শরীরে কোন কোন পুষ্টির ঘাটতি? ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।
অর্ধশতের কোঠা পেরোনো মানেই প্রৌঢ়ত্ব প্রাপ্তি। কিন্তু বয়স হওয়া, জীর্ণ হওয়ার নেপথ্যে অনেক কারণের মধ্যে অপুষ্টিও বড় ভূমিকা পালন করে। সে সম্পর্কে আগে থেকেই সচেতন হলে সম্ভবত বয়সের ধাক্কা এতটাও সজোরে লাগবে না। তাই এমন চারটি পুষ্টি উপাদানের প্রতি বিশেষ ভাবে যত্নবান হোন, যাতে ঘাটতির অবকাশই না তৈরি হয়।
১. ভিটামিন ডি
চর্বিতে দ্রবণীয় এমন এক ভিটামিন এটি, যা শরীরকে ক্যালশিয়াম ও ফসফরাস শোষণ করতে সাহায্য করে। ফলে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই ভিটামিনের চাহিদা মেটানো নিয়ে সতর্ক হওয়া দরকার মহিলাদের। ত্বক, অন্ত্র, কিডনি, লিভার ইত্যাদির কার্যক্ষমতা কমতে থাকে ধীরে ধীরে। ফলে ভিটামিন ডি শোষণের ক্ষমতাও কমে যায়। কিন্তু হাড়, অস্থিসন্ধি, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার জন্য এই ভিটামিন ভীষণই গুরুত্বপূর্ণ। বয়স বাড়ার পর রোদে বেরোনোর পরিমাণ কমে যায় বলে সূর্যালোক থেকে ভিটামিন ডি শোষণও যথারীতি কমে যায়। এ সবের কারণেই শরীর ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে যায়, ক্লান্তিতে ধুঁকতে থাকে শরীর। ফলে ভিটামিন ডি-যুক্ত খাবার এবং সকালের দিকে খানিক ক্ষণ রোদে হাঁটাহাঁটি করা দরকার বয়স বাড়লে।
ভিটামিনের সাপ্লিমেন্ট। ছবি: সংগৃহীত
২. ক্যালশিয়াম
রজোনিবৃত্তির পরে ইস্ট্রোজেন হরমোন কমে যায়। কিন্তু ক্যালশিয়ামের শোষণের জন্য এই হরমোনের গুরুত্ব অপরিসীম। ফলে হাড় দ্রুত দুর্বল হতে শুরু করতে পারে বয়স বাড়লে। তা ছা়ড়া বহু মহিলার ডায়েটে পর্যাপ্ত ক্যালশিয়াম থাকে না। এর ফলে অস্টিয়োপোরোসিস বা হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়তে পারে। পুষ্টিবিদদের মতে, দুধ, টক দই, পনির, তিল, শাকসব্জি ক্যালশিয়ামের ভাল উৎস হতে পারে।
৩. ভিটামিন বি ১২
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অনেকের শরীর খাবার থেকে ভিটামিন বি ১২ শোষণ করার ক্ষমতা হারাতে শুরু করে। তার বড় কারণ, বয়স বাড়লে পাকস্থলীর অ্যাসিড কমে যেতে পারে, আর এই অ্যাসিড ভিটামিন বি ১২ শোষণের জন্য জরুরি। এই ভিটামিন স্নায়ু, মস্তিষ্ক এবং রক্ত তৈরির জন্য জরুরি। এর অভাবে ক্লান্তি, দুর্বলতা, হাত-পায়ে ঝিঁঝিঁ ধরা বা স্মৃতিশক্তির সমস্যাও হতে পারে। বিশেষ করে নিরামিষাশীদের মধ্যে এই ঘাটতি বেশি দেখা যেতে পারে বলে জানাচ্ছেন চিকিৎসকেরা।
পুষ্টির অভাবে কী কী হতে পারে? ছবি: সংগৃহীত
৪. আয়রন
অনেকেই ভাবেন, রজোনিবৃত্তির পর আয়রনের ঘাটতি হয় না। কিন্তু ঋতুস্রাব বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরে রক্তাল্পতায় ভোগেন অনেক মহিলা। খাদ্যাভ্যাস, চা-পান, কফি-পান বা শারীরিক জটিলতার প্রভাবে আয়রনের ঘাটতি কমতে থাকে। শরীরে আয়রনের অভাব হলে চেহারা ফ্যাকাসে হয়ে যায়, ক্লান্তি বাড়তে থাকে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যেতে থাকে।
চিকিৎসকদের মতে, শুধু ওষুধ বা সাপ্লিমেন্ট নয়, নিয়মিত স্বাস্থ্যপরীক্ষা এবং সুষম আহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ৫০ বছর বয়সের পরে বছরে অন্তত এক বার রক্তপরীক্ষা করানো উচিত।