সলমন খান। ছবি: সংগৃহীত।
বাইরে তাঁর ভাবমূর্তি বেশ কড়া। তাঁর মেজাজ বুঝে চলেন আশপাশের মানুষেরা। এ হেন সলমন খানকে দেখা গেল খানিক অন্য রূপে। গালে খোঁচা-খোঁচা দা়ড়ি। পরনে সবুজ রঙের শার্ট ও প্যান্ট। মুম্বইয়ের এক শ্মশান থেকে এমনই বিধ্বস্ত অবস্থায় বেরোতে দেখা গেল সলমনকে। নিমেষের মধ্যেই ছড়িয়ে পড়েছে তাঁর ভিডিয়ো। আবার স্বজনবিয়োগের যন্ত্রণার সঙ্গে লড়াই শুরু সলমনের। কাকে হারালেন তিনি?
জানা যাচ্ছে, খান পরিবারের দীর্ঘদিনের বন্ধু কুমুদ রানে মারা গিয়েছেন। চোখের জল যেন বাধ মানছে না সলমনের। শ্মশান থেকে বেরোনোর সময় অনবরত চোখের জল মুছতে দেখা যায় তাঁকে। সলমন একা নন। তাঁর সঙ্গে দেখা গেল সোহেল খান, সলমা খান-সহ অনেককেই। মঙ্গলবারই সলমনের বন্ধু কুমুদের শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে বলে খবর। সেখানকারই ভিডিয়ো ছড়িয়েছে।
গত মাসেই এই বন্ধুকে হিন্দুজা হাসপাতালে দেখতে গিয়ে মেজাজ হারিয়েছিলেন সলমন। হাসপাতালের বাইরে ছবিশিকারিদের দেখে রীতিমতো হুঙ্কার দিয়ে সলমন বলেছিলেন, ‘‘আমার নাম ভাঙিয়ে টাকা রোজগার করা যাবে না!’’ বন্ধুকে দেখতে গিয়ে সেই ছবি ওঠায় আপত্তি জানান অভিনেতা।
উল্লেখ্য, গত কয়েক বছর ধরেই সময় ভাল যাচ্ছে না ভাইজানের। কখনও খুনের হুমকি পাচ্ছেন, কখনও শারীরিক ভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। সব মিলিয়ে সলমনের জীবনে ওঠাপড়া লেগেই রয়েছে। বলিউডে শোনা যায়, সলমন কারও বন্ধু হলে, তাঁর জন্য জীবন পর্যন্ত দিতে পারেন। সলমনের মতো বন্ধু পাওয়া নাকি ভাগ্যের ব্যাপার। তিনি তাঁর বন্ধুদের সবসময় আগলে রাখেন। মাসখানেক আগে সলমন তাঁর দীর্ঘ ৪২ বছরের বন্ধু সুশীল কুমারকে হারান।
সলমন তখন জানিয়েছিলেন, বন্ধুর নামের পাশে প্রয়াত লিখবেন না কখনও। পাশাপাশি আবেগতাড়িত সলমন বলেছিলেন, ‘‘৪২ বছর ধরে এই মানুষটার সঙ্গে দাদা-ভাইয়ের সম্পর্ক। আমার দেখা অন্যতম দয়ালু, সংবেদনশীল মানুষ। অর্থনৈতিক কষ্ট বা শারীরিক কষ্ট— কোনও কিছুরই পরোয়া করত না। পাঁচ মিনিট আগেও মৃত্যুর সঙ্গে চ্যাম্পিয়নের মতো লড়াই করেছে। একদিন সকলকেই যেতে হবে। কিন্তু, বর্তমানটাকে বাঁচা উচিত। এ বার নিশ্চিন্তে নিজের সিগারেট ও হুইস্কি খাও।”
এখানেই শেষ নয়। বছরদেড়েক আগে সলমন হারান অত্যন্ত কাছের বন্ধু বাবা সিদ্দীকীকে। প্রিয় বন্ধুর মৃত্যুসংবাদে ভেঙে পড়েছিলেন সলমন। তাঁকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে, খবর পেতেই সেই সময়ে ‘বিগ বস্ ১৮’-এর শুটিং বন্ধ করে দেন তিনি। প্রয়াত বন্ধুকে শেষ বারের মতো দেখে আসার পরে নাকি অনেক রাত ঘুমোতে পারতেন না। এমনকি বাইরে যাতায়াতও কমিয়ে দেন। একে একে যেন সঙ্গীহারা হচ্ছেন সলমন। একের পর এক বন্ধুবিয়োগের কষ্ট বয়ে চলেছেন তিনি।