Heart Attack Risk

হৃদ্‌রোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি ধরা পড়বে অনেক আগেই! এআই নির্ভর এক রক্তপরীক্ষায় বাঁচবে প্রাণ

হৃদ্‌রোগ বলেকয়ে আসে না। আজ বুকে ব্যথা, কাল হার্ট অ্যাটাক হবে কি না, তা আগাম ধরাও মুশকিল। একই রকম ব্রেন স্ট্রোকের ঝুঁকি কতটা, তা বোঝা খুবই কঠিন। সেই সমস্যারই সমাধান করতে পারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা পরিচালিত রক্তের এক বিশেষ পরীক্ষা।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৪ মে ২০২৬ ১৫:১০
Share:

এআই ব্লাড টেস্টে হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি ধরা পড়বে অনেক আগে? গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

আচমকা স্ট্রোক বা হঠাৎ করে হানা দেওয়া হার্ট অ্যাটাক মুহূর্তে প্রাণ কেড়ে নেয় অনেকের। চিকিৎসা শুরুর সময়টুকুও পাওয়া যায় না বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই। আজ বুকে ব্যথা বা দরদর করে ঘাম হচ্ছে মানেই কাল হৃদ্‌রোগ হবে কি না, তা বোঝা খুব মুশকিল। আর ব্রেন স্ট্রোক তো আরও বিপজ্জনক। বেশির ভাগ সময়েই তা অজান্তে হানা দেয়। মস্তিষ্কে রক্ত জমাট বাঁধছে কি না, তা কেবল মাথা ব্যথা বা ক্লান্তি ছাড়া আগে থেকে বুঝতে পারা সম্ভব হয় না। সাধারণ মানুষ লক্ষণ দেখে আগে থেকে রোগ চিনতে পারবেন, তা সম্ভব নয়। সে ক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) পরিচালিত রক্তের এক বিশেষ পরীক্ষা। গবেষকদের দাবি, কারও হৃদ্‌রোগ বা স্ট্রোক হওয়ার আশঙ্কা আছে কি না, তা ১৫ বছর আগেই নির্ধারণ করে বলে দেওয়া সম্ভব রক্তের ওই বিশেষ পরীক্ষায়।

Advertisement

এআই ব্লাড টেস্ট কী ভাবে কাজ করবে?

ইউনিভার্সিটি অব হংকং-এর একদল গবেষক তৈরি করেছেন ‘কার্ডিওমিকস্কোর’ নামে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা পরিচালিত রক্তপরীক্ষার এক বিশেষ পদ্ধতি যা আসন্ন হৃদ্‌রোগের সূক্ষ্মতম সঙ্কেতও ধরে ফেলতে পারবে বহু আগেই। ‘নেচার কমিউনিকেশন’ জার্নালে বিষয়টি নিয়ে প্রতিবেদনও ছাপা হয়েছে।

Advertisement

হার্টের রোগ এখন ঘরে ঘরে। হাঁটতে-চলতে, জিম করতে গিয়ে, নাচতে গিয়ে কখন যে আচমকা হৃৎস্পন্দন থেমে যাচ্ছে, তা আগে থেকে ধরার উপায়ই নেই। দিব্যি সুস্থ মানুষ, কিন্তু হঠাৎ করেই বুকে ব্যথা, দরদর করে ঘাম, তার পরেই জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে পড়ে সব শেষ। সাম্প্রতিক সময়ে এমন ঘটনা অসংখ্য ঘটেছে। হার্টের চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, সময় থাকতে পরীক্ষা করান না বেশির ভাগ মানুষই। তাই হার্ট অ্যাটাক হওয়ার সম্ভাবনা আছে কি না, তা বোঝার সাধ্য কারও নেই। হার্ট অ্যাটাক যে কোনও বয়সে, যে কোনও সময়ে হতে পারে। ইদানীং ‘সাইলেন্ট হার্ট অ্যাটাক’-এর শিকারও হচ্ছেন অনেকে। এ ক্ষেত্রে আগে থেকে উপসর্গ ধরা পড়ে না, আচমকাই ঘটে যায়। রোগীকে বাঁচানোর সময় পাওয়া যায় না। এআই পরিচালিত রক্তের পরীক্ষাটি করিয়ে রাখলে সে আশঙ্কা থাকবে না বলেই দাবি হংকং বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের।

হৃদ্‌রোগ বা স্ট্রোকের আশঙ্কা একদিনে তৈরি হয় না। দীর্ঘ সময় ধরে ধীরে ধীরে তা হতে থাকে। ধমনীতে রক্ত জমাট বাঁধছে কি না বা রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে ‘প্লাক’ জমে ব্লকেজ তৈরি হচ্ছে কি না, তা সাধারণ রক্তের পরীক্ষায় আগে থেকে ধরা সম্ভব নয়। ব্রেন স্ট্রোকের ক্ষেত্রেও ঠিক তাই। শরীরের ভিতরে কী বদল হচ্ছে, রক্ত চলাচলের গতিপ্রকৃতি কতটা বদলাচ্ছে তা একেবারে আণবিক স্তরে গিয়ে বুঝে ফেলতে এআই নির্ভর প্রযুক্তিই কাজে আসবে বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। তাই নতুন আবিষ্কারটি সব ক্ষেত্রে সফল ভাবে কাজ করলে, অনেক রোগীর প্রাণ বাঁচানো সম্ভব হবে বলেই আশা করা হচ্ছে। বিশেষ করে যাঁদের পরিবারে উচ্চ কোলেস্টেরল, হৃদ্‌রোগ অথবা ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার ইতিহাস রয়েছে, তাঁরা পরীক্ষাটি আগে থেকে করিয়ে রাখলে বিপদ এড়ানো যাবে বলেই মনে করছেন গবেষকেরা।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement