কাদের ডায়াবিটিস নিউরোপ্যাথির ঝুঁকি বেশি? ছবি: সংগৃহীত।
হাতে বা পায়ে ঝিঁঝি ধরার বিষয়টি নিয়ে সকলেই অবগত। অনেক সময় পা বা হাতের উপর দীর্ঘ ক্ষণ চাপ পড়লে অথবা একই ভঙ্গিতে বসে বা শুয়ে থাকলে সাময়িক যে অসাড় অনুভূতি তৈরি হয়, সেটিকেই সাধারণত ‘ঝিঁঝি ধরা’ বলা হয়ে থাকে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলে ‘টেম্পোরারি প্যারেসথেশিয়া’, কথ্য ইংরেজিতে এটিকে ‘পিনস অ্যান্ড নিডলস’ও বলা হয়ে থাকে।
প্রথম ধাপে কিছুটা অস্বস্তিকর অনুভূতি হয়, এই সময় মনে হয় যেন ত্বকের ভিতর অসংখ্য পিপড়ে হেঁটে বেড়াচ্ছে। এই বিষয়টিকে ‘কমপ্রেশন টিঙ্গলিং’ বলা হয়। দ্বিতীয় ধাপটি সাধারণত শুরু হয় পাঁচ-দশ মিনিট পর। এই ধাপে হাত বা পায়ের সংশ্লিষ্ট অংশটি অসাড় হয়ে আসে। তৃতীয় ও শেষ ধাপটি শুরু হয় চাপ অপসারণ করার পর। এই অংশটিকেই ইংরেজিতে ‘পিনস অ্যান্ড নিডলস’ বলা হয়। এই সময়ে মনে হয় কেউ যেন অসংখ্য সুচ দিয়ে একসঙ্গে ওই অংশে খোঁচা দিচ্ছে। তবে সাধারণত কিছু ক্ষণের মধ্যেই অসাড়তা এবং খোঁচা লাগার মতো অস্বস্তিকর অনুভূতি চলে গিয়ে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসে। এই সমস্যা নিয়ে চিকিৎসকের কাছে গেলে তাঁরা অনেক সময় রোগীকে ডায়াবিটিস পরীক্ষা করাতে বলেন। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, রোগী ডায়াবিটিসে আক্রান্ত।
অনেক সময়ই ডায়াবিটিস ধরা পড়ে দেরিতে। এই রোগের কারণে শরীরের স্নায়ুগুলির সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়। এই সমস্যাকে বলা হয় ডায়াবেটিক নিউরোপ্যাথি। এ ক্ষেত্রে রক্তে শর্করার মাত্রা অতিরিক্ত বেড়ে গিয়ে স্নায়ুর কার্যকারিতা কমিয়ে দেয়। স্নায়ুতন্ত্রে পুষ্টি সরবরাহ করার জন্য যে রক্তবাহগুলি থাকে, ডায়াবিটিসের কারণে সেগুলি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, এতেও নার্ভের ক্ষতি হয়। তা ছাড়া ডায়াবিটিসের কারণে শরীরে ক্রনিক ইনফ্লামেশন হয়, সেই থেকেও নার্ভের ক্ষতি হয়। ডায়াবেটিক নিউরোপ্যাথি সাধারণত তিন প্রকার। সেন্সরি, মোটর আর অটোনোমিক নিউরোপ্যাথি।
কাদের ঝুঁকি বেশি?
১) দীর্ঘ দিন ধরে যাঁরা ডায়াবিটিসে আক্রান্ত
২) যে ডায়াবেটিকরা ধূমপায়ী
৩) যে ডায়াবেটিকরা মদ্যপান করেন
৪) ডায়াবিটিসের সঙ্গে সঙ্গে যাঁদের কোলেস্টেরল, উচ্চ রক্তচাপের মতো সমস্যাও রয়েছে
৫) ডায়াবেটিকদের ওজন বেশি হলে
সাধারণ উপসর্গ:
হাতে-পায়ে ঝিঁঝি ধরা, অসাড়তা, জ্বালা ভাব, জোরে আঘাত লাগলেও ব্যথা অনুভব না হওয়া, ভারসাম্য ধরে রাখতে না পারলে, হাঁটতে চলতে বা কোনও কাজ করতে গেলে সমস্যা হলে— সতর্ক হতে হবে। এই সমস্যা অবহেলা রলে আলসার, সংক্রমণ, এমনকি গ্যাংগ্রিনও হতে পারে।