বল ভেবে বোমা, চাকদহে জখম মা-ছেলে

প্রতীকী ছবি।

গাছের তলায় পড়েছিল বলের মতো দেখতে গোল জিনিসটা। তা হাতে পেয়ে ভারী খুশি হয়েছিল বছর সাতেকের ছোট্ট সুদীপ।

বল হাতে আনন্দে লাফাতে-লাফাতে সে বাড়িতে গিয়ে হাজির। এখনই বাবা-মাকে দেখাতে হবে! আর তাতেই ঘটে গেল বিপত্তি। ছোট্ট সুদীপ বলটা ছুড়ে দিতেই দুম করে ফেটে গেল সেটা।

সেটা তো আসলে বল নয়, বোমা! সুদীপের বাবার কিছু না হলেও সে নিজে আর তার মা অঞ্জলি বিশ্বাস ভাল রকম চোট পেয়েছেন। দু’জনেই আপাতত কল্যাণী জওহরলাল নেহরু মেমোরিয়াল মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি। তবে দু’জনেরই অবস্থা স্থিতিশীল। 

চাকদহে দেউলি গ্রাম পঞ্চায়েতের কদম্বগাছি এলাকায় বাড়ি সুদীপদের। স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ে সে। পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, বুধবার সন্ধ্যায় বাড়ির কাছেই খেলা করছিল সুদীপ। খেলতে-খেলতেই কাছে একটি গাছের নীচে গোল জিনিসটা দেখতে পায় সে। বল ভেবে সেটা সে তুলে  নিয়ে  বাড়ির দিকে হাঁটা দেয়।

হাসপাতালে শুয়ে অঞ্জলি বলেন, “ছেলে এসে বলে, ‘এই দেখো, আমি একটা বল পেয়েছি।’ আমি কিছুই বুঝিনি। কিন্তু ওর বাবা বুঝতে পারে যে ওটা আসলে বল নয়, অন্য কিছু।’’

সুদীপের বাবা পাগল বিশ্বাস ছেলের হাতে সুতলি পাকানো বলটা দেখেই বুঝে গিয়েছিলেন, সেটা কী। আঁতকে উঠে তিনি ছেলেকে বলেন, শিগগির সেটা বাইরে ফেলে দিতে। শুনেই ভয় পেয়ে সুদীপ সেটা বারান্দার দিকে ছুড়ে দেয়। আর বিকট শব্দে বোমা ফাটে। বোমার শব্দ শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে আসেন। এসে দেখেন, পাগল রক্ষা পেলেও তাঁর স্ত্রী আর ছেলে যন্ত্রণায় ছটফট করছেন। পড়শিরাই তাঁদের প্রথমে চাকদহ স্টেট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পরে দু’জনকেই কল্যাণীর হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, সুদীপের হাতে-পায়ে চোট লেগেছে। বেশ কিছু সেলাই পড়েছে। তার মা অঞ্জলির চোট আরও গুরুতর। তাঁর মাথায় বোমার টুকরো এসে লেগেছে। তবে সিটি স্ক্যান রিপোর্টে যা পাওয়া গিয়েছে, তাতে তাঁর জীবন সংশয় হওয়ার কথা নয়।

বল ভেবে ছোটদের বোমা কুড়িয়ে নেওয়া আর পরে তা ফেটে মৃত্যু বা আহত হওয়া রাজ্যে নতুন কিছু নয়। মাঝে-মধ্যেই এই ঘটনা ঘটে। বড়দের অপরাধের মাশুল দেয় ছোটরা। কিছু দিন আগেই পঞ্চায়েত ভোট গিয়েছে। তার জন্য নানা জায়গায় বোমা মজুত করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। তারই একটি সুদীপ কুড়িয়ে পেয়েছিল নাকি পঞ্চায়েত ভোটের সঙ্গে ওই বোমার কোনও সম্পর্ক নেই, পুলিশ খতিয়ে দেখছে। কে বা কারা বোমাটি ওখানে ফেলে গিয়েছিল, তা-ও খুঁজে বার করার চেষ্টা চলছে বলে পুলিশ সূত্রের খবর। যদিও এ ধরনের ঘটনায় কাউকে গ্রেফতারের নজির নেই।