Summer Hair Care

গরমে চুলের স্বাস্থ্য ভাল রাখবে এসেনশিয়াল অয়েল, কার জন্য কোনটি জরুরি, ধরন বুঝে বেছে নিন

উদ্ভিদের ফুল, পাতা, ছাল বা শিকড় থেকে নিষ্কাশিত অত্যন্ত ঘনীভূত নির্যাস এসেনশিয়াল অয়েল। চুলের থেকে ত্বকের পরিচর্যায় কাজে যা অপরিহার্য। তবে তা ব্যবহার করতে হবে চুলের ধরন বুঝে। কার জন্য কোনটি জরুরি, তা জেনে রাখা ভাল।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৪ মে ২০২৬ ১৩:১৯
Share:

কোন চুলে কেমন এসেনশিয়াল অয়েল প্রয়োজন? ছবি: ফ্রিপিক।

গরমের দিনে চুলের জেল্লা ধরে রাখা সহজ নয়। ঘাম ও ধুলোময়লা জমে চুলে তৈলাক্ত ভাব আসবেই। তার উপরে খুশকির সমস্যাও আছে। কেবল শ্যাম্পু বা তেলে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। এর জন্য জরুরি এসেনশিয়াল অয়েল। উদ্ভিদের ফুল, পাতা, ছাল বা শিকড় থেকে নিষ্কাশিত অত্যন্ত ঘনীভূত নির্যাস এসেনশিয়াল অয়েল। চুলের থেকে ত্বকের পরিচর্যায় কাজে যা অপরিহার্য। তবে তা ব্যবহারের নিয়ম আছে। ত্বক ও চুলের ধরন বুঝে বেছে নিতে হয়। চুল যদি খুব পাতলা হয়, তা হলে একধরনের এসেনশিয়াল অয়েল প্রয়োজন। আবার খুব রুক্ষ ও নিষ্প্রাণ চুলের জন্য অন্য রকম অসেনশিয়াল অয়েল জরুরি। তাই কার জন্য কোনটি উপযোগী ও কী ভাবে ব্যবহার করলে সুফল পাওয়া যাবে, তা জেনে রাখা প্রয়োজন।

Advertisement

চুলের ধরন বুঝে বাছুন এসেনশিয়াল অয়েল

গরমে ঘাম জমে মাথায় ব্যাক্টেরিয়া ও ছত্রাকের সংক্রমণ হয় যা খুশকি ও চুলকানির মূল কারণ। এসেনশিয়াল অয়েলে থাকা অ্যান্টি-মাইক্রোবিয়াল ও অ্যান্টি-ফাঙ্গাল উপাদান এ সমস্যার সমাধান করতে পারে। তা ছাড়া মাথার ত্বকে রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করে নতুন চুল গজাতেও সাহায্য করে এসেনশিয়াল অয়েল।

Advertisement

চুলের স্বাস্থ্য ভাল রাখবে এসেনশিয়াল অয়েল। ছবি: ফ্রিপিক।

ঘাম জমে চুল তৈলাক্ত হয়ে গেলে

গরমে অনেকেরই মাথা অতিরিক্ত ঘামে। ফলে চুল খুব সহজেই চিটচিটে হয়ে যায়, মাথায় দুর্গন্ধও হয়। এ ক্ষেত্রে টি-ট্রি অয়েল ও লেমনগ্রাস এসেনশিয়াল অয়েল উপযোগী হতে পারে। ২ চামচ নারকেল তেলের সঙ্গে ৩ ফোঁটা টি-ট্রি অয়েল এবং ২ ফোঁটা লেমনগ্রাস এসেনশিয়াল অয়েল খুব ভাল করে মিশিয়ে নিয়ে চুল ও মাথার ত্বকে মালিশ করতে হবে। ৪৫ মিনিটের মতো রেখে ঠান্ডা জলে চুল ধুয়ে নিতে হবে। সপ্তাহে ২ দিন ব্যবহার করলেই উপকার হবে।

রুক্ষ ও শুষ্ক চুলের জন্য

চড় রোদে চুল তার স্বাভাবিক আর্দ্রতা হারিয়ে ফেলে। সূর্যের অতিবেগনি রশ্মির কারণে চুল খুব রুক্ষ, শুষ্ক ও নিষ্প্রাণ হয়ে পড়ে। চুলে জট পড়ার সমস্যা বেশি হয়। এমন চুলের জন্য ল্যাভেন্ডার ও জেরেনিয়াম এসেনশিয়াল অয়েল কার্যকরী হতে পারে। ২ চামচ অলিভ তেল বা ক্যাস্টর অয়েলের সঙ্গে ৩ ফোঁটা ল্যাভেন্ডার অয়েল এবং ২ ফোঁটা জেরেনিয়াম অয়েল মিশিয়ে ভাল করে মাথায় মালিশ করতে হবে। এর পর গরম জলে ভিজিয়ে একটি তোয়ালে দিয়ে চুল ঢেকে রাখতে হবে প্রায় ১ ঘণ্টা। এর পর শ্যাম্পু করে নিতে হবে। সপ্তাহে ১-২ বার এটি করলে চুল নরম ও জেল্লাদার হয়ে উঠবে।

চুলের ডগা ফেটে যাওয়ার সমস্যা থাকলে

রোজ়মেরি ও পেপারমিন্ট এসেনশিয়াল অয়েল কার্যকরী হতে পারে। চুল পড়া ও ডগা ফেটে যাওয়ার সমস্যা বেশি হলে, ২ চামচ খাঁটি নারকেল তেল বা অলিভ অয়েলের সঙ্গে ৩ ফোঁটা রোজ়মেরি অয়েল এবং ২ ফোঁটা পেপারমিন্ট অয়েল ভাল করে মিশিয়ে পুরো মাথায় মালিশ করতে হবে। পেপারমিন্ট অয়েলের কারণে মাথায় ঠান্ডা অনুভূতি হবে যা গরমে আরাম দেবে। এই দুই তেলের মিশ্রণ চুল পড়ার সমস্যাও কমাবে।

খুশকির সমস্যায়

গরমে ঘাম এবং ধুলোবালি জমে খুশকি বেশি হয়। যাঁদের চুলে খুশকির সমস্যা বেশি ও মাথার ত্বকে চুলকানি বেশি হয়, তাঁদের জন্য ইউক্যালিপটাস ও টি ট্রি এসেনশিয়াল অয়েল কার্যকরী হতে পারে। ক্যাস্টর অয়েল বা নারকেল তেলের সঙ্গে ৩ ফোঁটা ইউক্যালিপটাস অয়েল এবং ২ ফোঁটা টি-ট্রি অয়েল মেশান। মিশ্রণটি তুলো দিয়ে অল্প অল্প করে মাথার তালুতে লাগান। আধ ঘণ্টা রেখে হালকা শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে তিন দিন ব্যবহারেই খুশকি কমবে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement