টাকা দিলেই এ সব দেশে মিলে যায় পাসপোর্ট, সুযোগ নেন চোক্সীরা

বিনিয়োগের মাধ্যমে নাগরিকত্বের আবেদন করার জন্য অ্যান্টিগার সরকারি ওয়েবসাইটের হোম পেজ। 

টাকায় কী না হয়? কিন্তু তা বলে নাগরিকত্বও। হ্যাঁ। শুনতে আশ্চর্য মনে হতেই পারে। কিন্তু এটাই সত্যি যে, শুধুমাত্র টাকার বিনিময়েই অনেক দেশে রাতারাতি নাগরিকত্ব ও পাসপোর্ট পাওয়া যায়। কোথাও সরাসরি টাকার বিনিময়ে, কোথাও আবার ঘুরপথে বিনিয়োগের নামে টাকা দিয়ে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এই সব দেশে থাকা এমনকী, যাওয়াও বাধ্যতামূলক নয়। আবেদনকারীর অপারধমূলক কাজকর্মকেও অনেক ক্ষেত্রেই খুব বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয় না। যা আসলে নাগরিকত্ব কিনে নেওয়ারই নামান্তর। আরও আশ্চর্যের, সেই পাসপোর্ট নিয়ে ভিসা ছাড়াই যাওয়া যায় বিশ্বের বহু দেশে।

নীরব মোদী, মেহুল চোক্সী, বিজয় মাল্য থেকে ললিত মোদী। ভারতে কোটি কোটি টাকার আর্থিক দুর্নীতি করে  বহাল তবিয়তেই রয়েছেন বিদেশে। দেশের সম্পদ লুঠেরাদের ফেরাতে তৎপর নয়াদিল্লি। কিন্তু মাত্র কয়েক কোটি টাকাই যে দিল্লির সে আশায় জল ঢেলে দিতে পারে, তা এই তথ্যেই পরিষ্কার। বিশেষত নাগরিকত্বের জন্য প্রয়োজনীয় টাকার অঙ্কটাও মোদী-মাল্যদের কাছে নামমাত্র।

অ্যান্টিগা ও বারবুডা : ভূমধ্যসাগর ও প্রশান্ত মহাসাগরের মাঝে অবস্থিত ওয়েস্ট ইন্ডিজের একটি স্বাধীন দেশ। সেখানকার ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ফান্ডে ভারতীয় মুদ্রায় মাত্র এক কোটি ৩০ লক্ষ টাকা দিলেই আপনার হাতে পাসপোর্ট চলে আসবে। রিয়েল এস্টেটের ক্ষেত্রে দু’কোটি ৭০ লক্ষ অথবা শিল্পক্ষেত্রে ১০ কোটি ৩০ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করলেও পাসপোর্ট মেলে। আর সেই পাসপোর্টে ভিসা ছাড়াই অন্তত ১৩০টি দেশে যাওয়া যায়। তার মধ্যে ইংল্যান্ডের মতো দেশও রয়েছে। পাঁচ বছরে মাত্র পাঁচ দিন অ্যান্টিগায় থাকলেই সেই পাসপোর্ট বৈধ থাকে।

আরও পড়ুন: আফ্রিকা সফরে প্রধানমন্ত্রীর কাঁটা চিনই

সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস:  ওয়েস্ট ইন্ডিজ দ্বীপপুঞ্জের এই স্বাধীন রাষ্ট্রের পাসপোর্ট পাওয়া যায় মাত্র চার মাসে। শর্ত, সে দেশের উন্নয়নে এক কোটি তিন লক্ষ টাকা দান করতে হবে। অথবা সরকারের রিয়েল এস্টেট প্রকল্পে বিনিয়োগ করতে হবে এক কোটি ৩০ লক্ষ। তারপরই মিলবে ইংল্যান্ড-সহ অন্তত ১৪০টি দেশে বিনা ভিসায় অবাধ যাতায়াতের ছাড়পত্র।   

আরও পড়ুন: ২৬ বছর পরে মার্চের সেই দিন কি ফেরাতে পারবেন ইমরান?

ডোমিনিকা: আরও সস্তায় চাইলে যেতে পারেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের এই দেশে। মাত্র এক লাখ ডলার যা ভারতীয় মূদ্রায় প্রায় ৬৯ লক্ষ টাকাতেই পেয়ে যাবেন ডোমিনিকান পাসপোর্ট অর্থাৎ নাগরিকত্ব। এক্ষেত্রে আবার সে দেশে যাওয়া বা থাকারও কোনও প্রয়োজন নেই। নামমাত্র এই টাকার বিনিময়েই হাতে পাবেন পাসপোর্ট, যার মাধ্যমে বিনা ভিসায় বা ভিসা অন অ্যারাইভ্যালের মাধ্যমে খুলে যাবে অন্তত ১১৫টি দেশের দরজা। তার মধ্যে আবার ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন, সুইৎজারল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, হংকংয়ের মতো দেশও রয়েছে।

সেন্ট লুসিয়া। ওয়েস্ট ইন্ডিজ দ্বীপপুঞ্জের এই দেশেও পাসপোর্টের খরচ মাত্র এক লাখ ডলার। আবার সেন্ট লুসিয়ার সরকারি বন্ডে তিন কোটি ৪০ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ বা দু’কোটি ৬ লাখ টাকা দামের বাড়ি কিনলেও নাগরিকত্ব ও পাসপোর্ট পেতে কোনও ঝক্কি নেই।

মাল্টা: এখানে পাসপোর্ট তথা নাগরিকত্বের খরচ একটু বেশি হলেও ভিসার সুবিধা অনেক বেশি। ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় সাড়ে চার কোটি টাকা সেখানকার ন্যাশনাল অ্যান্ড সোশ্যাল ফান্ডে দান এবং দু’কোটি টাকার বাড়ি কিনলেই পাসপোর্ট হাতে চলে আসবে। সেই পাসপোর্টে আমেরিকা, ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন-সহ ১৬০টি দেশের জন্য ভিসা ছাড়াই যাতায়াতের ছাড়পত্র মেলে।

নীরব মোদী, মেহুল চোক্সী বা বিজয় মাল্যরা ভারত থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা প্রতারণা করে বিদেশে পালিয়ে গিয়েছেন। তাঁদের কাছে এই পরিমাণ টাকা দিয়ে পাসপোর্ট পেয়ে যাওয়া যে কোনও ব্যাপারই নয়। ইতিমধ্যেই সেরকম তথ্যও উঠে এসেছে যে, নীরব মোদী, মেহুল চোকসিদের একাধিক দেশের পাসপোর্ট রয়েছে। সুতরাং যতই এঁদের ফেরানোর চেষ্টা হোক, সেই কাজটা যে আদপে অনেক কঠিন, মোদী সরকারের মন্ত্রী-আমলারাও সেটা বিলক্ষণ জানেন এবং বোঝেন।