ট্রাক উঠলেই টলমল সেতু

এই সেতু ঘিরেই বাড়ছে উদ্বেগ। নিজস্ব চিত্র

সেতু আতঙ্ক যেন কাটতেই চাইছে না! কলকাতার মাঝেরহাট সেতু ভেঙে পড়ার সাত দিনের মাথায় উত্তরবঙ্গের ফাঁসিদেওয়ায় একটি সেতু ভেঙে পড়ে। তার পরেই বড়ঞা থানা এলাকার করালিতলা মোড়ের কাছে কানাময়ূরাক্ষী নদীর উপর সেতু নিয়ে নতুন করে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে এলাকাবাসীর মধ্যে।

ওই সেতুকে ঘিরে অতীতের একটা ঘটনা বড়ঞাবাসীর মনে এখনও টাটকা রয়েছে। তিন বছর বছর আগে ওই সেতুর উপর দিয়ে যাওয়ার সময়ে রেলিং ভেঙে দুধের গাড়ি ময়ূরাক্ষীর জলে পড়ে যায়। ওই ঘটনায় জলে ডুবে মৃত্যু হয় গাড়ির চালকের। ফলে সেতু ভেঙে পড়ার ঘটনায় ফের আতঙ্কিত এলাকার মানুষ। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সেতুটি এতটাই সংকীর্ণ যে তার উপর একদিক থেকে একটি গাড়ি গেলে, অন্য প্রান্তের গাড়ি যাতায়াত করতে পারে না। তখন এক প্রান্তের গাড়িকে অপেক্ষা করতে হয়, যতক্ষণ না অন্য দিকের গাড়ি সেতু পার হয়ে যাচ্ছে। ফলে দিনের অধিকাংশ সময়ে সেতুর এক প্রান্তে লম্বা গাড়ির সারি দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। কিন্তু সেতুর কোনও প্রান্তে ট্র্যাফিক পুলিশ মোতায়েন না থাকায় অনেক সময়ে দু’দিক থেকেই সেতুর উপরে গাড়ি উঠে গিয়ে যানজট পাকিয়ে যায়।

এমনিতেই সংকীর্ণ তার উপর সেতুর রেলিং হিসাবে দেওয়া আছে লোহার রেলিং। সংস্কারের অভাবে মাঝে-মধ্যেই তা ভেঙে গিয়ে রেলিংহীন অবস্থায় পড়ে থাকে সেতু। এতে কিছুটা হলেও নিরাপত্তার অভাব ঘটে। এমনই রেলিংহীন অবস্থায় থাকা সেতু থেকে বছর তিনেক আগে রাতের অন্ধকারে দুধের গাড়ি পড়ে জলে তলিয়ে যায়। মারা যান গাড়ির চালক। গ্রামবাসীরা জানান, সেতুর উপর যানবাহন বিকল হয়ে গেলে ওই রাস্তায় ব্যাপক যানজট সৃষ্টি হয়। কিন্তু সেতু চওড়া করার ব্যাপারে কোনও পদক্ষেপ পূর্ত দফতর উদ্য়োগ নেয়নি বলে অভিযোগ। অথচ ওই সেতু দিয়েই ময়ূরাক্ষী নদীর বালি ও বীরভূম থেকে পাথর বোঝাই ভারী লরি প্রতিনিয়ত ওই সেতুর উপর দিয়ে যাতায়াত করে। এছাড়াও কলকাতা, বর্ধমান, মেদিনীপুর, বোলপুর, দুর্গাপুরের বিভিন্ন দূরপাল্লা রুটের সরকারি ও বেসকারি বাস চলাচল করে ওই সেতু দিয়ে। ফলে সেতুটি চওড়া হলে নিরাপত্তার দিক থেকে রেহাই পেতেন বাসযাত্রী থেকে স্থানীয় বাসিন্দারা। বড়ঞার বিধায়ক কংগ্রেসের প্রতিমা রজক বলছেন, “ওই সেতুটি চওড়া করার জন্য আমি বহুবার পূর্ত দফতরের কাছে দাবি জানিয়েছি। সেতুটি চওড়া করার জন্য পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয় এবং দ্রুত কাজ শুরু করার কথাও দফতরের কর্তারা জানান। কিন্তু কোনও উদ্যোগ এখন পর্যন্ত চোখে পড়েনি।”

পূর্ত দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, হলদিয়া-ফরাক্কা বাদশাহি সড়কটি ভারতমালা প্রকল্পের আওতা ভুক্ত হয়েছে। বর্ধমানের ২ নম্বর জাতীয় সড়ক থেকে বাহশাহি সড়ক হয়ে ওই ভারতমালার রাস্তাটি মোড়গ্রামে ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়কে গিয়ে মিশবে। ৬ লেনের রাস্তা তৈরি হবে। রাস্তা তৈরি জন্য জমিও অধিগ্রহণ করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। পূর্ত দফতরের বহরমপুর ২ নম্বর বিভাগের বিভাগীয় আধিকারিক দীপনারায়ন শীল বলেন, “ওই রাস্তাটি যেহেতু ভারতমালা প্রকল্পের আওতায় চলে গিয়েছে তাই সেতুটি সংস্কার বা চওড়া করার ইচ্ছা থাকলেও আমরা সেটা করতে পারছি না। তবে সেতুটি চওড়া হওয়ার প্রয়োজনীয়তা আছে।” হলদিয়া-ফরাক্কা বাদশাহি সড়কের উপর বড়ঞা থানা এলাকার করালিতলা মোড় সংলগ্ন কানাময়ূরাক্ষী নদীর উপর সেতুটি সংস্কারের অবাবে জীর্ণ হয়ে পড়েছে। গ্রামবাসীদের দাবি, এখন ভারি যানবাহন করলে সেতু যে ভাবে কাঁপে, য়ে কোনও সময়ে দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। কিন্তু সেতু সংস্কারের কোনও উদ্যোগ পূর্ত দফথর নেয়নি বলেও অভিযোগ। যদিও পূর্তদফতরের বহরমপুর ২নম্বর বিভাগের বিভাগীয় আধিকারিক দীপনারায়ন শীল বলেন, “সেতুটি সংকীর্ণ হলেও দূর্বল নয়। ওই সড়কে ভারী যানবাহনের পরিমান বেশি তাই বাসিন্দারা সেতুটি নিয়ে আতঙ্কিত।”