— ফাইল চিত্র।
প্রতি মাসে তাঁর স্কুলের বিদ্যুতের বিল আসে দশ থেকে বারো হাজার টাকা। সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনের সময়ে তাঁর স্কুলে ছিল কেন্দ্রীয় বাহিনী। এপ্রিল মাসের বিদ্যুতের বিল মে মাসে হাতে পেয়েছেন তিনি। সেই বিল দেখে কার্যত চোখ কপালে ওঠার অবস্থা! কারণ বিদ্যুতের বিল এসেছে ৩৬ হাজারের বেশি। যেহেতু স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন কেন্দ্রীয় বাহিনীকে তাঁর স্কুলে থাকার নির্দেশ দিয়েছে, তাই স্কুলের প্রধানশিক্ষক গিয়েছিলেন থানায়। সেখান থেকে খালি হাতেই ফিরতে হয়েছে বলে দাবি ওই প্রধানশিক্ষকের। কারণ এই অর্থ কোনও ভাবেই পুলিশ মেটাবে না। আতান্তরে পড়েছেন তিনি।
নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক দমদম এলাকার ওই স্কুলের প্রধানশিক্ষক অভিযোগ করেন যে বিদ্যুতের বিল মেটানোর দায় তো আর স্কুলের নয়। তাহলে এই টাকা দেবে কে? এই অবস্থায় এই পরিমাণ অর্থের সংস্থান কী ভাবে হবে সেটা নিয়েই দুশ্চিন্তায় তিনি।
একই অবস্থা কলকাতার একটি স্কুলের। ওই স্কুলের প্রধানশিক্ষিকা জানান, তাঁর স্কুলেও বিদ্যুতের বিল অনেক বেশি এসেছে। কিন্তু পূর্বতন সরকার সঠিক ভাবে এই অর্থ সংস্থানের নির্দেশ না দেওয়ার ফলে অসুবিধায় পড়া গিয়েছেন বলে অভিযোগ তাঁর। এক শিক্ষক জানান, এই বিষয়ে কোনও স্পষ্ট নির্দেশিকা নেই। কিন্তু যেহেতু স্থানীয় পুলিশ স্কুলে কেন্দ্রীয় বাহিনীর থাকার ব্যবস্থা করেছে, তাই তাদের কাছ থেকেই তো বিদ্যুতের বিলের টাকা পাওয়ার কথা!
তবে এই প্রক্রিয়া নিয়ে কোনও সমস্যা হওয়ার কথা নয় বলেই জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। ওই সময়ে নির্বাচনের দায়িত্বে ছিল কমিশন। ওই বিল কি তাহলে কমিশন মেটাবে? উত্তরে কমিশনের এক কর্তা বলেন, ‘‘ওই অর্থ পেতে কোনও সমস্যা হবে না। কারণ, রাজ্য পুলিশের তরফ থেকে পূর্ত দফতরের মাধ্যমে ওই অর্থ দেওয়া হয়। সঠিক জায়গায় আবেদন করলে কোনও অসুবিধা হবে না।’’