জ্বর পুরো না সারলে ছুটি দিতে নারাজ ডাক্তাররা

জ্বরে আক্রান্ত। নিজস্ব চিত্র

ইটাহারের উজানতোড় গ্রামের জ্বরে আক্রান্ত বাসিন্দারা এখনও রায়গঞ্জ সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। জ্বর কমেছে বলে অনেকে ছুটি নিতে চাইলেও নতুন করে রক্ত পরীক্ষার রিপোর্ট না-আসা পর্যন্ত কাউকেই ছুটি দিতে চাইছেন না চিকিৎসকেরা। 

শনিবার রাতে ওই গ্রামের ১৫ জনকে ডেঙ্গি সন্দেহে ওই হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। স্বাস্থ্য দফতর এলাকায় ডেঙ্গি প্রতিরোধে সমীক্ষা চালানোর সময় গ্রামের অনেকেই জ্বরে আক্রান্ত বলে জানতে পারে। তাঁদের রক্তের এলাইজা এনএসওয়ান পরীক্ষার রিপোর্ট ‘পজিটিভ’ আসায় তাঁদের হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। রবিবার রাতে এবং সোমবার সকালে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয় এলাকার আরও ছ’জনকে। এ ছাড়া একটি শিশুকেও ভর্তি করানো হয়েছে। হাসপাতাল সূত্রের খবর, রক্ত পরীক্ষার রিপোর্ট খতিয়ে দেখে নিশ্চিত হয়ে দু’একদিনের মধ্যে রোগীদের ছাড়া হবে। জেলা স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, মেডিক্যাল টিম ওই গ্রামে শিবির করছেন প্রতিদিন। তারা জ্বরে আক্রান্তদের প্রয়োজন মতো হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠাচ্ছেন। 

জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক প্রকাশ মৃধা বলেন, ‘‘জ্বরে আক্রান্তদের চিকিৎসার সমস্ত ব্যবস্থা করা হয়েছে। এলাকায় চিকিৎসকদের টিম রয়েছে। মশার লার্ভা মারতে এলাকায় স্প্রে এবং ফগিংয়ের উপরেও জোর দেওয়া হয়েছে।’’ রবিবার সকাল থেকে টানা বৃষ্টি হওয়ায় কোথাও জমা জলে মশার লার্ভা হয়ে থাকলে আপাতত সেগুলো ধুয়ে যাবে বলেই স্বাস্থ্য দফতর আশাবাদী। চিকিৎসকদের একাংশ জানিয়েছেন, অল্প বৃষ্টির পর আবার রোদ, গরম হলে ওই পরিবেশ বৃষ্টিতে জমে থাকা মশার বংশবিস্তারের পক্ষে সহায়ক হবে। তাই স্প্রে ও ধোঁয়া নিয়মিত ছডানো প্রয়োজন। 

বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, পাট পচানোর জন্য অনেক জায়গায় জল জমিযে রাখা হচ্ছিল। তাতেই মশা জন্মাচ্ছে। গ্রামের প্রতিটি বাড়িতেই জ্বরে আক্রান্ত হয়ে পড়েছেন অনেকে। অনেক পরিবারে একাধিক ব্যক্তি জ্বরে ভুগছেন। তাদের একাংশের ডেঙ্গি বলেই সন্দেহ করা হচ্ছে। উজানতোড়ের বাসিন্দা লিপিকা মার্ডি বলেন, ‘‘বাড়িতে অনেকেই জ্বরে আক্রান্ত। পিসি এবং ঠাকুমাকে রবিবার রাতে এবং সোমবার সকালে রায়গঞ্জ সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। চিকিৎসক বলছেন ডেঙ্গি হয়েছে।’’