Anandabazar Patrika Read Latest Bengali News, Breaking News in Bangla from West Bengal's Leading Newspaper

ট্রাম্পের সভায় মুখ বেঁকিয়ে কোপে কিশোর


চার দিকে ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেন’ লেখা লাল টুপির ভিড়। ডোনাল্ড ট্রাম্প-মাইক পেন্সের ছবিওয়ালা নীল প্ল্যাকার্ড। মন্টানার বিলিংসে রিমরক অটো এরিনায় বক্তৃতা দিচ্ছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর পিছনে যাঁরা দাঁড়িয়ে, ক্যামেরায় ধরা পড়ছে সেই মুখগুলোও। তাই ভেবেচিন্তে ‘সমর্থকদের’ শুধু প্রেসিডেন্টের আশপাশে রাখা হয়। তা সত্ত্বেও গোলমাল ঘটে গেল বৃহস্পতিবারের সেই সভায়।

ট্রাম্পের ডান কাঁধের ঠিক পিছনেই দাঁড়িয়ে ছিল বছর সতেরোর ছেলেটা। ট্রাম্প যখন কথা বলছেন, সব সময়েই ওই চেক শার্ট পরা বিলিংস ওয়েস্ট হাইস্কুলের ছাত্রকে দেখা গিয়েছে। এবং সে শুধু মুখ দেখিয়েই ক্ষান্ত ছিল না। টাইলার লিনফেস্টি নামে সেই ছেলে নানাবিধ মুখভঙ্গি করে ট্রাম্পের বক্তব্যের সময়ে দৃষ্টি টেনেছে অনেকেরই। দর্শক যখন ট্রাম্পের হ্যাঁ-তে হ্যাঁ বলে সুর মেলাচ্ছে, তখন টাইলার মুখ বেঁকিয়ে গন্ডগোল পাকিয়েছে। সবটাই অন ক্যামেরা!

ট্রাম্প বলে যাচ্ছেন, ‘‘ইতিহাসে আমাদের অর্থনীতিই সেরা।’’ যদিও সমালোচকদের বক্তব্য, ট্রাম্পের এই দাবির কোনও সারবত্তা নেই। টাইলারও এ মন্তব্য শুনে জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকিয়েছেন ট্রাম্পের দিকে। তার পরেই প্রেসিডেন্টের সংযোজন, ‘‘স্টক মার্কেট রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। বেকারত্ব তলানিতে ঠেকেছে।’’ এ কথা শুনেই ভুরু উঁচিয়ে তাকিয়ে উত্তেজনায় ঠোঁট কামড়েছে টাইলার! এর পরে ট্রাম্প উবাচ, ‘‘এখন অনেক বেশি সংখ্যক মার্কিন কাজ করছেন। আগে যা কখনও হয়নি।’’ টাইলারকে এই সময়ে ঠোঁট নেড়ে কিছু বলতে দেখা যায়। যা অনেকেই পড়ে জানিয়েছেন, ওই কিশোর বলতে চেয়েছে ‘‘এ সব কথা সত্যি নাকি!’’

টিভিতে টাইলারের মুখভঙ্গি খেয়াল করেছে তার বন্ধুবান্ধবরাও। সভা চলাকালীনই বন্ধুকে মেসেজ করে তারা জানায়, ‘তোমায় পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে’! সেটা পেয়েই টাইলার এক কদম এগিয়ে নিজের পকেট থেকে ডেমোক্র্যাটিক দলের স্টিকার বার করে নিজের শার্টে লাগিয়ে নেয়।

তবে বন্ধুরাই শুধু টাইলারের কীর্তি দেখতে পেয়েছে, এমন নয়। ট্রাম্পের উপরে খাপ্পা বহু লোকজন টাইলারের মুখভঙ্গির ওই অংশটুকু তুলে নিয়ে #চেকশার্টেরছেলেটা এই হ্যাশট্যাগে ছড়িয়ে দিয়েছেন সোশ্যাল মিডিয়ায়। সেই মিম সঙ্গে সঙ্গে ভাইরাল। ট্রাম্পের প্রচার দল অবশ্য আর দেরি করেনি। টাইলারের জায়গায় দাঁড়ানোর জন্য দ্রুত পাঠিয়ে দেওয়া হয় কালো পোশাক পরা আর এক মহিলাকে। টাইলারকে সরানোর কিছু ক্ষণের মধ্যে তার দুই বন্ধুকেও সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।

টাইলার অবশ্য বলছে, ট্রাম্পকে বিদ্রুপ করার উদ্দেশ্যে সে ওখানে দাঁড়ায়নি। তবে সে ট্রাম্পের সমর্থকও নন। মন্টানায় ট্রাম্প আসছেন শুনে তার ইচ্ছে হয়েছিল, প্রেসিডেন্টকে কাছ থেকে দেখার। সংবাদমাধ্যমে টাইলার জানিয়েছে, সভার আগে তাকে জানানো হয়, ‘ভিআইপি অতিথি’ নির্বাচিত হয়েছে সে। প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ছবি তোলা আর হাত মেলানোর সুযোগও পাবে। তবে ট্রাম্পের এত কাছে দাঁড়ানোর সুযোগ হবে, ভাবেনি সে। প্রেসিডেন্টের ঠিক পিছনে যারা থাকে, তাদের আগেই বলে দেওয়া হয় হাসিখুশি মুখে থাকতে আর হাততালি দিতে। টাইলারের দাবি, সে স্রোতে গা ভাসায়নি। তার প্রতিক্রিয়া স্বাভাবিক ছিল। তবে প্রেসিডেন্টের মুখনিঃসৃত কিছু কিছু ‘অবিশ্বাস্য’ মন্তব্যে স্তম্ভিত হয়ে যায় টাইলার আর তার বন্ধুরা। তাই সেই প্রতিক্রিয়াই ক্যামেরায় ধরা পড়েছে। তার কথায়, ‘‘আমি নিজে যা, তা-ই ছিলাম। ওখানে প্রতিবাদ করার পরিকল্পনা ছিল না। যা মানতে পারিনি, তা চোখেমুখে বোঝা গিয়েছে।’’

গোটা ঘটনায় ট্রাম্পের প্রচার দল অবশ্য চুপ।


Anandabazar Patrika Read Latest Bengali News, Breaking News in Bangla from West Bengal's Leading Newspaper