সংরক্ষণের খসড়ায় সরব সিপিএম-ও

ওয়ার্ডভিত্তিক সংরক্ষণের খসড়া নিয়ে অসন্তোষ তৃণমূলে।

ওয়ার্ডভিত্তিক সংরক্ষণের যে খসড়া তালিকা প্রকাশিত হয়েছে দুবরাজপুরে, তাতে শাসকদলের অন্দরেই ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়েছিল। সংরক্ষণের কোপে পড়া তৃণমূলের বর্তমান ও প্রাক্তন কাউন্সিলরদের একাংশের অভিযোগ ছিল, খসড়া তালিকা নিয়ম মেনে হয়নি। এ বার ওই তালিকা নিয়ে একই আপত্তি তুলল বিরোধী দল সিপিএম। খসড়া তালিকায় বিচ্যুতির অভিযোগ তুলে মঙ্গলবার জেলা পুরনির্বাচন আধিকারিকের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন সিপিএমের জেলা সম্পাদক মনসা হাঁসদা। একই সঙ্গে জেলাশাসকের কাছে আবেদন জানিয়েছেন দুবরাজপুর পুরসভার বর্তমান ও প্রাক্তন তিন সিপিএম কাউন্সিলরও।

সব ঠিকঠাক থাকলে, এ বছরের শেষের দিকে পুরভোট বীরভূমের এই পুরশহরে। ২৫ সেপ্টেম্বর  চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশিত হওয়ার কথা। তার আগে গত ২৮ অগস্ট যে খসড়া সংরক্ষণ তালিকা প্রকাশিত হয়েছে, সেটা অনুয়ায়ী, প্রায় ৪০ হাজার জনসংখ্যার ১৬টি ওয়ার্ড বিশিষ্ট দুবরাজপুর পুরসভার ২, ৪, ৬, ৭, ১০, ১২, ১৪ এবং ১৫— এই মোট ৯টি ওয়ার্ড সংরক্ষিত। এগুলির মধ্যে দু’টি তফসিলি সংরক্ষিত আসন ধরে মোট মহিলা সংরক্ষিত ওয়ার্ডের সংখ্যা ৬টি।

কিন্তু খসড়া তালিকা প্রকাশ্যে আসতে শাসকদলের অন্দরেই ক্ষোভ ছড়িয়েছিল বিস্তর। ক্ষোভের কারণ হিসাবে বেশ কিছু বিষয় উল্লেখ করেছিলেন ক্ষুব্ধ তৃণমূল নেতারা। যেমন ২০১৩ সালের পুরভোটে ১২ নম্বর ওয়ার্ড তফসিলি সংরক্ষিত ছিল। এ বারও সেটি সংরক্ষিত। তাঁদের আরও অভিযোগ, অন্য অনেক ওয়ার্ডে তফসিলি জাতি ও জনজাতির মানুষের সংখ্যা ৬ নম্বর ওয়ার্ডের চেয়ে বেশি হলেও ৬ নম্বরকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে সংরক্ষণে ফেলা হয়েছে। এমনকি তাঁরা প্রশাসনের দ্বারস্থও হতে পারেন বলেও জানিয়েছিলেন। তবে, ঘটনা হল, ক্ষোভ থাকলেও এখনও অবধি প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ করতে যাননি শাসকদলের কেউই।

সিপিএম অবশ্য এ দিন সংরক্ষণের খসড়া তালিকা নিয়ে জেলাশাসক তথা জেলা নির্বাচনী আধিকারিকের কাছে বেশ কিছু আপত্তির কথা লিখিত ভাবেই জানিয়েছে। মনসাবাবুর বক্তব্য, যে খসড়া তালিকা প্রকাশিত হয়েছে, তা পুরনির্বাচনের রূপরেখার (ইলেকশন ম্যানুয়াল) বিরোধী। সিপিএমের অভিযোগ, ২০১১-র আদমসুমারির পরে ’১৩ সালে দুবরাজপুর পুরনির্বাচনের আগে যে তালিকা প্রকাশিত হয়েছিল, সেই তালিকার জনসংখ্যার বিন্যাস ‘আড়াল’ করেই এ বারের খসড়া সংরক্ষণ তালিকা প্রকাশিত হয়েছে। কারণ, মাঝের পাঁচ বছরে ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস না হওয়া সত্ত্বেও দুবরাজপুরের বিভিন্ন ওয়ার্ডে রাতারাতি তফসিলি জাতি জনজাতি মানুষের সংখ্যা ‘অস্বাভাবিক’ বদলে গিয়েছে। মনসাবাবুর অভিযোগ, ‘‘গণতন্দ্রের ন্যূনতম বালাই নেই। শাসকদলকে সুবিধা দিতে বদলে যাচ্ছে সংরক্ষণ তালিকাও।’’

সিপিএম নেতৃত্বের দাবি, গত বার পুরভোটে দুবরাজপুরের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে তফসিলি জাতি জনজাতি মানুষের সংখ্যা  ছিল ১২৩০, যা ওই ওয়ার্ডের মোট জনসংখ্যার নিরিখে ৫৭.৭৫ শতাংশ। সেটাই এ বার দেখানো হয়েছে ২৯০ জন, যা জনসংখ্যার মাত্র ১২.৫৪ শতাংশ। একই ভাবে ১৬ নম্বর ওয়ার্ডে ৬৯.৬৭ শতাংশ তফসিলি জাতি জনজাতি মানুষের হার এ বার কমে হয়েছে মাত্র ৪.৯৫ শতাংশ। এমন অন্তত আরও ৫টি ওয়ার্ডের ক্ষেত্রে হয়েছে বলে তাঁদের দাবি। দুবরাজপুর পুরসভার প্রাক্তন কাউন্সিলর তথা সিপিএমের জেলা কমিটির সদস্য শীতল বাউড়ির কথায়, ‘‘কোনও পুনর্বিন্যাস ছাড়াই কোন জাদুবলে এতটা বদল হল, সেটাই দেখার। এটা শাসকদলের কলকাঠি ছাড়া কী! সঠিক তথ্য অনুযায়ী সংরক্ষণ তালিকা প্রকাশ হলে আদৌ এমন হওয়ার কথা নয়।’’

অভিযোগ প্রসঙ্গে দুবরাজপুরের পুরপ্রধান পীযূষ পাণ্ডে বলেন, ‘‘কী হয়েছে, কেন হয়েছে, সেটা আমার বলার কথা নয়। প্রশাসনের ব্যাপার। ২০১১ সালের আদমসুমারির তথ্যও আমার কাছে নেই।’’ জেলাশাসক মৌমিতা গোদারা বসু একটি বৈঠকে ব্যস্ত থাকায় প্রতিক্রিয়া দেননি। জেলার ওসি (ইলেকশন) বুদ্ধদেব পান বলেন, ‘‘অভিযোগ এসেছে শুনেছি। দেখে প্রতিক্রিয়া দেব।’’