বিশেষজ্ঞের পরীক্ষার পরে খুলবে সেতু

রেলসেতুর কাজ দেখছেন বিশেষজ্ঞেরা। নিজস্ব চিত্র

মাঝেরহাটে সেতু ভেঙে পড়ার ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে আইআইটি-র প্রাক্তন অধ্যাপকের নেতৃত্বে বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করল রেলওয়ে বিকাশ নিগম লিমিটেড (আরভিএনএল)। বর্ধমানে নির্মীয়মাণ সেতু কবে খোলা হবে তা জানা যাবে ওই কমিটি রিপোর্ট দেওয়ার পরেই। 

সোমবার জেলাশাসকের সঙ্গে সেতু নির্মাণকারী সংস্থা আরভিএনএলের বৈঠকে এই প্রসঙ্গ ওঠে। সেতুর সংযোগকারী রাস্তার কাজের গতি দেখে ক্ষুব্ধ আরভিএনএল কর্তারা। সংস্থার এগজিকিউটিভ ডিরেক্টর রাজেশ প্রসাদের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি দল বর্ধমান-কাটোয়া রোডে নির্মীয়মাণ সেতু দেখতে যান। সেখানে গিয়ে তাঁরা দ্রুত কাজ শেষ করার কথা বলেন।

এ দিন সকাল সওয়া ১১টা নাগাদ আরভিএনএল কর্তারা কলকাতা থেকে এসে জেলাশাসকের সঙ্গে বৈঠক করেন। ছিলেন অতিরিক্ত জেলাশাসক (সাধারণ) অরিন্দম নিয়োগী। ঘণ্টাখানেকের বৈঠকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, পুরনো রেলসেতুটি দিন-দিন দুর্বল হয়ে পড়ছে। ওই সেতু দিয়ে ভারী যানবাহন চলাচল ঝুঁকি হয়ে যাচ্ছে। আপাতত ওই সেতু দিয়ে ভারী যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এ ছাড়া দীর্ঘ দিন ধরে পুরনো সেতুর পাশে ঝুলন্ত সেতুর সংযোগকারী রাস্তার কাজ চলায় সমস্যা হচ্ছে। জেলা প্রশাসনের তরফে দ্রুত কাজ শেষ করতে বলা হয়েছে।

বৈঠক শেষে জেলাশাসক বলেন, ‘‘আরভিএনএলের কর্তারা ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা দিয়েছেন।’’ যদিও পরে জেলাশাসকের দফতরের সামনে আরভিএনএল কর্তারা বলেন, ‘‘সামনেই পুজো। উৎসবের মরসুম শুরু হয়ে যাচ্ছে। তার মধ্যেও ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ করার চেষ্টা করছি।’’ তাঁদের দাবি, জেলাশাসকের বাংলোর দিকে এখনও জমি পাওয়া নিয়ে সমস্যা রয়েছে। তা ডিসেম্বরের মধ্যেই মিটে যাবে বলে তাঁরা আশাবাদী। জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, ওই সেতুর সংযোগকারী রাস্তার জন্য জমি অধিগ্রহণ নয়, সরাসরি জমি কেনা হয়েছে। জেলাশাসকের বাংলোর কাছে এক জন অনেক বেশি দাম চাওয়ায় সেই জমি কেনা যায়নি। অথচ, তাঁর বাড়ির পাশাপাশি সরকারি মূল্যে জমি কেনা হয়েছে। প্রশাসনের এক কর্তা বলেন, ‘‘একটি প্লটের জন্য প্রকল্পের কাজ আটকে যাওয়ার সম্ভাবনা নেই।’’

জেলাশাসকের দফতর থেকে বেরিয়ে আরভিএনএল কর্তারা যান মেহেদিবাগানে। সংযোগকারী রাস্তার কাজের হাল দেখে স্থানীয় আধিকারিকের কাছে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। একটি ঘরে ঢুকে বেশ কিছুক্ষণ আলোচনাও করেন। তার পরে স্টেশনের দিকে গিয়ে কাজ দেখে ক্ষোভে ফেটে পড়েন আধিকারিকেরা। বলতে থাকেন, ‘‘কবে কাজ শেষ হবে? তারিখের পর তারিখ পেরিয়ে যাচ্ছে। তাড়াতাড়ি কর।’’

জেলা প্রশাসন এবং আরভিএনএলের বৈঠকের পরে জানা গিয়েছে, চলতি বছরের মধ্যে কাজ শেষ করা হবে। ২০১২ সালে একেবারে গোড়ায় মূল নকশার কিছু পরিবর্তন করতে হয়েছিল। রেল চেয়েছিল পুরনো সেতু বন্ধ করে নতুন সেতুর কাজ করতে। কিন্তু জেলা প্রশাসন তাতে আপত্তি জানায়। সে কারণে পুরনো সেতুতে ওঠার জন্য কাটোয়া রোড থেকে নতুন রাস্তা তৈরি করতে হয়। সে জন্য নকশার হেরফের করতে হয়েছিল। মাঝেরহাটের ঘটনার পরে আরভিএনএল চাইছে, আইআইটি-র বিশেষজ্ঞদের দিয়ে সেতু পরীক্ষা করানোর পরে তা চালু করতে। সে জন্য বিশেষজ্ঞ কমিটিও গঠন করেছে তারা।