Delhi Blast Red Fort

এআই সহায়তায় বিস্ফোরক রকেট তৈরি করেছিল অভিযুক্তেরা! লালকেল্লার সামনে বিস্ফোরণের ঘটনায় মিলল নয়া সূত্র

তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, অভিযুক্তেরা ইম্প্রোভাইজ়ড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি) রকেট তৈরি করে জম্মু-কাশ্মীরের অনন্তনাগ জেলার কাজিগুন্ড জঙ্গলে পরীক্ষা চালিয়েছিল। অভিযোগপত্রে নাম থাকা অভিযুক্তদের মধ্যে এক জনের বিষয়ে বিশেষ করে উল্লেখ করেছে এনআইএ।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৪ মে ২০২৬ ১৭:১১
Share:

দিল্লির লালকেল্লার সামনে বিস্ফোরণ-পরবর্তী পরিস্থিতি। —ফাইল চিত্র।

দিল্লির লালকেল্লার সামনে গাড়ি বিস্ফোরণের ঘটনায় জাতীয় তদন্তকারী সংস্থার (এনআইএ) তদন্তে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। সরকারি সূত্র উদ্ধৃত করে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম দাবি করেছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করেছিল সন্ত্রাসীরা। এই হামলার নেপথ্যে সন্ত্রাসী সংগঠন আল-কায়েদার এক ছায়া গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত জঙ্গিরা।

Advertisement

ওই সরকারি সূত্রে এনআইএ-র দেওয়া চার্জশিটের কথা উল্লেখ করেছে। সেখানে দাবি করা হয়েছে, কী ভাবে বিস্ফোরক রকেট তৈরি করতে হয়, মিশ্রণের অনুপাত কী হওয়া উচিত— এমন নানা প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে অভিযুক্তেরা চ্যাটজিপিটি এবং ইউটিউব ব্যবহার করেছিল। তদন্তকারী সংস্থা এই ঘটনাকে ‘এআই প্ল্যাটফর্মের’ অপব্যবহার বলে উল্লেখ করেছে।

তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, অভিযুক্তেরা ইম্প্রোভাইজ়ড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি) রকেট তৈরি করে জম্মু-কাশ্মীরের অনন্তনাগ জেলার কাজ়িগুন্ড জঙ্গলে পরীক্ষা চালিয়েছিল। অভিযোগপত্রে নাম থাকা অভিযুক্তদের মধ্যে এক জনের বিষয়ে বিশেষ করে উল্লেখ করেছে এনআইএ। তাদের দাবি, ওই অভিযুক্ত ভারতে আল-কায়েদার ছায়া সংগঠন ‘আনসার গাজ়ওয়াত-উল-হিন্দ’-এর সন্ত্রাসী মডিউলে ‘ইঞ্জিনিয়ার’ হিসাবে কাজ করত। নাম জসির বিলাল ওয়ানি। লালকেল্লার কাছে বিস্ফোরণের ষড়যন্ত্রে ‘প্রযুক্তি সহায়তা’ প্রদানের জন্য ২০২৪-২৫ সালে দু’-তিন বার হরিয়ানার ফরীদাবাদের আল-ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়েও গিয়েছিল সে।

Advertisement

তদন্তে বার বার আল-ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগের প্রসঙ্গ উঠে এসেছে। ওই বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত তিন চিকিৎসক লালকেল্লার কাছে বিস্ফোরণের ঘটনায় যুক্ত বলে অভিযোগ ওঠে। তদন্তে সেই প্রমাণ মিলেছে বলে দাবি করেছিল এনআইএ। চার্জশিটে তারা জানিয়েছে, ২০২৩ সালের ডিসেম্বর থকে ২০২৪ সালের জানুয়ারির মধ্যে জসির ‘ফ্লিপকার্ট’-এ বেশ কিছু বৈদ্যুতিন ডিভাইস অর্ডার করে। সেই জিনিসগুলি কেনার টাকা দিয়েছিল এই বিস্ফোরণের ঘটনার মূল অভিযুক্ত উমর নবি।

আইইডি রকেট তৈরি করে কাজ়িগুন্ড জঙ্গলে যে পরীক্ষা করা হয়েছিল, তার প্রমাণ মিলেছে বলেও চার্জশিটে দাবি করেছে এনআইএ। ওই জঙ্গলে তল্লাশি চালিয়ে আইইডি রকেটের ধ্বংসাবশেষ পেয়েছেন তদন্তকারীরা।

২০২৫ সালের ১০ নভেম্বর লালকেল্লার সামনে একটি গাড়িতে বিস্ফোরণ হয়। তাতে মৃত্যু হয় মোট ১১ জনের। আরও সাত জন গুরুতর জখম হয়েছিলেন। ঘটনাটিকে সন্ত্রাসবাদী হামলা বলে ব্যাখ্যা করেছিল কেন্দ্র। মূল অভিযুক্ত উমর বিস্ফোরণের সময় ঘাতক গাড়িটির চালকের আসনেই ছিল। ঘটনাস্থলে তাঁরও মৃত্যু হয়। একে আত্মঘাতী হামলা বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement