(বাঁদিকে) সনিয়া গান্ধী এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (ডানদিকে)। ছবি: সংগৃহীত।
বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র বৈঠকে সোমবার দুপুরে তাঁদের সৌজন্যসাক্ষাৎ হয়েছিল। মঙ্গলবার বিকেলে দিল্লিতে প্রাক্তন কংগ্রেস সভানেত্রী সনিয়া গান্ধীর ১০ জনপথের বাংলোয় গিয়ে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
কালীঘাটের ৩০বি হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটে মমতার বাড়ি লাগোয়ো তৃণমূলের দফতরে মঙ্গলবার বিকেলে সই জাল-কাণ্ডের তদন্তে হাজির হন সিআইডি আধিকারিকরা। ঘটনাচক্রে, তাঁরা কালীঘাটে পৌঁছোনোর কিছুক্ষণ পরই ১০ জনপথে হাজির হন মমতা। পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা ভোটে ত়ৃণমূলের বিপর্যয়ের পর এই প্রথম সনিয়ার সঙ্গে একান্তে বৈঠক করলেন মমতা। সংবাদ সংস্থা পিটিআই জানাচ্ছে, ভোট পরবর্তী হিংসা, সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের উপর হামলা এবং তৃণমূলের পরিষদীয় ওই সংসদীয় দলে ভাঙনের মতো বিষয়গুলি এসেছে দুই নেত্রীর বৈঠকে।
কংগ্রেসে থাকাকালীন রাজীব গান্ধীর অত্যন্ত প্রিয়পাত্রী ছিলেন মমতা। সেই সূত্র ধরেই সনিয়ার সঙ্গে মমতার রসায়ন বরাবরই ভাল। ১৯৯৮ সালে কংগ্রেস ভেঙে তৃণমূল গড়লেও গান্ধী পরিবারের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ভেঙে যায়নি। জাতীয় রাজনীতির বিভিন্ন ইস্যুতে রাহুলের সঙ্গে মমতার মতপার্থক্য সামনে এসেছে একাধিক বার। কিন্তু সনিয়া-মমতা সম্পর্কে প্রকাশ্যে তার কোনও প্রভাব পড়েনি। রাহুলকে একাধিক বার নিশানা করলেও প্রকাশ্যে সনিয়ার সমালোচনা করতে দেখা যায়নি তৃণমূলনেত্রীকে। পশ্চিমবঙ্গের ভোটে ভরাডুবির পরে প্রকাশ্যে কংগ্রেসের সঙ্গে সহযোগিতার বার্তাও দিয়েছেন মমতা।
প্রসঙ্গত, সোমবার দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র বৈঠক চলাকালীনই লোকসভার ২৮ জন তৃণমূল সাংসদের মধ্যে ২০ জন মমতাকে ছেড়ে আনুষ্ঠানিক ভাবে যোগ দেন বিদ্রোহী শিবিরে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতিতে দিল্লিতে বিজেপি নেতা ভূপেন্দ্র যাদবের বাড়িতে বৈঠকও করেন তাঁরা। বিদ্রোহীদের নেতৃত্বে রয়েছেন বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার এবং বীরভূমের সাংসদ শতাব্দী রায়। বিদ্রোহীরা এনডিএ-র সহযোগী হিসেবে লোকসভায় পৃথক ‘ব্লক’-এর স্বীকৃতি চেয়ে সোমবার চিঠিও পাঠিয়েছেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে। কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) কেসি বেণুগোপাল মঙ্গলবার সনিয়া-মমতা বৈঠকের আগে এ নিয়ে বিজেপিকে নিশানা করে বলেন, ‘‘মহারাষ্ট্রের মতোই পশ্চিমবঙ্গেও দল ভাঙানোর খেলায় নেমেছে বিজেপি।’’