লোবায় বার্তা তৃণমূলের

শ্রোতা: তৃণমূলের সভায়। শুক্রবার লোবায়। নিজস্ব চিত্র

কৃষিজমি রক্ষা কমিটির পরে লোবা নিয়ে প্রশাসনের বার্তা এলাকার মানুষের কাছে পৌঁছতে মাঠে নামল তৃণমূল। তৃণমূলের দুবরাজপুর ব্লক সভাপতি ভোলানাথ মিত্রের (লোবা নিয়ে তৈরি জেলা প্রশাসনিক কমিটির সদস্য) নেতৃত্বে শুক্রবার লোবা কালীমন্দিরের সামনে একটি জনসভা করা হয়। তাতে বার্তা দেওয়া হয়— ‘বিভ্রান্ত হবেন না, প্রশাসনের কথা মেনে চলুন। লোবায় কৃষিজীবী মানুষের সঙ্গে আলোচনা না করে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না।’

লোবায় এ দিন থেকেই জমির ‘স্ট্যাটাস রিপোর্ট’ জনসমক্ষে টাঙানো শুরু হল। লোবা ও বরারি মৌজার ৩০০টি করে প্লটের ‘স্ট্যাটাস রিপোর্ট’ টাঙানো হয়েছে। প্রশাসনের বক্তব্য, জমির প্রকৃত মালিকের নাম রিপোর্টে থাকলে সমস্যা নেই। কিন্তু মালিকানা পরিবর্তিত হয়ে, পাট্টা বা বর্গা পেয়ে অন্য কেউ উল্লেখিত জমির প্রকৃত মালিক হলে, মালিকানা পরিবর্তনের জন্য ভূমি ও ভূমি সংস্কার দফতরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। তাঁদের সাহায্যের জন্য থাকবেন খনি গড়ার দায়িত্বপ্রাপ্ত ‘দামোদর ভ্যালি কর্পোরেশনের’ আধিকারিকেরাও।

গত বছর মাটির নীচে কয়লা তোলার বরাত পায় দামোদর ভ্যালি কর্পোরেশন। পরের বছর মার্চের মধ্যেই কাজ শুরু করার কথা । সে জন্য গঠিত হয় কমিটিও। লোবায়  কয়লাখনি গড়ার জন্য এলাকার  প্রস্তাবিত ১২টি মৌজায় জমিগুলি বর্তমানে কার নামে রেকর্ড হয়ে রয়েছে, তা নিয়ে আগে একটি ‘স্ট্যাটাস রিপোর্ট’ তৈরি করেছে জেলা ভূমি ও ভূমি সংস্কার দফতর। ৩১ অগস্ট লোবায় শিল্পের জন্য   গঠিত কমিটি সিদ্ধান্ত নেয়, প্রকৃত মালিক খুঁজতে জনসমক্ষে সেই রিপোর্ট পঞ্চায়েত ও বিভিন্ন এলাকায় টাঙিয়ে দেওয়া হবে। এ দিন সে কাজই শুরু হয়েছে।

অতিরিক্ত জেলাশাসক (ভূমি ও ভূমি সংস্কার) পূর্ণেন্দু মাজি জানান, ধাপে ধাপে সমস্ত মৌজায় ‘স্ট্যাটাস রিপোর্ট’ টাঙানো হবে। সমস্যা থাকলে মেটানো হবে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই জমির কাজ শেষ করতে চায় প্রশাসন।

লোবা নিয়ে সিউড়িতে বৈঠকের পরে ২ সেপ্টেম্বর লোবায় প্রস্তাবিত এলাকা পরিদর্শন করেন জেলাশাসক মৌমিতা গোদারা বসু ও অতিরিক্ত জেলাশাসক (ভূমি ও ভূমি সংস্কার) পূর্ণেন্দু মাজি। তার পরই প্রশাসনের বার্তা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছতে বৈঠক করেছিল কৃষিজমি রক্ষা কমিটি। এ দিন একই কাজ করল তৃণমূলও।