প্রাতরাশে কী কী খাবেন না? ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।
সকালে ঘুম থেকে উঠে অনেকের দিন শুরু হয় এক কাপ গরম চা দিয়ে। কেউ আবার খালি পেটে কফি খান, কেউ বা স্বাস্থ্যকর ভেবে এক গ্লাস ফলের রস। কিন্তু সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর পাকস্থলী দীর্ঘ সময় খালি থাকে। সেই সময়ে কিছু খাবার বা পানীয় খেলে হজমের গোলমাল, অম্বল, গ্যাস কিংবা রক্তে শর্করার ওঠানামার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
চিকিৎসকদের মতে, কী খাচ্ছেন কেবল তা-ই নয়, কখন খাচ্ছেন সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। সম্প্রতি ইনস্টাগ্রামে অহমদাবাদের পুষ্টিবিদ কিরণ কুকরেজা এম ৫ রকমের খাবারের কথা বললেন, যা কখনও খালি পেটে খাওয়া উচিত নয়। রইল সেই তালিকা—
চা বা কফি
বহু জনের কাছে সকালের চা বা কফি এক ধরনের আবেগ। কিন্তু খালি পেটে ক্যাফিনে ভর্তি পানীয় খেলে কিছু ক্ষেত্রে সমস্যা হতে পারে। কফি ও চা পাকস্থলীতে অম্লের ক্ষরণ বাড়াতে পারে। এর ফলে অম্বল, বুকজ্বালা, বমিভাব বা পেটে অস্বস্তি দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে যাঁদের আগে থেকেই অ্যাসিড হওয়ার সমস্যা রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি বেশি। সকালে সামান্য কিছু খাওয়ার পরে চা খাওয়া তা-ও ভাল। কফি শরীরকে চাঙ্গা করলেও খালি পেটে তা সব সময় উপকারী নয়। কারও কারও ক্ষেত্রে কফি খাওয়ার পরে উদ্বেগ বা অস্থিরতার সমস্যাও বাড়তে পারে। সকালের প্রথম খাবার হিসেবে কফির বদলে জল বা হালকা খাবার বেছে নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকেরা। তবে যাঁদের অ্যাসিডিটির সমস্যা একেবারে নেই, যাঁরা চা-কফি খেয়েও ভাল থাকেন, তাঁরা এই অভ্যাস পুরোপুরি ত্যাগ না-ও করতে পারেন। কিন্তু অবশ্যই কোনও একটি খাবারের সঙ্গে খেলে ভাল হয়।
গ্রিন টি
গ্রিন টি-তে রয়েছে ক্যাফিন এবং ট্যানিন। খালি পেটে এই চা খেলে গা বমি, অ্যাসিডিটি অথবা পেটের সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে এই নিয়মও সকলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য না হতে পারে। যাঁদের অ্যাসিড রিফ্লাক্স, গ্যাস্ট্রিক আলসার, পেপ্টিক আলসার, ইরিটেব্ল বাওয়েল সিনড্রোম, কিংবা ডায়াবিটিস রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে এই নিয়মটি বেশি কার্যকর। তাঁরা সকালে কী খাচ্ছেন, সেটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ বাকিদের থেকে।
সাইট্রাস জাতীয় ফল
কারও কারও ক্ষেত্রে খালি পেটে অত্যধিক টক ফল বা সাইট্রাস জাতীয় ফল অ্যাসিডিটির সমস্যা বাড়িয়ে দিতে পারে। কারণ, এগুলিতে অম্ল উপাদান অনেক বেশি থাকে। যেমন, আনারস বা কমলালেবুর মতো ফল অন্ত্রে প্রদাহ বাড়াতে পারে। তাই খালি পেটে এই ধরনের খাবার না খেলেই ভাল। তবে একই ভাবে যাঁদের উপরোক্ত রোগগুলি রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে এই নিয়ম খুবই উপকারী। বাকিরা কী করবেন, তা জানতে নিজেদের চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের সঙ্গে কথা বলা উচিত।
তেল-ঝাল-মশলা দেওয়া খাবার
সকালে ঘুম থেকে উঠেই যদি ঝাল ঝাল ইনস্ট্যান্ট নুড্লস খেতে ইচ্ছে করে, আর তার পর সারা দিন শরীরে অস্বস্তি হয়, তা হলে অবশ্যই এই অভ্যাস ত্যাগ করতে হবে। ঝাল, মশলা পাকস্থলীর আস্তরণে জ্বালা সৃষ্টি করতে পারে এবং অম্বলের সমস্যা বাড়াতে পারে। অতিরিক্ত মিষ্টি খাবার সকালে খালি পেটে খেলে রক্তে শর্করা দ্রুত ওঠানামা ঘটাতে পারে। কার্বোনেটেড পানীয় পেটফাঁপা, গ্যাস এবং অস্বস্তির কারণ হতে পারে। অ্যাসিডিটির সমস্যা থাকলে অবশ্যই বেশি সতর্ক হতে হবে।
ফলের রস
ফলের রস মানেই ফল কেটে ব্লেন্ড করে আঁশগুলি ছাড়িয়ে বাকিটুকু পানীয় হিসেবে পান করে নেওয়া। অর্থাৎ তাতে থাকে না ফাইবার। এ বার সকাল সকাল মিষ্টি ফলের রস খেলে ফাইবার নেই বলে রক্তে দ্রুত শর্করার মাত্রা বেড়ে যেতে পারে। কিছু ক্ষণ পরে দ্রুত নেমেও যেতে পারে। এর ফলে দুর্বলতা, খিদে বা শক্তি কমে যাওয়ার সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই গোটা ফল খাওয়া অনেক ক্ষেত্রেই বেশি উপকারী।