কালেক্টরেটে ফাইল ঘাঁটল হনুমান

পরিদর্শন: দফতরে ঢুকে সোজা টেবিলে। নজর গোটা ঘরে। নিজস্ব চিত্র

এ যেন হঠাৎ পরিদর্শন।
বৃহস্পতিবার বিকেল তখন সাড়ে ৪টে। মেদিনীপুর কালেক্টরেটের এসটিএসসি কর্পোরেশনের দফতরে তখন ছুটি ছুটি ভাব। কর্মীরা ইতিউতি ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। আচমকা সরকারি দফতরে আর্বিভাব এক হনুমানের। এক কর্মী চেয়ার ছেড়ে উঠেছিলেন। সুযোগের সদ্ব্যবহার করে দ্রুত তাঁর টেবিলের দখল নিল সে। ভাবখানা এমন যেন, হেডঅফিসের বড়বাবু আচমকা পরিদর্শনে এসেছেন। শুধু ভাবভঙ্গি নয়। কাজকর্মেও তেমনই ইঙ্গিত দিচ্ছিল পবন পুত্র। টেবিলের উপর ডাঁই হয়ে থাকা ফাইল নেড়েচেড়ে দেখতে শুরু করে সে। এক কর্মীর কথায়, “শুধু তো টেবিলে বসা নয়, টেবিলে থাকা ফাইল টেনে নাড়াচাড়া করছিল। তখন আরও ভয় পেয়েছিলাম। ভেবেছিলাম, এই বুঝি কাগজপত্র ছিড়ল!’’ 
শুরুতে হনুমানটিকে দেখে অনেকেই ভয় পেয়ে গিয়েছিলেন। কেউ কেউ নানা ভাবে তাকে দফতর থেকে বের করে দিতেও চেয়েছিলেন। কিন্তু তাতে কাজ হয়নি। যেন কাজে ফাঁকি ধরতে পণ করেছিল সে। ফাইল নেড়েচে়ড়ে দেখে সেগুলিকে আবার যথাস্থানে রেখে দিচ্ছিল। সকলেই একবাক্যে মানছেন, হনুমানটি শান্ত স্বভাবের ছিল। প্রায় মিনিট কুড়ি সে দফতরের মধ্যে ছিল। কারও কোনও ক্ষয়ক্ষতি করেনি। প্রাথমিক ভীতি কাটতেই কর্মীদের মধ্যে শুরু হয় নির্মল আনন্দ উপভোগের পালা। কেউ এগিয়ে দিয়েছেন কলা। কেউবা শশা, আপেল। কোনও খাবারেই অরুচি নেই তার। কলা একটু প্রিয় বটে। তবে শশা, কলাও দিব্যি উদরস্থ করল সে। কর্মীদের কেউ কেউ ছুড়ে দিলেন টিপ্পনী, ‘‘আহারে বেচারার খুব খিদে পেয়েছিল।’’ কেউবা বললেন, ‘‘অফিস ছুটির মুখে বড়বাবু কাজ দেখতে এসেছেন তাকে একটু আদর, আপ্যায়ন না করলে হয়!’’ খবর চাউর হতে দেরি হয়নি। অন্য দফতরের কর্মীরা বাড়ি ফেরার আগে ঢুঁ মারেন হনুমানকে দেখতে। কল্যাণময় ঘোষ নামে এক কর্মীর কথায়, ‘‘এত শান্ত হনুমান আমি আগে দেখিনি। কাউকে কোনও রকম আঘাত করেনি।’’
মেদিনীপুরে কালেক্টরেটের পুরনো ভবনের একদিকে এখন মিউজিয়াম রয়েছে। তার পাশেই  পরপর রয়েছে যেমন বিসিডব্লু, এসটিএসসি কর্পোরেশনের মত সরকারি অফিস। মাস কয়েক আগেও এখানে ডিএম, এডিএমের দফতর ছিল এই ভবনে। নতুন ভবন তৈরি হতে সেখানে ডিএম, এডিএমের দফতর স্থানান্তর হয়েছে। প্রথমে মিউজিয়ামের কাছে এসে হনুমানটি সটান ঢুকে পড়েছিল এসটিএসসি কর্পোরেশনের দফতরে।  
ঘড়ির দিকে একবার চোখ বুলিয়ে দফতর ছাড়ে হনুমানটি। ঘড়িতে তখন পাঁচটা বাজতে কয়েক মিনিট বাকি। কর্মীরা বলছেন, পেশাদার বটে বড়বাবু।