গরমে রোজ ডিম খাওয়া কি খুদের জন্য নিরাপদ? ছবি: সংগৃহীত।
এমনিতে খাবার দেখলেই দৌড়ে পালায় খুদে, তবে ডিম দেখলে সে বেজায় খুশি। অনেক শিশুই খাবার নিয়ে নানা বায়না করে। কিন্তু ডিম পেলে থালা একেবারে চেটেপুটে সাফ! তবে যা গরম পড়েছে তাতে খুদেকে রোজ ডিম খাওয়াতে ভয় পাচ্ছেন বাবা-মায়েরা। সত্যিই কি গরমের সময় ডিম খেলে পেট গরমের ঝুঁকি বাড়ে?
ছ’মাসের পর থেকেই শিশুকে গোটা ডিম দেওয়া যায়। ডিমের সাদা অংশে থাকে উচ্চ মানের প্রোটিন যা শিশুর সামগ্রিক বিকাশ আর পেশির গঠনে সাহায্য করে। আর ডিমের হলুদ অংশে প্রোটিনের পাশাপাশি থাকে কোলিন আর স্বাস্থ্যকর ফ্যাট, যা শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশের জন্য ভীষণ জরুরি। এ ছাড়া এতে থাকে ভিটামিন এ, ডি আর আয়রন, যা শিশুর রোগ প্রতিরোধ শক্তি আর রক্ত দু’টোই বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। চিকিৎসক অর্পণ সাহা বলেন, ‘‘সারা দিনে একটা গোটা ডিম শিশুকে নিশ্চিন্তে দেওয়া যেতে পারে। আর ডিম খেলে পেট গরম হয় এই ধারণাটিও একেবারে ভুল। গরমের দিনেও শিশুকে ডিম খাওয়ানো যেতেই পারে।’’
কোন খাবারে কতটা ক্যালোরি রয়েছে আর তা বিপাকে কতটা সময় লাগছে তার উপর ভিত্তি করেই মূলত ঠান্ডা-গরমের ধারণাটি তৈরি। তবে এই ধারণার উপর ভিত্তি করে ডিম খাওয়া বাদ দেওয়া উচিত নয়। বরং একাধিক দিক থেকে ডিম শরীরকে গরমের সঙ্গে লড়াই করতে সহায়তা করে।
১। গরমকালে প্রচুর পরিমাণ খনিজ লবণ শরীর থেকে বেরিয়ে যায়। এই ঘাটতি মেটাতে সহায়তা করতে পারে ডিম।
২। একটি ডিমে ক্যালোরির পরিমাণ ৭৫। ফলে গরমে ক্লান্ত লাগলে তা কমাতে কাজে আসতে পারে ডিম।
৩। ডিমে উচ্চ ঘনত্বের লাইপোপ্রোটিন থাকে। এই লাইপোপ্রোটিন দেহে ভাল কোলেস্টেরলের মাত্রা বৃদ্ধি করতে সহায়তা করে, ফলে ভাল থাকে সংবহনতন্ত্র।
তবে, ডিমের পরিমাণের দিকে নজর দিতেই হবে।। খুব বেশি ডিম খেয়ে নিলে কিন্তু পেটের সমস্যা হতে পারে। তাই শিশুদের ডায়েটে সারা দিনে একটাই ডিম রাখা ভাল।