কন্যাসন্তান বাঁচাতে লিপিকায় আলোচনা


বিশ্বভারতীর শারীরশিক্ষা, ক্রীড়া এবং জাতীয় পরিষেবা অধিদফতর (পিএসএনএস অফিস), ছাত্রসঞ্চালক দফতর এবং বীরভূম জেলা স্বাস্থ্য দফতর (সিএমওএইচ অফিস)-এর যৌথ উদ্যোগে ‘সেভ দি গার্ল চাইল্ড’ শীর্ষক একটি সচেতনতামূলক সভা হল শুক্রবার। শান্তিনিকেতনের লিপিকা প্রেক্ষাগৃহে এই সভায় অংশগ্রহণ করেন বিশ্বভারতীর বিভিন্ন বিভাগের প্রায় ৩১০ জন পড়ুয়া। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ছিলেন বিশ্বভারতীর ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য সবুজকলি সেন,  ডিরেক্টর পিএসএনএস নারায়ণচন্দ্র মণ্ডল, ছাত্রসঞ্চালক শঙ্কর মজুমদার। বীরভূম জেলা স্বাস্থ্য দফতরের পক্ষ থেকে ডেপুটি সিএমওএইচ শকুন্তলা সরকার, অ্যাকাউন্ট অফিসার জ্যোতির্ময় বন্দ্যোপাধ্যায়, ডিস্ট্রিক্ট ম্যানেজার বিশ্বনাথ মিত্র এবং গোপা নন্দীও উপস্থিত ছিলেন।

শুধু বীরভূম বা পশ্চিমবঙ্গ বলে নয়, সারা দেশের বিভিন্ন অংশ থেকে প্রায় প্রতি দিনই সমাজে মেয়েদের মূল্য নিয়ে প্রশ্ন ওঠার খবর মেলে। কখনও মা নিজেই কন্যাসন্তানকে ঝোপে ফেলে রেখে যান। কখনও বার বার কন্যাসন্তান হওয়ায় মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া হয় প্রসূতি এবং সদ্যোজাতকে। এ ছাড়াও শিশু পাচার, নাবালিকা বিবাহেরও উদাহরণ রয়েছে। সমাধানসূত্র খুঁজতে ‘ন্যাশনাল হেলথ মিশন’ জনসচেতনতার কাজ শুরু করেছে। তারই অঙ্গ হিসেবে পশ্চিমবঙ্গ শিশু অধিকার সুরক্ষা আয়োগ, নারী ও শিশুকল্যাণ এবং সমাজকল্যাণ বিভাগের উদ্যোগে বিভিন্ন সংস্থা প্রচারের কাজ শুরু করেছে। সে রকমই জনসচেতনতামূলক একটি সভা এ দিন বিশ্বভারতীতে হল। 

এ বিষয়ে ডেপুটি প্রোক্টর শিল্পী ঘোষ, সুদেবপ্রতীম বসু, লরিশা লিন্ডন এবং ডেপুটি ডিন প্রসেনজিৎ সাহা জানান— এ দিনের শিবিরে বিভিন্ন ভবনের ছাত্রছাত্রীরা স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে অংশগ্রহণ করেন। পড়ুয়ারা অনেক কিছু বিষয় জানতে পারেন, যা ভবিষ্যতে তাঁদের কাজে লাগবে। শিবির প্রসঙ্গে জীবনব্যাপী শিক্ষা ও সম্প্রসারণ বিভাগের দীপান্বিতা মাইতি, বুদ্ধদেব বিশ্বাস, অর্পিতা ঘোষ এবং শ্রীপর্ণা মুখোপাধ্যায় বলেন— ‘‘এই রকম আলোচনা শিবিরের মধ্যে দিয়ে সাধারণ মানুষকে খুব দ্রুত সচেতন করা যাবে। এই সচেতনতা ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করব।’’ 

অন্য দিকে, মহকুমা (তালুক) আইনি পরিষেবা কমিটির সহযোগিতায় বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন ও পকসো আইন নিয়ে শুক্রবার একটি জনসচেতনতা শিবির হয় বাহিরী ব্রজসুন্দরী উচ্চ বিদ্যালয়ে। উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা জজ দেবব্রত মুখোপাধ্যায়, জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মণিকুন্তলা রায়, চিকিৎসক মোহিত সাহা, মহিলা থানার পুলিশ আধিকারিক থেকে শুরু করে আইনজীবী, বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা, অভিভাবক-অভিভাবিকা ও ছাত্রছাত্রীরা। আইনজীবী মানবেন্দ্র ভৌমিক জানান, বোলপুরের মহকুমাশাসক অভ্র অধিকারী তাঁদের এই উদ্যোগে বিশেষ ভাবে সহায়তা করছেন। শহরের স্কুলগুলির পাশাপাশি গ্রামের স্কুলেও বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন ও পকসো আইন বিষয়ে সকলকে সচেতন করা হচ্ছে। আগামী দিনে তাঁরা অন্যান্য স্কুলেও এই একই কর্মসূচি রাখবেন বলে জানান।