নজরদারি বাড়াতে খাদ্য দফতরের টোল ফ্রি নম্বর

অনুষ্ঠানে খাদ্যমন্ত্রী। নিজস্ব চিত্র

রাজ্য খাদ্য দফতরের পক্ষ থেকে বিভিন্ন বিষয়ে নজরদারির জন্য যে দল রয়েছে তাতে লোক কম থাকার জন্য নজরদারিতে ফাঁকফোকর থেকে যাচ্ছিল। এ বার সেই ভিজিল্যান্স টিমের সংখ্যা একশো করা হচ্ছে। ফলে আগের চেয়ে আরও কড়া নজরদারি চালানো যাবে। মঙ্গলবার কাঁথিতে এসে এই কথা জানান রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক।

রাজ্যের ‘খাদ্যসাথী’ প্রকল্পকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে এ দিন কাঁথি মহকুমার কচুড়িতে কাঁথি, এগরা ও হলদিয়া খাদ্য নিয়ামকের নবনির্মিত কার্যালয় (খাদ্য ভবন) উদ্বোধন করেন খাদ্যমন্ত্রী। সেখানে তিনি জানান, পূর্ব মেদিনীপুরের বাজকুল ও পাঁশকুড়ায় আরও বড় আকারের গুদাম তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে খাদ্য দফতরের। কালোবাজারি ও বেনিয়ম রুখতে খাদ্য দফতর কতটা মরিয়া, তা বোঝাতে এদিন খাদ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘এ বার থেকে প্রতিটি জেলায় খাদ্য দফতরের পক্ষ থেকে টোল ফ্রি নম্বর চালু করা হবে।’’ তিনি জানান, রেশন ডিলারদের বিরুদ্ধে গ্রাহকদের অভিযোগ মাঝেমধ্যেই উঠছে। সে ক্ষেত্রে কোনও বেনিয়ম দেখলে এই নম্বরে ফোন করে অভিযোগ জানানো যাবে। পাশাপাশি, ধান বিক্রি করতে না পারা বা ধান বিক্রির পর সঠিক দাম না পাওয়ার অভিযোগও উঠছে। সে ক্ষেত্রেও এই টোল ফ্রি নম্বরে ফোন করে অভিযোগ জানানো যাবে। খাদ্যমন্ত্রী জানান, এই কাজের জন্য প্রায় দশ হাজার স্বনির্ভর গোষ্ঠীকে নিয়োগ করা হবে।  

অনুষ্ঠানে উপস্থিত রাজ্যের পরিবহণ ও পরিবেশ দফতরের মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “আগে দক্ষিণ ভারত থেকে ধান কেনার জন্য ফড়েরা এই রাজ্যে আসতো। তাদের কাছে ধান বিক্রি করে কৃষকেরা তেমন দাম পেতেন না। এখন রাজ্য খাদ্য দফতর জেলায় শিবির করে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ধান কেনে এবং কৃষকদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি টাকা পাঠিয়ে দেয়। তাঁর দাবি, ‘‘এমন পদ্ধতি অন্য রাজ্যে নেই। অন্য রাজ্যের কাছে এটা ‘মডেল’ হতে পারে।’’ এদিন অনুষ্ঠানে ছিলেন জেলার দুই  সাংসদ শিশির অধিকারী ও দিব্যেন্দু অধিকারী, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ও স্থানীয় বিধায়ক চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য,  বিধায়ক বনশ্রী মাইতি,  রণজিৎ মণ্ডল, সমরেশ দাস, কাঁথি, এগরা ও হলদিয়া পুরসভার তিন পুরপ্রধান।