ঘামের দাগ জমে রয়েছে জামায়? ছবি: সংগৃহীত।
গরমে হালকা রঙের জামা পরার প্রবণতা বাড়ে। তাতেই আরাম। কিন্তু এর উল্টো দিকটা নিয়েও তো ভাবতে হবে। গরমের চোটে ঘাম, একটানা ঘামের ফলে রাসায়নিক বিক্রিয়া, ব্যাক্টেরিয়ার বসবাস, সব মিলিয়ে হালকা রঙে দাগ পড়ে যেতে পারে। আর সাদামাঠা ডিটারজেন্ট বা সাবানে সে দাগ ওঠে না। ধীরে ধীরে হলদেটে রং দেখা দেয়। দেখতে খুব খারাপ লাগে বাহুমূলের অংশ। সে ক্ষেত্রে কী করা যেতে পারে? কী ভাবে রক্ষা করবেন পোশাক?
এখানেই কাজে আসতে পারে এনজ়াইমযুক্ত ডিটারজেন্ট। এই এনজ়াইমগুলিই ঘামের এবং দেহের তেলের কণা ভেঙে দিতে পারে। তা ছাড়া সুগন্ধির দাগও জমা হয় সেখানে। যার ফলেই ধীরে ধীরে বিক্রিয়া তৈরি হয়ে রং পাল্টাতে থাকে জামার। ঘামের যেমন নিজস্ব কোনও গন্ধ নেই, তেমনই কোনও রং নেই। কিন্তু প্রোটিন, তেল ও নুন ডিওডোর্যান্টের সঙ্গে বিক্রিয়া করে রং পাল্টে দেয়।
জামা ধোয়ার নয়া পদ্ধতি। ছবি: সংগৃহীত
এনজ়াইমযুক্ত ডিটারজেন্ট কী ভাবে সাহায্য করবে?
প্রাকৃতিক প্রোটিনকে অনুঘটক হিসাবে ব্যবহার করে চর্বি, রক্ত এবং শ্বেতসারের মতো জটিল ও জেদি জৈব দাগকে আণবিক স্তরে ভেঙে ফেলে। এগুলি কম তাপমাত্রার জলেও গভীর ভাবে পরিষ্কার করতে পারে এবং হাতে ও মেশিনে দু’ভাবেই ধোয়া যায়। তাই ঘামের দাগ দূর করা এর কাছে কোনও ব্যাপারই নয়।
কী ভাবে ধোবেন?
· জামার যেখানে দাগ জমেছে, সেখানে অল্প পরিমাণে তরল ডিটারজেন্ট বা এনজ়াইমযুক্ত ডিটারজেন্ট ঘষে নিন। আপনার হাত বা নরম ব্রাশ ব্যবহার করলেই হবে।
· তার পর মেশিনে বা গামলায় হালকা গরম জল এবং এক চামচ ডিটারজেন্ট নিয়ে আধ ঘণ্টা মতো ডুবিয়ে রাখুন। তাতে কণাগুলি ভাঙার সময় পাবে।
· তার পর মেশিন চালিয়ে দিন অথবা হাতে কেচে নিন।
· ড্রায়ারে শুকোনোর আগে আলোর নীচে রেখে পরখ করে দেখুন। দাগের কোনও অংশ দেখা যাচ্ছে না তো? যদি যায়, তা হলে আবার একই পদ্ধতিতে ধুয়ে নিন কাপড়। এক বার ড্রায়ারে দিয়ে দিলে সেটির উত্তাপে দাগ বসে যেতে পারে পাকাপাকি ভাবে।