(বাঁ দিকে) নয়াদিল্লিতে মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিয়ো বৈঠক করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (ডান দিকে)। ছবি: সংগৃহীত।
ভারত এবং আমেরিকার মধ্যে বাণিজ্যচুক্তি এখনও চূড়ান্ত নয়। তবে উভয় দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার করতে তৎপর দুই পক্ষই। সেই আবহে ভারত সফরে এসে মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিয়ো জানান, আমেরিকান পণ্য কিনতে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ভারত। ৫০ হাজার কোটি মার্কিন ডলারের (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৪৮ লক্ষ কোটি টাকা) মার্কিন পণ্য কিনবে তারা।
ভারত-আমেরিকার মধ্যে বাণিজ্যিক পথ সুগম করার ক্ষেত্রে নয়াদিল্লিতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোরের প্রশংসা করেন রুবিয়ো। একই সঙ্গে জানান, সার্জিও ছাড়াও মার্কিন কূটনীতিকদের ভূমিকাও প্রশংসনীয়। রবিবার এক্স পোস্টে রুবিয়ো লেখেন, ‘‘তাঁদের (সার্জি এবং মার্কিন কূটনীতিক) অসাধারণ কাজের জন্য আগামী পাঁচ বছরে জ্বালানি, প্রযুক্তি এবং কৃষিখাতে ৫০ হাজার কোটি মার্কিন ডলার মূল্যের মার্কিন পণ্য কেনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ভারত।’’
চার দিনের সফরে ভারতে এসেছেন রুবিয়ো। শনিবার প্রথমে তিনি কলকাতায় আসেন। কয়েক ঘণ্টার কলকাতা সফর সেরে উড়ে যান দিল্লিতে। সেখানে সেবাতীর্থে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে এক ঘণ্টার বেশি বৈঠক করেন মার্কিন বিদেশসচিব। সেই বৈঠকে যেমন ভারত-আমেরিকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা হয়েছে, তেমনই উঠেছে জ্বালানি সহযোগিতা প্রসঙ্গও।
বৈঠক প্রসঙ্গে মোদী জানান, রুবিয়োর সঙ্গে ভারত ও আমেরিকার কৌশলগত অংশীদারিত্ব নিয়ে আলোচনা হয়েছে। শুধু তা-ই নয়, আলোচনায় উঠে এসেছে বৈশ্বিক এবং আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়গুলিও। রুবিয়ো তাঁর পোস্টে লেখেন, ‘‘আমরা পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি এবং জ্বালানি খাতে দু’দেশের অংশীদারিত্ব নিয়ে আলোচনা করেছি। জ্বালানির সরবরাহ শৃঙ্খল সুরক্ষিত করার বিষয় নিয়েও কথা হয়েছে।’’ একই সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হয়ে হোয়াইট হাউসে যাওয়ার জন্য মোদীকে আমন্ত্রণ জানান রুবিয়ো।
পশ্চিম এশিয়ায় সঙ্কটের আবহে রুবিয়োর ভারত সফরের কূটনৈতিক গুরুত্বও রয়েছে। ভারত বরাবর আলোচনার মাধ্যমে পশ্চিম এশিয়ায় সমস্যার সমাধান এবং শান্তি স্থাপনের পক্ষে কথা বলেছে। হরমুজ় প্রণালীতে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা জরুরি বলেও বার বার দাবি জানিয়েছে নয়াদিল্লি।