কোন ধরনের দুধ দিয়ে কী ভাবে হবে রূপচর্চা? ছবি:সংগৃহীত।
হাজার বছর আগে মিশরের সুন্দরী রানি ক্লিওপেট্রার রূপচর্চায় ছিল দুধ, শোনা যায় এমনটাই। দুধ, গোলাপের পাপড়ি-সহ নানা প্রাকৃতিক উপকরণেই রানি তাঁর ত্বক পেলব রাখতেন। শুধু মিশর নয়, ভারতেও ত্বকের যত্নে দুধের ব্যবহার বেশ পুরনো। রাজমহিষীরা দুধ মিশ্রিত জলে স্নান করতেন এমন কাহিনি বার বার শোনা যায়। দুধ ত্বকের জন্য ভাল বলেই আজকের দিনে নয়া মোড়কে প্রসাধনীতে মিশছে দুধ। কেনাকাটা হয় এখন অনলাইনে। সেখানে নামী-দামি ব্যান্ড খুঁজতে গেলে এমন অনেক প্রসাধনী পাওয়া যাবে, যেখানে সাবান থেকে লিপ বাম, মেকআপ, সবই তৈরি হচ্ছে দুধ দিয়ে।
দুধ শুধু ত্বকে আর্দ্রতার জোগান দেয় না, দুধের গুণে ত্বক হয় উজ্জ্বল। মৃত কোষ ঝরিয়ে ফেলতেও সাহায্য করে দুধ, ত্বকের ক্ষতি না করেই। নিয়ম করে দুধ মাখলে গায়ের রংও উজ্জ্বল হয়। ফ্যাটি অ্যাসিড থাকায়, দুধ বলিরেখা ঠেকাতেও সাহায্য করে।
মিশর থেকে শুরু করে বিভিন্ন সভ্যতায় বিভিন্ন ভাবে দুধের ব্যবহার হয়েছে। গ্রিক রমণীরা দুধের সঙ্গে অলিভ অয়েল মাখতেন। মুখে দই মাখারও চল ছিল। গরু, ছাগল-সহ বিভিন্ন প্রাণীর দুধ যেমন রূপচর্চায় ব্যবহার হয়, তেমনই মাখা যায় উদ্ভিজ্জ উৎস থেকে প্রাপ্ত দুধও। কোন ধরনের দুধ দিয়ে কী ভাবে বানাবেন ত্বকের উপযোগী মাস্ক?
আমন্ড দুধ: কাঠবাদামে শুধু প্রোটিন এবং খনিজ নয়, রয়েছে ফ্যাটি অ্যাসিডও। নিয়ম করে মাখলে বলিরেখা পড়ার ঝুঁকি কমে, ত্বকও পেলব হয়। একমুঠো কাঠবাদাম গরম জল দিয়ে মিক্সারে ঘুরিয়ে নিন। মিশ্রণটি ছেঁকে নিলেই সাদা যে তরলটি পাওয়া যাবে, তাকেই 'কাঠবাদামের দুধ' বলা হচ্ছে। এতে কাঠবাদামের সমস্ত গুণই থাকে। এক টেবিল চামচ ওট্স গুঁড়ো করে তার সঙ্গে ২ টেবিল চামচ কাঠবাদামের দুধ এবং ৩-৪ ফোঁটা মধু মিশিয়ে নিন। ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ ধুয়ে নিয়ে মিশ্রণটি মুখে মেখে আধ ঘণ্টা অপেক্ষা করুন।
নারকেলের দুধ: টাটকা নরম নারকেল মিক্সারে ঘুরিয়ে মিহি করে নিন। মিশ্রণটিতে অল্প একটু গরম জল দিয়ে আবার একটু ঘুরিয়ে মিশ্রণটি সুতির পরিষ্কার কাপড়ে ভরে চাপ দিন। নারকেলের দুধ বেরিয়ে আসবে। তার সঙ্গে মিশিয়ে নিন কয়েক ফোঁটা নারকেল তেল। মিশ্রণটি কাচের শিশিতে ভরে ফ্রিজে রাখলেই ঘন হয়ে যাবে। মুখ পরিষ্কার করার পরে ক্রিমের মতো সেটি মুখে মাখুন। মিনিট পাঁচেক মাসাজ করতে হবে। নিয়ম করে মাখলে বলিরেখা ঠেকানো সম্ভব। বিশেষত অফিসে এসি থাকার দরুণ যাঁদের ত্বক রুক্ষ হয়ে যায়, তাঁদের জন্যও এটি ভাল।
ওট্সের দুধ: অ্যান্টি-অক্সিড্যান্টে ভরা ওট্স ত্বকের জন্যও উপকারী। ওট্স ত্বককে আর্দ্র, কোমল রাখতে সাহায্য করে। স্ক্রাব হিসাবেও তা ব্যবহার করা যায়। আবার ওট্সের দুধ ত্বক মসৃণ রাখে। স্নানের সময় বালতিতে আধ কাপ ওট্সের দুধ মিশিয়ে নিন। বাথটাবেও তা মিশিয়ে শরীর ডুবিয়ে রাখতে পারেন। ওট্স গরম জল দিয়ে মিক্সারে ঘুরিয়ে মিশ্রণটি ছেঁকে নিলেই ওট্সের দুধ পাওয়া যায়।