগদি। অভিযোগ, সোমবার রাতে বৃষ্টি শুরু হওয়ায় রাধারানি ওয়ার্ডের পিছনে শেডে বসেছিলেন ওই চার যুবক। আরও অনেকেই ছিলেন সেখানে। তখনই বছর চল্লিশের এক ব্যক্তি নিজেকে রোগীর পরিজন দাবি করে তাঁদের সঙ্গে গল্প জুড়ে দেন। কাছাকাছ এক চা বিক্রেতার কাছ থেকে চা কিনেও খাওয়ান চার জনকে। এরপরেই ঘুমিয়ে পড়েন তাঁরা। সুভাষবাবুর দাবি, সকাল ৮টা নাগাদ জ্ঞান ফিরলে তাঁরা দেখেন টাকাপয়সা কিছুই নেই সঙ্গে। রাহুল ও আনন্দেরও দাবি, দুটি মোবাইল ও আট হাজার টাকা খোওয়া গিয়েছে।

গত মাসেই বিভিন্ন ওয়ার্ডে ভর্তি রোগীদের আত্মীয়দের প্রভাবিত করে বেসরকারি হাসপাতালে পাঠানোর অভিযোগে গ্রেফতার করা হয় আনিসুর রহমান ও সুরজিৎ কর্মকার নামে দু’জনকে। তার কিছুদিন পরে হাসপাতালে আসা এক বৃদ্ধাকে কথায় ভুলিয়ে গয়না হাতানোর সময় হাতেনাতে ধরা হয় এক ব্যক্তিকে। তা ছাড়া যখন তখন হাসপাতালের ওয়ার্ডে বাইরের লোক ঢুকে পড়া, রাতে ওয়ার্ডে ভিড় করে থাকা— এ সব অভিযোগ তো রয়েছেই। এ দিনের ঘটনার পরে রোগীরা ফের প্রশ্ন তুলেছেন নিরাপত্তা নিয়ে। ভাইপোদের অবস্থা দেখে মহাদেববাবুর ক্ষোভ, ‘‘হাসপাতাল চত্বরে গরিব মানুষদের সঙ্গে প্রতারণা হলে, এখানে চিকিৎসা করাতে আসব কোন ভরসায়?’’

হাসপাতালের ডেপুটি সুপার অমিতাভ সাহার আশ্বাস, ‘‘বিষয়টি শুনেছি। পুলিশের নজরদারি আরও বাড়ানো হবে।’’ তবে মানুষকেও এই ধরনের চক্র থেকে সচেতন হওয়ার কথা বলেছেন তিনি। হাসপাতাল চত্বরে সচেতনতার বার্তা দেওয়া ফ্লেক্স লাগানোর কথাও জানিয়েছেন।