বিয়ে ভাঙছে বরিস জনসনের

সস্ত্রীক বরিস জনসন। ফাইল চিত্র।

দীর্ঘ ২৫ বছরের দাম্পত্যে ইতি টানছেন ব্রিটেনের প্রাক্তন বিদেশমন্ত্রী বরিস জনসন। পর পর বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ায় তাঁর ভারতীয় বংশোদ্ভূত স্ত্রী মারিনা হুইলার তাঁকে ছেড়ে গিয়েছেন।

মারিনার বাবা চার্লস ছিলেন ব্রিটিশ চ্যানেলের সাংবাদিক। ভারতে এসে ওই চ্যানেলের হয়ে কাজ করার সময়ে মারিনার মা দীপ সিংহের সঙ্গে আলাপ। মারিনা-বরিসের চার সন্তান। বেশ কিছু দিন আলাদা থাকার পরে এই দম্পতি যৌথ ভাবে জানান, কয়েক মাস আগে বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাঁরা। তার কয়েক দিন আগেই ব্রিটিশ একটি পত্রিকায় বরিসের বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্ক নিয়ে চর্চা হয়েছিল।

মারিনা মানবাধিকার সংক্রান্ত আইনজীবী। বরিস নিজে ব্রেক্সিটপন্থী হিসেবে গণভোটের সময়ে মেরিনার মতকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়েছিলেন। অতীতে লন্ডনে ভারতীয়দের অনুষ্ঠানে গেলেই বরিস উল্লেখ করতে ভুলতেন না যে, তাঁর পঞ্জাবি কুটুম্ব রয়েছে। ভারতে গেলে তাঁর জামাই আদর হয়, বলতেন তা-ও। মুম্বই গিয়ে মারিনার এক আত্মীয়ের বিয়েতে রঙিন পাগড়ি পরে ভাংড়া নেচেছিলেন। মেরিনাও ভারতীয় ঐতিহ্য মনে রেখে রাজকুমার উইলিয়াম-কেটের বিয়েতে পরেন সালোয়ার-কামিজ। পঞ্জাবি যোগসূত্র নিয়ে বরাবরই তিনি গর্বিত।

ব্রেক্সিট নিয়ে প্রধানমন্ত্রী টেরেসা মে-র সঙ্গে মতানৈক্যের জেরে জুলাইয়ে বিদেশমন্ত্রীর পদ ছাড়েন বরিস। তার পর সরকারের সমালোচনায় নানা পত্রপত্রিকায় লিখে চলেছেন তিনি। যা দেখে বিশেষজ্ঞদের ধারণা, নিজেকে ব্রিটেনের বিকল্প প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তুলে ধরতে চান তিনি। বরিসের ব্যক্তিগত জীবন বহু বার চর্চার বিষয় হয়েছে। ২০০৪ সালে লেখিকা পেট্রোনেলা ওয়্যাটের সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে বলে নিজেই স্বীকার করেন বরিস। ওয়্যাট অন্তঃসত্ত্বা হন ও গর্ভপাত করাতে হয়। সম্পর্ক চার বছরের। ২০০৯-এ আবার হেলেন ম্যাকিনটায়ার নামে এক শিল্প-পরামর্শদাতার সঙ্গে নাম জড়ায়। তাঁর সন্তানের বাবাও হন। এ সবের পরে টানাপড়েন চললেও শেষমেশ বরিসকে মেনে নেন মারিনা। এ বার সব শেষ। ব্রিটিশ ওই পত্রিকার দাবি, বরিস ফের সম্পর্কে জড়িয়েছেন। তাঁর মেয়ে লারাকে উদ্ধৃত করে লেখা হয়েছে, ‘‘মা আর বাবার সঙ্গে থাকবেন না।’’ বিচ্ছেদে বরিসের জনপ্রিয়তা না কমলেও তাঁর প্রধানমন্ত্রী হওয়ার স্বপ্ন ধাক্কা খেতে পারে, মত বিশেষজ্ঞদের।